ডাক্তারের সাথে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর ঘটনা
রাট ১০ টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। আশেপাশে ডাক্তারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডাক নাম এই ডাক্তারের। তাহার পরিবারে তার বৃদ্ধ মা আছে। উনার পরিবার কোনো একজন আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে। রাতে বাসায় এসে হালকা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরে। যখন রাট ১তে ৩০ মিনিট , ঠিক তখন উনার দরজায় কে যেন একজন টক টক করে উনাকে ডাকতে লাগলো। কয়েকবার ডাকার পর উনি ঘুম থেকে উঠে বললো কে আপনি। তখন বাহির থেকে লোকটি বললো ডাক্তার সাহেব আমি অনেক বিপদে পরে এত রাতে আপনার কাছে এসেছি। আমার মা অনেক অসুস্থ , মা কেমন জানি করছে। আপনার কাছে আমি হাত জোর করে অনুরোধ করছি আপনি আমার সাথে চলুন।
ডাক্তার সাহেব দরজা খুললেন ও লোকটির দিকে তাকালেন , কিন্তু লোকটিকে আগে কখনো উনার গ্রামে দেখেছেন বলে মনে হলো না। ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলেন , আপনার বাড়ি কোথায় ? লোকটি উত্তর দিলো আমি পাশের গ্রামের তবে আমি বাড়িতে থাকি না শহরে থাকি তাই আপনি আমাকে চিনবেন না। ডাক্তার বললো আমি তো এত রাতে রোগী দেখতে যেতে পারবো না , আমার ঘরে আমার বৃদ্ধ মা ছাড়া আর কেউ নেই। তবুও লোকটি অনেক অনুরোধ করে ডাক্তারকে বলতে লাগলো আপনি না গেলে আমার মায়ের খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। এসব কথা শুনে ডাক্তারের মা উঠে আসে ও ডাক্তারকে বলতে থাকে যা বাবা ওর মাকে দেখে আয়। আর ওই লোকটিকে বললো আপনি আমার ছেলেকে যে ভাবে নিয়ে যাবেন ঠিক আবার সে ভাবে আমার ঘরে ফিরিয়ে দিয়ে যাবেন এটা আমার সাথে কথা দেন। তখন লোকটি ডাক্তারের মায়ের সাথে কথা দিলো সে ডাক্তার সাহেব কে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যাবে।
ডাক্তার সাহেব উনার পোশাক পরে সবকিছু নিয়ে লোকটার সাথে রওনা হলো। একটা খাল পার হয়ে ওপারে যেতে হবে। ডাক্তার সাহেব ও লোকটি নৌকায় উঠলো। উঠার পর দেখে নৌকাটির মধ্যে অন্য আরেকজন লোক আছে , যেটা প্রথমে উনি দেখেননি। মনে মনে ভাবতে লাগলো হয়তো অন্ধকারে দেখতে পাইনি। নৌকাটি কিছুক্ষন চলার পর উনি কি জানি একটা অনুভব করতে লাগলো। হটাৎ করে উনি নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলো নৌকাটি পানি দিয়ে চলছে না। শুকনা জমিনের উপর দিয়ে চলছে। আর ৮ থেকে ১০ জন লোক নৌকাটি ধাক্কা দিয়ে চালাচ্ছে। তখন উনি খুব ভয় পেয়ে যাই ও উনি বুঝতে পারছে উনার সাথে ভালো কিছু হচ্ছে না।
ঠিক তখন নৌকার মধ্যে বসে থাকা লোকটি বলতে লাগলো , আপনি হয়তো এতক্ষনে বুঝে গিয়েছেন আমরা কেউ মানুষ না। আমরা হলাম জীন। তবে আপনি ভয় পাবেন না , আমরা আপনার কোনো ক্ষতি করবো না। আমাদের মা সত্যি খুব অসুস্থ আপনি উনাকে দেখবেন। তবে সেখানে আপনাকে অনেক আপ্যায়ণ করা হবে। আপনাকে অনেক খাবার দেয়া হবে আপনি কিছুই খাবেন না। ও আপনাকে অনেক সোনা , রূপা , এমন আরো অনেক কিছু দিতে চাইবে কিন্তু আপনি কিছু নিবেন না , শুধু একটি রিং দিলে সেটি নিবেন এতে আপনার উপকার হবে। আর যদি আপনি ভয় পান তাহলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। আপনাকে আমার এসব কথা বলার একটাই কারণ আমি আপনার মাকে কথা দিয়ে এসেছি আমি আপনাকে ঘরে পৌঁছায় দিবো।
এসব কথা শুনে ডাক্তার সাহেব অনেকটা সাহস পাই ও চুপ করে নৌকায় বসে থাকে। তখন দেখতে পাই নৌকাটি আস্তে আস্তে একটি ঘন গঙ্গলের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করছে। কিছুক্ষন যাওয়ার পর দেখতে পেলো বিশাল একটি বাড়ি , দেখতে অনেকটা রাজপ্রাসাদের মতো। তাকে খুব আদর যত্নে সে রাজপ্রাসাদের ভিতরে নিয়ে গেলো। বিশাল বড় বড় রুম অনেক সুন্দর ভাবে সাজানো। এগুলা দেখে ডাক্তার সাহেব অবাক হয়ে যাচ্ছে। যে রুমে অসুস্থ জীনেদের মা শুয়ে আছে সে রুমে যাই ও তাকে দেখে কিছু ওষুধ লেখে দেয়। বলে এই ওষুধ গুলো খেলে ঠিক হয়ে যাবে উনার তেমন কিছুই হয়নি। সবাই মানুষ রূপে ছিল বলে ডাক্তার খুব সহজে তাদের সাথে কথা বলতে পেরেছে।
কাজ শেষ করার পর ঠিকই তাকে অনেক খাবার , সোনা , রুপা নেয়ার কথা বলেছে , কিন্তু সে কিছুই খাইনি ও কিছুই নেন নি। তারপর তাকে আপনি রিং দেয় বলে তুমি সব সময় হাতে রাখবে তাহলে দেখবে তুমি অনেক ভালো থাকবে ও ধনসম্পদের মালিক হবে। তারপর ডাক্তার সাহেব ওই ভালো জীনটার কথা মতো রিং টা হাতে নেই ও বিদায় নিয়ে বের হয়ে যাই। তখন সাথে সাথে ওই ভালো জীনটা এগিয়ে দিয়ে আস্তে রওনা হয়। এবং এটা বলে রাখে যে আপনাকে এখন পিছন থেকে অনেক ভাবে অনেকেই ডাকবে , কিন্তু আপনি পিছনের দিকে তাকাবেন না। তাকালে আপনার ক্ষতি হতে পারে।
রাজপ্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারকে উনার অনেক পরিচিত লোকজন ডাকা শুরু করলো। এমন কি উনার মা উনাকে ডাকাছে কিন্রু উনি জানে যে এখানে উনার মা আসতে পারেন না। ভিবিন্ন রকমের বাঘের গর্জন , মনে হচ্ছে এখনই উনাকে টেনে ছিড়ে খেয়ে পেলবে। এসব ডাক আর শব্দ শুনে ডাক্তার সাহেব অজ্ঞান হয়ে যাই। উনি আর কিছুই বলতে পারে না। পরদিন উনার জ্ঞান ফিরে ও তাকিয়ে দেখে সে তার নিজের ঘরে শুয়ে আছে ও তার মা তার পাশে বসে আছে। তখন সবকিছু তার মাকে খুলে বলে ও হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে সেই রিংটা তার হাতেই রয়েছে। তারপর সত্যি সত্যি সে আস্তে আস্তে ধনী হতে থাকে।