একদিন কলাপাতা রঙের শাড়ি পরে
তোমার সাথে হাঁটার কথা ছিলো।
দুটো কাঠগোলাপ আমার খোঁপায় গুঁজে দেবে বলেছিলে,
আমি সেজেগুজে, ঝোলা কাঁধে-
এদিক সেদিক ঘুরে সেবার ফিরে এসেছিলাম।
তোমার নাকি বড্ড কাজের চাপ ছিলো।
আমাদের একসাথে বৃষ্টি দেখার কথা ছিলো।
আমি মেঘ ডেকে, রোদ ছেঁকে বৃষ্টি এনেছিলাম
বিশ্বচরাচর সমস্ত ভিজিয়ে সে বৃষ্টি তোমার চৌকাঠেই থেমে যায় ;
তুমি ভেজোনি!
সেবার নাকি তোমার ভীষণ সর্দি লেগেছিলো!
রোজ টুকরো হওয়া স্বপ্নগুলো কুড়িয়ে জোড়া দিতে যেয়ে
কখন যে নিজেকেও জোড়া দিয়ে ফেলেছি টেরই পাইনি!
তারপর থেকে এই আমাকে কেউ ভগ্ন হৃদয়ে দ্যাখেনি!
এমনকি আমিও না!
পাত্রপক্ষ যেদিন বাড়িতে এলো শুনলে,
তুমি অভয় দিয়ে বলেছিলে-
“দূর বোকা, এলেই বুঝি বৌ করে নিয়ে যাবে?
বিয়ের কত আয়োজন, কত ঝামেলা!
তুমি নির্বাক দাঁড়িয়ে আমাকে বিদেয় হতে দেখলে।
তারপর থেকে তোমাকে আর কখনো দেখিনি!
অভিমানগুলো জমে পাহাড় হয়ে গিয়েছিলো
আমার ডিঙোনোর সাধ্য হয়নি!
ছাদবাগানে যখন উদাসী আবহাওয়া বয়;
তোমার সেদিনের মুখটা চোখে ভাসে।
খুব জানতে ইচ্ছে করে-কি চলছিল তোমার মনে!
তোমার ব্যস্ততার বাতাস বয় এখন কোন কাননে?
তোমারতো খারাপ থাকার কথা না!
অথচ এ শহরের বাতাসে তোমার ভালো থাকার খবর পাইনা।
কিন্তু আমি জানি,
একদিন তোমার অবসর আসবে।
সেদিন তোমার হাতে অফুরন্ত সময় থাকবে,
একগুচ্ছ কাঠগোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে,
ঝুম বৃষ্টিতে ভিজবে তুমি।
ধুয়ে যাবে সে জলে সব ব্যস্ততা, অভিমান আর অবহেলা।
কেউ জানবেনা।
কিন্তু সেসব দেখার জন্য কেবল-
আমিই থাকবোনা।