সেদিন বিকেলে, একটি আটপৌড়ে দার্শনিক ভাবনার মাথার ওপর দিয়ে, আচমকা সাঁই করে উড়ে গেল একটা দমকা হাওয়া, এমনই ক্ষীপ্রতা তার মুঠোয়, যেন ছিড়ে নিয়ে এসেছে অতি গোপন গচ্ছিত কোন দৌলত, চারিপাশ থমথমে করে দিয়ে সে হাওয়ার সঙ্গী হবে একটি মৃত্যু-গন্ধী মেঘ, একটি সাদা বক কেঁদে উঠবে বধুটির জন্য যার পাশ বিছানায় তখনো রয়ে গেছে ওম, আর শিশুটির জন্য যার মুখ থেকে শেষবারের মত উচ্চারিত হবে 'আব্বু', ভয়ার্ত ও বিদায়ের সুরে৷
রাস্তা পার হতে হতে অতি অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া আমাদের জীবন, নদী পার হতে হতে লঞ্চে ঘুমন্ত ডুবে যাওয়া আমাদের জীবন, সমস্ত অসহায়ত্ব ও ব্যর্থতা নিয়ে সিলিং থেকে ঝুলে থাকা আমাদের জীবন তবু থমকে থাকে না, শুধু অতি পরিচিতের মত মৃত্যু এসে পাশে বসে থাকে৷ জন্ম থেকে যে আমাদের চোখে চোখে রাখে, আমাদের বেড়ে ওঠা, তারুণ্য যৌবন, প্রেম, সংসার, অর্থকষ্ট, অসুস্থতার নীরব সাক্ষী হয়ে একদিন হঠাৎ এসে পুরনো বন্ধুর মত বলে 'চল, ঘুরে আসি'৷
Screenshot taken from the film Source
মূলত 'আত্মহত্যা' নয়, আমাদের মনের গভীর হতে আত্মহননের যে চিন্তাটি, প্রতিনিয়ত এসে করোটিতে মৃদু মৃদু চাপ দিতে থাকে, যেন সমুদ্র, সমুদ্রের অবিশ্রান্ত ঢেউগুলো যেমন আছড়ে পড়ে ভেঙে যায়, সাদা ফেনায়...
সমস্ত জীবন যার অপেক্ষার, কিছুই ঘটবে না' এই সত্য উপলব্ধির পরেও, মূলত অপেক্ষা আকাঙ্ক্ষিত সেই লগ্নের, যেই প্রহর হতে আর অপেক্ষা করতে হবে না নতুন কোন 'অপেক্ষা'র...
খুকুর আধভেজা জামার ওপর বিকেলের রোদটা যেমন তেরচা হয়ে পড়ে ঠিক তেমনি করে একটি অসম্পূর্ণ দার্শনিক চিন্তার ওপর আলো এসে পড়ে রয়েছে৷ ভোরের আজান শুনে জন্ম নিয়েছে যে শিশু তার কোমল চোখ থেকে ঠিকরে বেরুনো অপার্থিব সে আলো পৃথিবীর পথে প্রান্তরে যেতে যেতে ঘুমিয়ে নিয়েছে পাখিদের ডানায় শুয়ে, ঘুম ভেঙে উঠে দুপুর বয়স্ক সেই আলো খুঁটে খেয়েছে কিছু ছায়ার জীবাস্ম, তড়িঘড়ি উঠতে গিয়ে ছিটকে পড়েছে ভীড় বাসের হ্যাণ্ডেল থেকে, বিকেল বয়েস হলে যে আলোর চোখে জমবে ধুলো, সন্ধে বয়সে ঘরে ফিরবার তাড়া নিয়ে পাড়ার টিপকলে ক্লান্তি ঝেড়ে যেই চুপিচুপি পা বাড়াতে যাবে ঠিক অমনি কাঁধে হাত রেখে চিরকালের বিস্মৃত সেই বন্ধুটি এসে বলবে - চল৷