সামাজিকতা
আমাদের এই সমাজে নারীদের অনেক ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাদের এভাবে চলতে হবে ওভাবে মানতে হবে কিন্তু তাদের কষ্টের দু পয়সার দাম দেয়ার মতো এখনকার সমাজে এমন পুরুষ অনেক কমেই আছে। এমন একটি শিক্ষণীয় গল্প আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।
শহরের নামি দামি একজন ব্যাক্তি ফারুক সাহেব। তিনি সৎ ভাবে মানুষের ন্যায্য বিচার করেন। তাই গ্রাম ও শহরের প্রতিটি মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে। শহরের প্রতিটি জায়গায় যে কোনো ধরণের বিচারে ফারুক সাহেবকে অবশ্যই থাকতে হয়। কারণ তিনি একজন সৎ ও বিবেকবান ব্যাক্তি। তার সাথে রয়েছে শক্তি ও সামর্থ। প্রতিটি মানুষ ফারুক সাহেবের ভয়ে কাঁপতেন। সব ধরণের ঝামেলা তিনি একাই সমাধান করতেন।
একদিন এক পরিবারের স্বামী ও স্ত্রী দুজনে প্রচন্ড ঝগড়া লাগে। তারা শুধু আজকেই নয় , প্রায় তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। কারণ স্বামী তার স্ত্রী কথা সহ্য করতে পারতোনা ও স্ত্রী তার স্বামীর কথা সহ্য করতে পারতোনা। তাদের একজনের প্রতি আরেক জনের ভালোবাসা কমে গিয়েছিলো। কেউ কাউকে ছাড় দিতোনা। এই অবস্থায় তাদের ঝামেলা দিন দিন বেড়েই চলছে। তাদের নিয়ে অনেক ধরণের ছোটোখাটো বিচার নালিশ হলেও এর কোনো সমাধান হয়নি আজ পর্যন্ত।
তাই মহিলার স্বামী সিদ্ধান্ত নিলো তার স্ত্রীর নালিশ নিয়ে ফারুক সাহেবের কাছে যাবে। যদিও এই বিষয়টা পারিবারিক হওয়ার কারণে একটু খারাপ দেখা যাচ্ছে তবুও তিনি বাধ্য হলেন ফারুক সাহেবের কাছে যাওয়ার জন্য। পরদিন ওই ব্যাক্তি ফারুক সাহেবের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা হলো। তিনি ফারুক সাহেবের বাসার সামনে যেতেই সেই বাসার ভিতরে একজন মহিলার চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলেন। তিনি একটু খেয়াল করতেই বুঝতে পারলেন তিনি যার কাছে নিজের বউয়ের নালিশ নিয়ে এসেছেন তার স্ত্রী তার সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করছে।
তিনি বাহিরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন চিন্তা করতে লাগলেন। আমি যে রোগের ওষুদের জন্য ডাক্তারের কাছে আসলাম , আর সেই ডাক্তারও ঠিক একই রোগে আক্রান্ত। এই ভেবে লোকটি ফারুক সাহেবের দরজা থেকে চলে যাওয়ার জন্য কয়েক পা এগুতেই ফারুক সাহেব তাকে পিছন থেকে ডাক দিলো। এই যে দাঁড়ান। কে আপনি ? আমি দেখলাম আপনি আমার দরজা পর্যন্ত এসে ফিরে যাচ্ছেন ? কেন এসেছিলেন ? তখন লোকটি ফিরে এসে ফারুক সাহেবকে বললো আমি একটি নালিশ নিয়ে আপনার কাছে এসেছিলাম। তবে আপনার বাসার সামনে এসে আমি বুঝতে পারলাম হয়তো আমার নালিশের কোনো সমাধান আমি পাবো না। তাই ফিরে যাচ্ছিলাম।
তখন ফারুক সাহেব বললেন কি নালিশ নিয়ে এসেছেন আপনি আমাকে নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। তখন লোকটি বললো আমি আমার বউয়ের নালিশ নিয়ে এসেছিলাম। আমার বউ সারাক্ষন আমার সাথে ঝগড়া লেগেই থাকে। পরিবারের ছোটোখাটো বিষয় গুলো নিয়েও আমাকে কথা শুনাতে থাকে। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম আপনিও আমার মতো আপনার বউয়ের কথা শুনছেন। তাই ভাবলাম আপনাকে নালিশ দিয়েও কোনো সমাধান পাবো না। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলাম।
তখন ফারুক সাহেব বললেন যাওয়ার আগে দুইটি কথা শুনে যান। কথা গুলো আপনার কাজে লাগতে পারে। বলেনতো এই বাড়ি কার ? জবাবে লোকটি বললেন আপনার। এই টাকা পয়সা জায়গা সম্পত্তি কার ? জবাবে বললেন আপনার। এই সন্তান কার ? জবাবে লোকটা আবারো বললেন আপনার। তবে সবকিছু যদি আমার হয়ে থাকে তাহলে পরের ঘর থেকে একটা মেয়ে এসে আমার সকল কিছুর দায়িত্ব যখন সে নির্দ্বিধায় তার নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারে , দিন তার সংসারের জন্য এত পরিশ্রম করতে পারে , তবে এই স্ত্রীর দুটো কথা আপনি সহ্য করতে পারবেন না ? তাহলে আপনি কেমন স্বামী হলেন।
ফারুক সাহেবের কথা শুনে লোকটি বলতে লাগলেন আমি আমার উত্তর পেয়ে গেছি। এই কথা বলে লোকটি হাসি মুখে বাড়িতে ফিরে গেলেন।
আমাদের সকল স্বামী স্ত্রীদের প্রয়োজন একে অপরকে যথার্ত সম্মান করা ও একজন আরেক জনের প্রতি সহানুভূতি দেখানো। একজন রেগে গেলে অন্য জন চুপ করে থাকা। তবেই আমাদের সমাজে স্বামী স্ত্রী ঝগড়া ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে।