ঈদ মোবারক! বছর ঘুরে পবিত্র ঈদ -উল-আযহা আবারো এসে হাজির হয়েছে আমাদের মাঝে। মুসলিম উম্মার সবচাইতে বরো দুটি উৎসবের মধ্যে একটি হলো ঈদুল উল আযহা যা কুরবানির ঈদ নামেও লোকালয়ে পরিচিত। আর এই আনন্দের দিনে বিডি-কমিউনিটির সকলকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।
সারাবছরের ব্যস্ততম জীবনের মাধ্যেই ঈদ আমাদের মাঝে হাজির হয় খুশির বার্তা নিয়ে। এ যেনো এক অন্যরকম অনুভূতি। দূর দুরান্ত থেকে শিকরের টানে পরিবারের কাছে ফিরার চেষ্টা করে প্রত্যেকটা মানুষ। পরিবার ছাড়া ঈদ! সে তো আর ঈদ নয়। সকলের মাঝে থেকে দিনটা পালনে করাই মাঝেই প্রকৃত আনন্দ।
রোযার ঈদের তুলনায় কুরবানির ঈদের আনন্দটা বহুগুনে বেশি। কেননা এই ঈদে কুরবানির জন্য পশু কিনে আনা থেকে শুরু করে তা কিছুদিনের জন্য লালান পালন এমনকি একদিনের জন্য কসাই বনে যাওয়া ঈদের আনন্দে নতুন মাত্রা যুক্ত করে৷
ঈদকে ঘিরে ছোটবেলায় স্মৃতিগুলোতে একটু ঘুরে আসা যাক।
ছোটবেলায় ঈদের আনন্দটা ছিলো সবচাইতে বেশি৷ সেই সময়টায় বাবার সাথে যেতাম কুরবানির পশু কিনে আনার জন্য। পাশের গ্রামের বিশালাকার গরুর হাট থেকেই সব সময় গরু ক্রয় করি আমরা। গরু কিনে সেই গরুকে ৩/৪ কিলোমিটার হাটিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসার আনন্দটাই ছিলো সবচাইতে বেশি। মাঝে মাঝে ষাড় গরুর দৌড়ানিও খেতে হতো৷ একবার তো আমাদের সবাইকে পানিতে নামিয়েছিলো।
কুরবানির পশুকে খাবার খাওয়াতে খুব ভালো লাগতো। সারাদিন ঘুরে গরুর জন্য খাবার সংগ্রহ করতাম। ঈদের আগের দিন ব্যস্ত হয়ে পড়তাম ছুড়ি ধারনোর জন্য৷ ছোটবেলা থেকেই আমরা নিজেরাই নিজেদের পশু কাটাকাটি করি৷
ঈদের আগের দিন রাতে আমাদের কাজ ছিলো সারা গ্রামে ঘুরে বেড়ানো। ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে টাকা নিতাম আতসবাজি আর ঝারবাতি কিনে আনার জন্য। আমারা সেগুলো নিয়ে পুরো গ্রামে ফাটিয়ে বেড়াতাম। রাত দশটার পর শুরু হতো হাতে মেহেদী দেওয়ার পালা। ঈদ আর হাতে মেহেদী দিবো না! সেটা কি করে হয়। মেহেদী দিয়ে সেই মেহেদী নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে ঈদের রাতে কোনভাবেই ঘুম আসতো না। ঘুমাতে ঘুমাতে সেই মাঝ রাত।
ফজরের আযান শুনতেই প্রতিযোগিতা করে গোসল করতে চলে যেতাম সব বন্ধুরা মিলে। গোসল শেষ হলে শুরু হতো ঈদের সালামী বুঝে নেওয়ার প্রতিযোগিতা। পরে গেলে যদি সালামী দেওয়া শেষ হয়ে যায়! বাবা-মা, কাক, চাচা সবার থেকে সামামি নিয়ে এবার পালা ঈদগাহ ময়দানে সামিল হওয়া।
নানায পড়ে এসে সবাই জড়ো হয় পশু জবাই করতে। সবাই মিলে পশু জবাই করে শুরু হয় গোশত কাটাকাটি। বিকেলের দিকে সবাই মিলে শুরু হয় গোশত খাওয়ার উৎসব। একে একে সবার ঘরে ঘরে গিয়ে একটু একটু করে গোশত টেস্ট করার মজাই আলাদা৷ তার মাঝে নৌকা করে ঘুরার পাশাপাশি গোশত-মুড়ি মাখিয়ে খাওয়ার আনন্দটাও কোন অংশে কম নয়।
সময়ের পরিবর্তনে এখন ঈদ আর আগের রূপে নেই। কাছের বন্ধুরা মধ্যে অনেকেই এখন ব্যস্ত জীবিকার সন্ধানে। সোনালি দিনগুলো আজ হাড়িয়ে গেছে।
দিনশেষে আরেকটি ঈদ আজ আমাদের মাঝে। ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পরুক প্রত্যেকটি পরিবারের মাঝে৷
ঈদ মোবারক ❤️