পড়ন্ত বিকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে আনন্দের প্রশ্নকে পাত্তা না দিয়ে বললাম, শোনো আনন্দ! শুভখন ঠিক করো। শাড়ি পরে ঘুরতে যাব।
বহুদিন পর বাড়িতে এসে আম্মার আলমারি ভর্তি শাড়ি দেখে শাড়ি পরতে সখ হয়েছে!
আনন্দ উত্তর দিল "আজইতো সেই শুভ দিন!"
আমি হুজুগে সে অবিসংবাদিত। আর এমন হুজুগেকে নগদে তাল দেয়ার মানুষজন থাকা আরও সর্বনেশে!
কিন্তু সমস্যা হলো, শাড়িতো যেমন তেমন পোশাক না। শাড়ির সাথে লাগে অনেক আয়োজন আর এস্থেটিকতা!
সেইসব কোনো সরঞ্জামতো আমার নাই!
আমার কোথাও যাওয়া মানে এক জোড়া শার্ট আর প্যান্ট আর বুট গলিয়ে দৌড় দেয়া স্বভাব।
সে আলমিরার কোনাকাঞ্চি খুঁজে বহুদিনের অনাদরে পড়ে থাকা, বহু আগের কেনা কাঁচের রেশমি চুড়ি খুঁজে পেলাম।
আম্মার থেকে স্যান্ডেল ধার নিলাম (কারণ জীবনে কেডস ছাড়া কোনো নানন্দিক, মেয়েলি জুতার অস্তিত্ব নাই!) সে ফিট হয়না কোনোমতেই পায়ে!
তখন বেলা প্রায় পড়েই এসেছে।
সবাই বর্ষ বরণ করে বাড়ির পথ ধরেছে!
আর আমি বেরুচ্ছি বর্ষ বরণে!
আমি যেখানে দু খানা কাপড় পরেই অস্বস্তিতে মরে যাই সেখানে, এই তপ্ত গরমে, জবরদস্ত মোটা সুতার শাড়ি কয়েক প্রস্থ পেঁচিয়েছি।
রাবি'র শহীদ মিনারে বসে খুব পয়লা বোশেখ পালন হলো আমাদের!
গতকালকেও ভাবিনি যে এই আহ্লাদ, এই পুরোনো মিনারে, পুরোনো লোকেদের সান্নিধ্যে আবারও উপভোগের সুযোগ আসবে!
কিন্তু এই বৈশাখ উদযাপন আমার ভারী প্রিয় ছোটোবেলা থেকেই।
ঈদের আয়োজন যেমন তেমন, বাড়িতে ছোটোবেলায় বোশেখের আয়োজন হতো বড়ই দূর্দান্ত, রঙিন ।
ঈদের জামা আমার হোক না হোক, বৈশাখে আমার লাল-সাদা জামা চাই-ই চাই।
আমাদের মধ্যবিত্তের টানাটানির সংসারেও আমরা এইদিন সব অভাব, অনটনকে পাশে সরিয়ে রাখার ধৃষ্টতা দেখাতাম বৈ কি।
এ যেনো এক অন্য রীতি, রেওয়াজ। যার অস্তিত্বকে সানন্দে, অকপটে স্বীকার করাই ছিল ধর্ম।
ইদানীং ধর্ম, সংস্কৃতির এক মহা দ্বন্দে পড়ে জীবন বড় বিক্ষিপ্ত।
আগে বৈশাখের ঝড় শুধু আমের বাগানেই লাগতো, এখন সে ঝড় মনেই বেশী লাগে।
এখন আর "ধুয়ে যাক, মুছে যাক গ্লানি" সুরে যেনো জোর পাওয়া যায়না।
সবকিছুর যে জীর্ণতা, সেটা যেন ঠিক ধুয়ে যেয়েও যায়না!
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো...
নব বর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে।
আরো একটা সুন্দর, সুখী আর সমৃদ্ধ সময়ের কামনায়।