প্রেমের সূচনা
আমি সারাদিন বাসায় থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে ফ্রেন্ডের সাথে গ্রুপ চ্যাট করি। বাসার ভিতরে থেকে আর কোনো কাজ আছে বলে আমার মনে হয় না। এভাবেই দিন গুলো কাটছে আমার। হটাৎ একদিন আমার ইমোতে একটা ম্যাসেজ আসলো অপরিচিত নাম্বার থেকে হাই। তারপর উত্তরে হ্যালো। যদিও আমি অপরিচিত কোনো নাম্বার থেকে ম্যাসেজ আসলে আমি ব্লক করে দেয় , কখনো কথা বলি না। কিন্তু সেদিন আমি জানি না কেন আমি কথা বলেছিলাম। তার পর শুরু হয়ে গেলো পরিচয় জানার পালা। একজন আরেক জনকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো কি করে , কোথায় থাকে , কি নাম , এসব। কথা গুলো স্বাভাবিক ভাবে একজন আরেক জনের সাথে বলছিলো।
এক পর্যায়ে আমার সব কিছু জানা হয়ে গেলে ছেলেটা আমার খুব প্রশংসা করতে লাগলো। আর প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে। আমিও ওর কথায় আটকা পরে মুচকি হাসি দিয়ে দিয়ে চ্যাট করতে থাকি। ছেলেটার কথা বলার স্টাইল এমন ছিল যে ছেলেটার সাথে আমার বা আমার পরিবারের অনেক পরিচিত বা আপন কেউ। এভাবেই কিছুক্ষন চ্যাট করার পর গুড নাইট বলে রেখে দিলাম। আমিও তেমন কোনো গুরুত্ব দেয়নি। পরের দিন সকালে আবারো ম্যাসেজ পাঠালো ,গুড মর্নিং জানালো। আমি স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিলাম। আবারো চ্যাট শুরু হলো ভাবেই এক পর্যায়ে আমি নিষেধ করে দেয় আমাকে যাতে আর ম্যাসেজ না দেয়। আমি চিন্তা করলাম কেন আমি শুধু শুধু ছেলেটার সাথে কথা বলছি। সেও আমাকে উত্তরে বললো আচ্ছা ঠিক আছে আপনার সমস্যা হলে আমি আপনাকে আর ম্যাসেজ করবো না।
সত্যি সত্যি ৩ দিন ছেলেটা আমাকে কোনো ম্যাসেজ দেয়নি। তবে আমি কেন জানি খুব মিস করছিলাম ছেলের কথা গুলো। ছেলেটার কথা গুলোর মধ্যে অনেক আপন আপন একটা অনুভূতি ছিল। খুব স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতো। আর অনেক সুন্দর করে কথা বলতো। সবচেয়ে বড় কথা আমার অনেক প্রশংসা করতো। আমি যাই করিনা কেনো সবকিছুতে আমার অনেক প্রশংসা করতো। ৩ দিন পর আমি নিজেই ম্যাসেজ দেয় ও জিজ্ঞাসা করি আপনি আমাকে ম্যাসাজ দেননা কেন ?উত্তরে বললো আপনি তো নিষেধ করলেন ম্যাসেজ না দিতে। আমি বললাম আমি নিষেধ করছি বলে কি এ জন্য সত্যি সত্যি ম্যাসেজ দিবেন না। উত্তরে বললো হা আমি সবার কথা মানার চেষ্টা করি হোক সেটা আপনি বা অন্য কেউ। ছেলের কথা শুনে আমার অনেক ভালো লাগে ও তার উপর আমার একটা বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে। ছেলেটা আর যাই হোক মন টা অনেক ভালো ও শান্ত স্বভাবের একটা মানুষ।
ওর প্রতি আমার কেমন জানি একটা আগ্রহ কাজ করে। কথা বলতে ইচ্ছা করে কিন্তু এখনো পর্যন্ত সে আমাকে এটা বলেনাই আপনার ফোন নাম্বার তা দেন অথবা আপনার ফেইসবুক আইডি কি , এমন কি সে আমাকে ভালোবাসে কিনা সেটাও সে আমাকে বলেনা। তারপর আমি বললাম ঠিক আছে আপনি এখন থেকে যখন সময় পাবেন তখন ম্যাসেজ দিয়েন আমি কথা বলবো।
এভাবেই চলে যাই প্রায় একমাস। কিন্তু সে এখনো পর্যন্ত আমার নাম্বার চাইনি। এই কয়দিনে হয়তো ২ জনের মধ্যে ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে। আপনি থেকে তুমিতে পরিনিত হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একজন আরেক জনকে বলেনি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসি কথাটা বলা তো পরের কথা কখনো এটাও আমাকে বলেনি তোমার একটা ছবি আমাকে সেন্ড করো। আমিও তাকে দেখি সেও আমাকে দেখেনি। কিন্তু একজন একজনকে আমরা অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। এভাবেই চলে যাই আরো ২ মাস। এখন যেন শুধু অপেক্ষায় থাকি কখন সে অনলাইন আসবে আর কখন আমরা চ্যাট করবো।
হয়তো তুমি অপেক্ষা করছো কখন আমি নিজে থেকে তোমাকে নাম্বার দিবো। আবার আমি নিজে থেকে তোমাকে আমার ছবি দিবো। কিন্তু তুমি হয়তো এটা জানো না মেয়েরা কখনো ছেলেদের কাছে নাম্বার চাইনা বা ছবি চাই না। এই কাজটা ছেলেদের করতে হয়।
এভাবেই চলতে চলতে একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম দেখা সরাসরি দেখা করবো। তবে ২ জনের মধ্যেই ছিল অনেক ভয়। কারণ কেউ কারো সাথে ফোনে কথা বলেনি। কেউ কাউকে দেখিনি। এমন অবস্থায় দেখা করাটা ২ জনের পক্ষেই অনেক ভয়ানক ছিল। জানি না কপালে কি আছে। এভাবেই মনের মধ্যে ভয় নিয়ে দেখা করার জন্য প্রস্তুত হলাম। কোনো একটা জায়গায় সে আর আমি দেখা করলাম।
২ জনের দেখা হওয়ার পর আমি শুধু তাকিয়ে ছিলাম তার দিকে। কোনো কথা বলার মতো সাহস পাচ্ছিলাম না। সেও আমার পাশে এসে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর কথা বলা শুরু করলো। ছেলেটা দেখতে এতটা খারাপ ছিল না। বেশ ভালো লাগলো আমার। তারপর আস্তে আস্তে কথা বলার শুরু , একজনের আরেক জনের নাম্বার আধান প্রদান। এভাবেই শুরু হয় গভীর প্রেমের সূচনা।
এই প্রেম কি এখনো অটুট রয়েছে। হয়েছে কি তাদের মিল। এখনো কি একজন আরেকজন কে অনেক ভালোবাসে জানতে হলে পরবর্তী পোস্ট পড়তে হবে।