মানুষকে যত যত্ন করে আমি ছবি তুলে দেই আমার ছবি কেউ ওরকম যত্ন করে তোলেনা।
এইটা যে তারা ইচ্ছে করে করেনা, সেটা আমি বুঝি।
আপাত সৌন্দর্য স্কেলে আমাকে বেঁটে, খাটো, মোটা সৌন্দর্যহীন মানুষই মনে হবে, যার সুন্দর ছবি তুলতে গেলে বেদিশা লাগাটাও স্বাভাবিক।
আবার কেউ কেউ আছে খুব যত্ন করে তোলে কিন্তু এক অদ্ভুত কারণে, সেই ছবিগুলোতে আমার বাহ্যিক সৌন্দর্য আরও থেবড়ে অথচ এইসব ছবিই নাকি তাদের ভালো লাগে।
কিন্তু আমার নিজের এই কদাকার রূপ মোটেই ভালো লাগেনা।
নিজের অসুন্দর ছবি কার ভালো লাগে আমি জানিনা, কিন্তু আমার ভালো লাগেনা সেটা যতই যত্ন করে তোলা হউক।
এই সুন্দর মানে, রুপের ছটা থাকা তা না।
এই সুন্দর মানে মানুষটাকে তার চারপাশ নিয়ে সুন্দর লাগা সে যে অবস্থায়, যেই আঙ্গিকেই থাক।
ছবি তোলা হয় একটা নির্দিষ্ট মুহুর্তের সৌন্দর্য বন্দি করতে। এই সৌন্দর্যের মাপকাঠি বিভিন্নরকম হলেও, একটা ধ্রুব জায়গা আছেই।
এই সুন্দর মানে মোটা মানুষটাকে চিকন দেখানো না, মোটা মানুষটাকে মোটা হিসাবেও সুন্দর লাগে (এইটা অসম্ভব না)। কালো মানুষটাকে ফর্সা বানানো না, কালোর মাঝেই মিষ্টি লাগা। অর্থাৎ যতরকমের সামাজিক অসৌন্দর্যের সংগা আছে, তার মাঝেই সুন্দর লাগা।
এবং এইটা অসম্ভব কিছুনা।
আমার প্রোফাইল ঘুরলেই বুঝবেন, অ-সুন্দর মানুষেরও সুন্দর ছবি হয়।
অবশ্যই আমি সবাইকে আমার ছবি তুলতে দেইনা। কোনো এক ব্যাখ্যাতীত প্রবৃত্তি থেকে আমি বুঝি, কে আমার মত যত্ন করে আমাকে ক্যামেরাবন্দী করবে আর কে করবেনা।
যেমন লিয়া, নদী প্রচন্ড সুন্দর ছবি তোলে আমার। জয়দা, আনন্দ যখন উদ্ভুট্টি কদাকার ছবি তোলে সেটাও অদ্ভুতভাবে দেখতে সুন্দর লাগে। বিশালতো ক্যামেরা নিয়ে এমনে ঘুরাঘুরি করে যে নিজেকে মিস ইউনিভার্স মনে হয়।
এবং এরা নিজ গরজেই তোলে।
তাই তাদের ক্যামেরায় ধরা পড়া কিছু স্বতঃস্ফূর্ত মুহুর্ত দেখে আমি দারুণ বাকরুদ্ধ হয়ে যাই সেসব মুহুর্তের সৌন্দর্যে অভিভূত।
মনে হতে পারে, এইটা সুন্দরী না হবার ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স।
কিন্তু আসলে সেটাও না।
আমি কখনোই সৌন্দর্য সচেতন ছিলাম না, সেজন্য কোনো প্রচেষ্টাও দেইনি।
কারণ এত বিড়ম্বনা আমার মত অসম্ভব আলসে মানুষের দ্বারা হবেনা।
চারপাশে সর্বক্ষণ নারী-পুরুষ সকলের দ্বারাই এই বিষয়টি সচেতনভাবে বারবার উপলব্ধিতে এলেও, সেই মাপকাঠিতে নিজেকে ফেলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি।
আমার বাহ্যিক সৌন্দর্য যতটুকু আছে, আমারতো মাঝেমধ্যে মনে হয় প্রয়োজনের তুলনায় বেশীই আছে।
আরেকটু কম থাকলে ঝামেলা আরো কম হতো।
তার উপর আমার চেহারা বেশ ফটোজেনিক যাকে বলে।
হাসলে মুক্তা ঝরে।
একটু সুন্দর পোষাক-আশাক পরে কেতাদুরস্ত হলে আমারতো নিজেকে নিয়ে গাইতে মনে চায় "আকাশ থেইক্কা নাইম্মা আইছে ছোট্ট একখান পরী!"
কার কাছে কেমন লাগে তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নাই।
কারণ আমার প্রেমিক বা শশুরবাড়ি খোঁজার তাড়া নাই।
তবে সবাই আমার মতো উদাসীন না, এমনকি আসলে বেশীরভাগই না।
সমাজ, সংসার, পরিবারের ঠেলাঠেলিতে সম্ভবত হাজারে ৩/৪ জন এরকম "এনামলি" থাকে যারা এসব গায়ে না মাখিয়ে, গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরতে পারে।
তবে খারাপ লাগে এইটা যে, বেশীরভাগ স্যোশাল মাপকাঠির উপরে নম্বর পাওয়া মানুষগুলা বা মেয়েরা বিশেষ করে, অন্যান্য তুলনামূলক কম সুন্দর মানুষগুলাকে সুন্দরী অনুভব করাইতে পারেনা। এই জিনিসটা অনেক সময় তাদের উপলব্ধিতেই আসেনা।
এই উদাসী স্বার্থপরতার জন্য যে তারা কোথাও দায়ী তাও না।
আবার এটাও হতে পারে যে, প্রত্যেক উচ্চমানের সুন্দরীরা বেশীরভাগ সময় তারা "যথেষ্ট" সুন্দরী না ভেবে এক প্রকার মনোঃকষ্টে থাকে; তাই যারা মাপকাঠির ধারে কাছেও নাই তাদের ব্যাপারগুলা ওদের দৃষ্টিগোচর হবার সুযোগই নেই।
তো আপনারা সামাজিকভাবে স্বীকৃত সুন্দরীরা একটু কম ইন্টেন্স হন প্লিজ।
আপনি কিভাবে বুঝবেন, আপনি সুন্দরী?
১। ফর্সা বা উজ্জ্বল শ্যামলা
২। দেশীও গড়ে উচ্চতা যথেষ্ট
৩। মোটা'র স্কেলের নীচেই আছেন
৪। চেহারা ঝকঝকে, নিখুঁত রঙ যেমনই হোক
৫। কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নাই
এইসবগুলার অধিকারী হইলেই আপনার আর দুঃখ করবার অবকাশ নাই। সামাজিক স্বীকৃতির মাপকাঠিতে আপনি রাজকন্যা কঙ্কাবতী।
আর হা হুতাশ করবার প্রয়োজন নাই।
মানুষের জীবনে অনেক দুঃখ কষ্ট আছে এমনিতেই।
আপনারা যারা "সামাজিক মাপকাঠিতে পাশ মার্ক" পেয়েছেন, তারা দয়া করে সুখী হওন আর অন্য "কানের গোড়া দিয়ে ফেল হওয়া" দুঃখী মানুষদের প্রতি সহমর্মি থাকুন।
All the contents are mine until it’s mentioned