আমার কাছে মনে হয়, পায়ে আলতা দিয়ে দেওয়া একটা আরাধনার মত; ভালবেসে, আদরে-যত্নে না দিলে এদিক ওদিক ছড়ায়ে যায়, লাইন আঁকাবাঁকা হয়, গোলটা বহুকোণী হয়।
আমি নিজের আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করলাম যে, ছেঁড়া ফুল আমি পরা, মালা গাঁথা পছন্দ করলেও নিজে ফুল ছেঁড়ার ব্যাপারে আমার আপত্তি আছে।
নিজস্ব রঙিন দুনিয়ায় নিজের মত, নিজের কল্পিত সত্যকে লালিত রাখার জন্য অনেক মুহুর্ত, অনেক মানুষ, অনেক অভিমান, ভালবাসা আমি কিছু ক্ষেত্রে খুব নির্দিষ্টভাবে সীমিত আকারে বাক্সবন্দি রাখি। সীমিত অই চাওয়ার বাইরে আর তা চাইনা, নেইনা।
এতে করে শুরুতে সেগুলো যেমন আন্দোলিত করে মন ও মনন, ক্ষণ ও জীবন সেগুলোতে কালিমা মাখানোর ইচ্ছে হয়না। মনে হয় এই ফুলগুলো খোঁপায় পরা জরুরি না, এই ফুলগুলো গাছে ফুটে, গাছেই শুকিয়ে ঝরে যাক অথবা অন্য কেউ ছিঁড়ে খোঁপায় গুজুক বা মালা গাথুক।
সব সম্পর্কে পথের শেষ অব্দি হাঁটতে নেই। কিছু সম্পর্কে পথের অর্ধেকেই যাত্রাবিরতি হওয়া উচিৎ এবং জরুরি। রেলের কামরায় বা ভীন্ন শহরে হটাৎ দেখার মতন সুখানভূতি পাওয়া যাবে।
মনুষ্য সম্পর্কে এইটা অবধারিত যে লম্বাপথ পাড়ি দিলে কোথাও না কোথাও তিক্ততা আসবেই। তাই কিছু সম্পর্কে মাধুর্য বজায় রেখে তিক্ততা আসার আগেই আলগোছে আলমারিতে তুলে রেখে দেয়া ভালো।
বিয়ের শাড়িটার মতন।
এই দুইটা ছবি আমার এই ৩২তম বসন্তের সবচেয়ে পছন্দের।
এই ক্লান্তি, শ্রান্তি, প্রশান্তি, মলীন লাবণ্যের পেছনে তবুও চোখ ছুঁয়ে যাওয়া হাসি, বা খুব বিরক্ত হয়ে রেগেমেগে হয়তো কিছু বলছিলাম...এই দুটোই কোনো রকম পূর্বপরিকল্পিত না বলে আমি প্রকৃতার্থেই এসব অনুভূতি প্রকাশে দেখতে কেমন, এইটা দেখতে পাচ্ছি।
এবং দেখে আমার নিজের জন্য অনেক মায়ায় পড়তেসি যে এটাও ভালো লাগছে।
এবং এই দুটো বৈপরীত্যে ক্ষণের পরিবর্তনে আমাকে রাখতে পারা এবং অই আমি কেন্দ্রিক হয়ে থাকাটা, সে মুহুর্তে আমিতে মজে থাকা এই মানুষটার জন্যও মায়ায় ভরে যায় মন তখন।
এইটা খুবই অভাবনীয় অনূভুতি।
[All the contents are mine untill mentioned otherwise ]