মাইনুলের বড় বোন এখন শ্বশুর বাড়িতে থাকে তাই টাকা পয়সা এখন আর আগের মতো মাইনুলদের জন্য খরচ করতে পারেনা। তারপর ও হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে কিছু টাকা বাপের বাড়ির লোকজনের জন্য খরচ করে মাইনুলের বড় বোন। নতুন সংসার তাই স্বামীর মতামত এর বাহিরে গিয়ে কী করে মাইনুলের বড় বোন তাদরকে টাকা দিবে? এই চিন্তায় অস্থির সময় পার করে মাইনুলের বড় বোন।
মাইনুল বিকেলে মাঠ খেলতে যায়না, সে তাদের জমিতে কাজ করে যাতে করে শাকসবজি বেশি করে ফলিয়ে একটু বাড়তি টাকা আয় করা যায়, আর বাড়তি টাকা দিয়ে তার হেড স্যারের ঋণ যদি কিছুটা শোধ করা যায় মাইনুল এতে খুশি।
সন্ধ্যায় বেলায় নাস্তার পরিবর্তে ভাত খেয়ে মাইনুলরা খরচের উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে, এতে করে কিছু টাকা যদি জমানো যায়! ভাত খাওয়ার পর মাইনুল হাত মুছতে মুছতে মাকে বলে, মা জেঠার কাছে যাও না ওনাকে আমাদের সমস্যার কথা বলো।
রঙ চায়ের কাপ মাইনুলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে মাইনুলের মা বলতে থাকে বিকালে আমি আর তোর ছোট বোন গিয়েছিলাম তোর জেঠার বাসায়, সব কিছু শুনার পর বলে ঠিক আছে আগামী সপ্তায় কিছু দিয়ে দিবে। কতো দিবে, মাইনুল চায়ে চুমুক দিতে দিতে বলে।
দশ হাজার দিবে, মাইনুলের মা কিছুটা আতঙ্ক নিয়েই বলে, যাক বাঁচা গেল মাইনুল বলে। সব কথা যদি জানতি তাহলে এমন বলতি না মাইনুলের মা মনে মনে মনে বলে।
মা তাহলে তুমি জেঠার কাছ থেকে দশ হাজার নিয়ে আসিও আর আমার কাছে পাঁচ হাজার আছে, পনের হাজার হলো আর দশ হাজারের শর্ট। মা তুমিনা কিছুদিন আগে বাবার " ছুটি বিল" বাবদ কিছু টাকা পাইছো, সেগুলো কোথায়, মাইনুলের এমন প্রশ্নে জোহরা বেগম বিব্রত হয়ে পড়ে।
জোহরা বেগমের মৌনতার অবসান ঘটিয়ে মাইনুলের ছোট খালার আগমন ঘটে। ছোট খালা ঘরে ডুকতে ডুকতে বলে কীরে আপা তোমরা কীসের টাকার হিসাব করতেছ?
জোহরা বেগম কিনা একটা বলতে যাবে, এমন সময় মাইনুল তার খালার হাত থেকে ফলের থলে নিতে নিতে বলে মা, তুমিও না, খালা ঘরে ডুকতে না ডুকতে টাকা পয়সার হিসাব শুরু করে দিলে!
চলবে......
Source :
Pixabay](https://pixabay.com/photos/poverty-black-and-white-emotion-hdr-4561704/)