শুক্রবার সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো একটা দিন নয়
মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা অনেকটা ঈদের দিনের মতো। টিন এজার দেরও আনন্দের দিন কারণ ওরা ওদের বাবার দেখা পায়। সপ্তাহে বাকি ছয়দিন তো ওরা নেট ব্রাউজ করতে কীতে দুনিয়া উদ্ধার করে তাই দেরিতে ঘুম থেকে উঠে। এর ভিতর ওদের একমাত্র উপার্জন কারী ব্যাক্তি তাদের বাবা অফিসে চলে যায়। শত কষ্টেও যে বাবা ছেলেমেয়েদের মুখে একটু হাসি ফুটাতে ব্যস্ত।
কখনো বা, বড়োলোক বন্ধু-বান্ধব এর হাতে দামি গেজেট দেখে বাসায় গিয়ে মা-বাবার কাছে বায়না ধরে কিনে দেয়ার জন্য। এদিকে বাবার পায়ের জুতাটা হয়তো সেলাই করে হয়তো মাস পার করছে। ঐদিকে তাদের খেয়াল নেই। শুক্রবার বলে হয়তো ছেলেটি বাবার কাছ থেকে হাজার টাকা খসিয়ে বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যায়।
চাকরিজীবী বাবা-মা হয়তো দুপুরে একসাথে খাওয়ার জন্য কিছু ভালো-মন্দ রান্না করে, কিন্তু আদরের সন্তানরা হয়তো জরুরী কাজ আছে বলে বের হয়ে রাতরে ফিরে বাসায়। কিছু আহ্লাদি সন্তান তো মা-বাবার মুখের উপর বলেই দে, যখন যা চাই তখনই তোমাদের কাছে টাকা থাকেনা। অনেক সময় বলে কী আর ভালো-মন্দ রান্না করছো, বয়লার মুরগী ছাড়া আর কী বা খেতে দাও।
আজকের দিনে মধ্যবিত্ত আর বিশ বছর আগের মধ্যবিত্তের মাঝে অনেক পার্থক্য। আগের মধ্যবিত্ত শ্রেণি এতোটা ভোগে বিশ্বাসী ছিলোনা, যতোটা এখনকার মধ্যবিত্তের মাঝে দেখা যায়। আগে পারিবারিক বন্ধনগুলো অনেক মজবুত ছিলো, ভালো ছিলো। আর এখন, কোন রকম ভালো একটা চাকরি পেলে বিয়েটা করে আলাদা হয়ে যাওয়াই এক মাত্র আরাধ্য।
যারা শুক্রবারকে উপভোগ করার চেয়ে বৃহস্পতিবার রাতকে উপভোগ করে বেশি। রাত টাই তাদের কাছে করপোরেট! আহ্লাদে সন্ধ্যার খাবারকে ডিনার বলে জাতে উঠার আপ্রাণ চেষ্টা করে। এবং এটা নিজেদের স্ট্যাটাস মনে করে। কিন্তু এতে যে নিজস্বতা বলে কিছু নেই তা তারা ভুলে যায়।
বর্তমান সময়েও বিশ বছর আগের মধ্যেবিত্ত আছে যাদেরকে আমরা নিরেট মধ্যবিত্ত বলতে পারি। যাদেট বাসায় এখনো পত্রিকা রাখা হয়, এখনো বই পড়া হয়, কিংবা এখনো প্রায় প্রতি শুক্রবারে মুরগি মাংস রান্না হয় আর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য মধ্যেবিত্ত লোকের নাকে লাগে সে সুভাষ! যারা এখনো রাতের বেলা একসাথে খায়। আহা মধ্যবিত্ত, আহা শুক্রবার!! বেঁচে থাক নিরেট মধ্যবিত্ত পরিবার, বেঁচে থাক শুক্রবার!!
Source Pixabay