বাহিরে বেশ বৃষ্টি, একেবারে কুত্তা-বিড়াল বৃষ্টি যাকে বলে, ঠিক সেই রকম বৃষ্টি হচ্ছে। কবির হন হন করে ছাতা বন্ধ না করেই সিড়ি দিয়ে তিন তলায় উঠে যাচ্ছে। কী আশ্চর্য, দেখে চলতে পারেন না, এই ভাবে কেউ ছাতা বন্ধ না করে সিড়ি দিয়ে উঠে? রুপার বিরক্তি মাথা প্রশ্নে কবিরের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। মেজাজ খারাপ হওয়ারও যথেষ্ট কারণ আছে। একে-তো সকাল বেলায় বৃষ্টিতে ভিজে বাজার করা তার উপর অপরিচিত মেয়ে যদি এইভাবে বলে!
শুনেন দু'হাতে বাজারের ব্যাগ, ছাতা বন্ধ করতে তো আর একটা হাত লাগবে, আমার তো আর আপনার মতো অযুহাত নেই যে তা দিয়ে বন্ধ করতে পারবো! আপনি একটু দেখে গেলেই তো শাড়িতে কাদা লাগতোনা, কবির উত্তর দে। কবিরের উত্তর শুনে রুপারও মেজো তিরিক্ষি হয়ে যায়, একে তো অনার্সের প্রথম ক্লাস তার উপর বৃষ্টি। শাড়ি পড়ে রেডি হয়ে আছে বেরসিক বৃষ্টির দরুন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, এখন আবার শাড়িতে কাদা লেগে আছে!
রুপা কিছু একটা বলতে চায়, কবিরের তা শুনার সময় কোথায়, বাজারে যাওয়া তার দু'চোখের বিষ তারপর বৃষ্টিতে ভিজে যা-তা অবস্থা। বাজার থেকে এসে আগে গোসল সারা চায় কবিরের তারপর অন্য কিছু। রুপা গলা ছেড়ে বলপ আপনার মতো অশিক্ষিত লোক কম দেখছি, মেয়েদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় তাও শিখেন নি। এইসব কথা কবিরের কান পর্যন্ত পৌছায় না। কবির কেবল একটা কথা শুনছে তাহলো অশিক্ষিত। যাক পরে দেখা যাবে শিক্ষিত, অশিক্ষিতের ব্যাপার। আগে গোসল করা চাই।
কবির গোসল সেরে নাস্তা করতে করতে তার মাকে বলতেছে, মা পাশের বাসায় নতুন ভাড়াটিয়া আসছে না-কি? কেন কী হয়েছে মাজেদা বেগম চা নাড়তে নাড়তে জিজ্ঞেস করে। কী আর হবে, তোমার ছেলেকে অশিক্ষিত গালি দিছে, এক মেয়ে। তা মেয়েটা দেখতে কেমন? দেখতে শুনতে ভালোই তবে আচার ব্যাবহার তো ঠিক নাই। কেনো তোকে আর কিছু বলছে কিনা, বলছে আমি নাকি দেখে শুনে চলতে পারিনা!
আচ্ছা এই ব্যাপার, না নতুন ভাড়াটিয়া তো আসেনি, তবে তুই যেভাবে বর্ননা দিলি তাতে তো মনে হচ্ছে রুপার কথা বলছিস, মাজেদা বেগম উত্তর দে। কোন রুপা, তুমি তাকে কী করে চিনো৷ কবির মাকে জিজ্ঞেস করে। রুপা তোর বাদল ভাইয়ের শালী, আমাদের পাশের বাসায় থাকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ভর্তি হয়েছে, ও আজ না শনিবার
আজ তো ওর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস। মেয়েটা এখন কীভাবে যাবে, ওর শাড়িট যে নষ্ট করে দিলি?
মা তুমি ও না! কোথায় তোমার ছেলেকে অশিক্ষিত বলছে, তার বিচার না করে, তুমি মেয়েটার শাড়ির কথা চিন্তা করছো? শুন মেয়েটার আজ ওরিয়েন্টেশন ক্লাস তার জন্য চিন্তা করছি। তাই তো জীবনে এইরকম দিন তো আর আসবেনা। কবির চিন্তা পড়ে গেলো।
শুক্র, শনি দুই দিন কবিরের অফিস বন্ধ, আজ শনিবার কবির চিন্তা করতে লাগলো রুপার মন খারাপ টা কীভাবে ভালো করা যায়। যে চিন্তা সে কাজ, কবির দেখছে, বিকেল বেলায় বাদল আর তার বউ বাহিরে ঘুরতে গেছে, রুপা যায়নি। সে আড়ং থেকে একটা শাড়ি এনে রুপাদের বাসার কলিং বেল বাজায়, রুপা দরজা খুলতে কবিরকে দেখে একটু লজ্জা পেয়ে গেলো, আসলে আমার এইভাবে আপনাকে অশিক্ষিত বলা ঠিক হয়নি রুপা বলে। আসলে আমি বুঝতে পারিনি, ক্ষমা করে দিবেন রুপা যোগ করে। কবির আড়ংয়ের শাড়িটা রুপার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে, শাড়িতে আপনাকে সুন্দর দেখায়, তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন?
Source Pixabay