বিজ্ঞাপন আমার খুব প্রিয় একটা বিষয়, এখন দেখি আমার ছেলে ও বিজ্ঞাপনের বাহারি রঙে হারিয়ে যায়। ছোট বেলায় সব-কয়টা বিজ্ঞাপন মুখস্থ করে ফেলতাম। বড়ো বেলায় এসেও বিজ্ঞাপন আমার প্রিয় বিষয় হয়ে আছে। বাহারি বিজ্ঞাপন অনেকক্ষেত্রে সফল হয় আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয়না। তবে সফল কিংবা অসফল তা একটা কোম্পানির বাজার শেয়ার দিয়ে যাচাই করা যায়না। বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্যই হয় প্রচার সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। বিজ্ঞাপন নিয়ে কথা বলতে গেলে, কবি শঙ্খ ঘোষের "মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে" কবিতার কথা মনে পড়ে যায়
একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
…. তোমার জন্যে গলির কোণে
ভাবি আমার মুখ দেখাব
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।
একটা দুটো সহজ কথা
…. বলব ভাবি চোখের আড়ে
জৌলুশে তা ঝলসে ওঠে
বিজ্ঞাপনে,রংবাহারে।
কে কাকে ঠিক কেমন দেখে
…. বুঝতে পারা শক্ত খুবই
হা রে আমার বাড়িয়ে বলা
হা রে আমার জন্ম ভূমি।
বিকিয়ে গেছে চোখের চাওয়া
…. তোমার সাথে ওতপ্রত
নিয়ন আলোয় পণ্য হলো
যা কিছু আজ ব্যাক্তিগত।
মুখের কথা একলা হয়ে
…. রইলো পড়ে গলির কোণে
ক্লান্ত আমার মুখোশ শুধু
ঝুলতে থাকে বিজ্ঞাপনে।
কবি শঙ্খ ঘোষের কথা ধরে যদি বলি, নিয়ন আলোয় পণ্য হলো যা কিছু আজ ব্যাক্তিগত। এখন প্রশ্ন হলো বিজ্ঞাপন কতটা ব্যাক্তিগত আর কতটা সমষ্টিগত, আর বিজ্ঞাপনের ভাষা কতোটুকু আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টিরা সাথে যায়। অথবা কতোটুকু শ্রবণযোগ্য, কতোটুকুই বা দৃষ্টিকটু!
বিজ্ঞাপন কতটুকু হৃদয়কে স্পর্শ করে থাকে তা আমরা সাইন পুকুর হোল্ডিং এর বিজ্ঞাপন পা পিছলে তোমার আর পা ভাঙবেনা মা, যারা দেখেছি তারা বলতে পারবো কিংবা বারজার পেইন্টের বিজ্ঞাপন সোয়ার রুমটা নীল হবে, আকাশের মতো! গুলোতে দেখতে পেতাম। বিজ্ঞাপন গুলো যেমন দৃষ্টি নন্দন ছিলো তেমনে প্রায় প্রতিটা বিজ্ঞাপনে একেকটা মেসেজ থাকতো, আর ভাষা ছিলো সাধারণ কিন্তু অনুভূতির গভীরে গিয়ে নাড়া দিতো।
কেউ যদি আমার গায়েও এসিড মারে, মা? এই এক স্লোগানে পালটে গেছে এসিড আক্রান্তের সংখ্যা এবং সন্ত্রাসের চিত্র। তোমার দোকানে কী ওরস্যালাইন আছে? আছে মানে এসএমসির ওরস্যালাইন ই আছে, আহ, জীবনটা বাঁচায়লা! এই একটা বিজ্ঞাপন বাংলাদেশে ডায়রিয়া রোগে সচেতনা শুধু বাড়ায়নি, কমিয়ে এনেছে মৃতুর সংখ্যা।
বাংলালিংক এর দিন বদলের বিজ্ঞাপন আপামর জনসাধারণকে নাড়া দিতো, গ্রামীণ ফোনের ফিরে চল মাটির টানে ও ভালো ছিলো, সবচেয়ে টাচি ছিলো সিটিসেল এর কাস্টমার কেয়ারের বিজ্ঞাপন টা। অথচ সিটিসেল আজ বিলুপ্ত কোম্পানি। প্রথমে যেটা বলছিলাম, কোম্পানির সফলতা শুধু বাহারি নজরকাড়া বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করেনা আরো অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে।
ইদানিং বিজ্ঞাপনের ভাষাগুলো কিছুটা তার জৌলুস হারাচ্ছে। এখন বলা হচ্ছে ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, আগে বলা হতো লুক এ্যাট মি! এখন প্রায় সব বিজ্ঞাপনই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে চলে আস যৌনতা। এমনকি পানির বিজ্ঞাপনও বাদ যায় না। দেশ প্রেমও অনেক সময় বিজ্ঞাপনের পণ্য হয়ে যায়, যা আমরা ক্রাউন সিমেন্টের মতো বিজ্ঞাপন গুলোতে দেখতে পাই।
তাই আমিও শঙ্খ ঘোষের মতো বলতে চাই
"ক্লান্ত আমার মুখোশ শুধু
ঝুলতে থাকে বিজ্ঞাপনে"।
Source Pixabay