বড় হয়ে কী হবো ,
এই চিন্তাটা বরাবরই অবেহেলিতই রইলো।
উচ্চ মাধ্যমিকের আহ্লাদ শেষে,
যেবার সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে বলে,
ভীষণ অটুট লক্ষ্য নিয়ে পড়ছিলো;
আমি কোনো এক খাম খেয়ালে-
কাঁধে গীটার একটা নিয়ে
বেসুরো তালে অযথা সুরের জালে,
'সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা' গাইবার চেষ্টায় প্রাণান্ত।
বাবা যখন "তোমার দ্বারা কিসসু হবেনা" আক্ষেপে
প্রতি রাতে ভাত পাতে মাথা নাড়তো-
আমি তখন ভাবতাম,
"নাহ! একটা কিছু আমাকে হতেই হবে!"
কিন্তু দিন হলে আবার সে ভীষণ কর্মহীন ব্যস্ততায়
অসম্ভব ব্যস্ত সময় পার করতে করতে
বাবার ক্লান্ত মুখটা বারবার হারিয়ে যায়।
আমার প্রেমে পড়ার কথা ছিলো।
অন্তত রাই'এর লাজুক হাসিটা দেখে,
আমার চুরমার হয়ে প্রেমে পড়ার কথা ছিলো।
অথচ আমি তখন "টুইন টাওয়ারের" ধ্বংস নিয়ে
কিশোর পাশার সাথে আলোচনায় বসার চিন্তামগ্ন ছিলাম।
.
তারপর যখন,
ডাক্তার বন্ধুর রোগী হলাম,
ইঞ্জিয়ার বন্ধুকে মস্করা করতে শেখালাম,
আইনের দপ্তরি বন্ধুটাকে আইনের ফাঁক শেখালাম!
আর সবার মুহুর্মুহু সাফল্যে উদরপূর্তি করছিলাম;
ভাবছিলাম-
যাক! আমি কিছু হলাম বটে!
অমনি বাবা চশমা উপর দিয়ে তাকিয়ে বলে,
"তোমার দ্বারা কিসসু হলোনা"
খেয়াল করলাম, বাবার চশমার কাঁচ আগের চেয়ে পুরু।
নিদারুণ অবহেলায় ভেবে দেখলাম,
অমলকান্তি তবুতো রোদ্দুর হতে চেয়েছিলো।
কিন্তু আমিতো কোনো লক্ষ্যই নির্ধারণ করিনি!
কেবল গভীর অধ্যাবসায়ে উচ্ছন্নে যেতে ব্যস্ত থেকেছি।
থাক!
নাই বা হলো আমার দ্বারা কিছু!
আমি বরং উচ্ছন্নেই যাই!