যুবক ছেলের মৃত্যু
এলাকার বড়লোক বাবার একমাএ ছেলে। ছোট থেকে বড় হয়েছে বাবার অটল টাকা দেখে। ছেলেটির বয়স এখন ২০ বছর। এলাকার মধ্যে ছেলের বাবার বেশ নাম ডাক রয়েছে। কিন্তু ছেলেটি আদরে আদরে এখন আর কারো কথা শুনতে চাইনা। সে যে ভাবে ইচ্ছা সে ভাবে চলা ফেরা করে ও এলাকার সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এই এলাকার মধ্যে একটা নতুন মসজিদ হয়েছে। মসজিদ টি খুব সুন্দর ভাবে অনেক বড় করে তৈরী করা হয়েছে। ছেলের নেশা হলো মোবাইলে গেম খেলা ও কানের মধ্যে বড় বড় হ্যাডফোন লাগিয়ে গান শুনা।
একদিন বিকালে আসরের আজান দিলে সবাই মসজিদে ঢুকছে নামাজ পড়তে। কিন্তু ছেলেটি তখন সে মসজিদের সিঁড়িতে গিয়ে বসে কানে মধ্যে হ্যাডফোন লাগিয়ে মোবাইলে গেমস খেলছে। সব মুসুল্লিরা ওর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভিতরে ঢুকলেও কিছু বলার সাহস পাইনি। কারণ সবাই জানে ছেলেটিকে এখন কিছু বললে সে খারাপ ব্যবহার করবে। মসজিদে নামাজ শেষ হলো সবাই যার যার মতো করে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলো। ছেলেটি এখনো সেখানে বসে গেম্স্ খেলছে। সবার শেষে মসজিদের ইমাম সাহেব বের হয়ে আসলো ও বলতে লাগলো বাবা তুমি নামাজের সময়টাকে এভাবে নষ্ট না করে নামাজ পড়তে আসো। ছেলেটি জবাবে বলতে লাগলো হুজুর এখন কি আমার নামাজ পড়ার বয়স হয়েছে। এখন তো আমার ইনজয় করার সময়। আমি যখন আপনাদের মতো বয়স্ক হবো তখন আল্লাহর কাছে তওবা কেটে দিন রাট ২৪ ঘন্টা এবাদত করবো।
হুজুর কথা শুনে বললো তুমি যে আজ আছো কাল ও তুমি থাকবে এটা কি তুমি বলতে পারবে। আর তুমি আমাদের মতো বয়স হতে হতে যদি তুমি বেঁচে না থাকো তাহলে কি ভাবে আল্লাহর কাছে মাফ চাইবা। এখনো সময় আছে তওবা কেটে আল্লাহর রাস্তায় আসো। আল্লাহ কাকে কখন কিভাবে নিয়ে যাই তার কোনো গ্যারান্টি নেই। এই কথা বলে হুজুর চলে যান। ছেলেটি কথা গুলো এক কান দিয়ে শুনেছে ও অন্য কান দিয়ে বের করে দিয়েছে।
তার কিছুদিন পরের কথা। ছেলেটি বাইক নিয়ে কানের মধ্যে হেডফোন লাগিয়ে অনেক জোরে সাউন্ড দিয়ে গান শুনছিলো ও বাইক চালাচ্ছিল। হঠাৎ একটি ট্রাক এসে ছেলেটিকে মেরে দিয়ে চলে যাই। ছেলেটির মাথা পুরোপুরি থেতলে যাই। সেদিন এলাকার একজন দৌড়ে হুজুরের কাছে যাই ও বলে হুজুর ওই ছেলেটি মারা গিয়েছে আপনি একটু মসজিদের মাইক দিয়ে মৃত্যুর খবর টা জানিয়ে দিন। হুজুর তখন সেদিনের কথা গুলো ভাবতে লাগলো ও ভিতর থেকে উনার খুব কষ্ট হচ্ছিলো ছেলেটির জন্য।
এলাকাবাসী সবাই একে একে আসে মৃত্য ছেলেটিকে দেখে যাই ও সবার শেষে গুজুর গিয়ে ছেলেটির এই অবস্থা দেখে মাটিতে পরে কান্না করতে লাগলো। ছেলেটির জন্য হুজুরের এতটা কষ্ট হচ্ছে যে ভাষাই প্রকাশ করার না। হুজুর দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে লাগলো। যে আল্লাহ তুমি এই ছেলেটিকে মাফ করে দাও। সে একবার হলেও বলেছিলো তোমার কাছে তওবা কাটবে ও আল্লাহর এবাদত করবে। হুজুরের কান্না দেখে আসে পাশে সব যুবক ছেলেরা কান্না করতে লাগলো ও সবাই হুজুরের কাছে আসে তওবা কেটে আল্লাহর রাস্তায় চলে আসলো।
আমরা হয়তো অনেকেই এটা ভাবি যে এখন আমরা গুনাহ করতেছি। পরে একটা সময় আল্লাহর কাছে তওবা করে নিবো। কিন্তু আমরা কখনো এটা ভাবিনা যে আল্লাহ সবাইকে তওবা করার সুযোক দেন না। আমাদেরকে এখনই আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত ও নিজেকে আল্লাহর পথে নিয়ে আশা উচিত।