রেইনার ভার্নার ফাসবিন্দার, আমেরিকান মেলোড্রামা বিশেষ করে Douglas Sirk দ্বারা ভীষণ অনুপ্রাণিত ছিলেন৷ মানব সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নির্দিষ্ট সেটে ডায়লসর্বস্ব ফিল্ম বার্গম্যান-সহ অনেক গ্রেট ফিল্মেকারই নির্মাণ করে গেছেন৷ সেক্ষেত্রে পেত্রা ভন কান্তের বিশেষত্ব কী?
বিশেষত্ব আছে৷ কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যখন কেউ নতুন শিল্প সৃষ্টি করতে চায়, নতুন সৃষ্ট সে শিল্প অনুপ্রাণিত হয়েও যদি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়, তখন তাকে জিনিয়াস বলে আর ফাসবিন্দার হলেন সিনেমাজগতের তেমনি এক জিনিয়াস এবং একইসাথে 'নিউ জার্মান সিনেমা' মুভমেন্টের অন্যতম পথিকৃত৷ মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়েসে নিজেকে শেষ করে দেবার আগে, দুই যুগের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে একের পর এক নির্মাণ করেছেন প্রায় চল্লিশেক ফিচার ফিল্ম, বার্লিন আলেক্সান্দারপ্লাটজ-এর মতো মনুমেন্টাল টিভি সিরিজ৷
Picture Source
জীবনের শুরুটা যেহেতু থিয়েটার দিয়ে, প্রথম দিককার সিনেমাগুলোর সেট ডিজাইনে সে প্রভাব স্পষ্টত চোখে পড়ে৷ বার্গম্যানের চরিত্রগুলোর মতোই জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে সর্বদা দ্বিধাবিভক্ত মাঝবয়সী এক ফ্যাশন ডিজাইনার- একমাত্র সঙ্গী মার্লিনকে নিয়ে যার বসবাস সেই দুঃখিনী পেত্রা ভন কান্ত তার দুঃসহ একাকীত্বের, অসহায়ত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির আশায় প্রেমে পড়ে আরেক নারী চরিত্র কারিনের৷ ঘটনা এটুকুই। ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয় কারিনের নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠার সাদামাটা গল্পগুলো, তার সহজ সরল জীবনদর্শন আর অন্যদিকে পেত্রা ভন কান্তের অতি জটিল জীবনাখ্যান, যে তার ক্ষমতা বলয়ের ভেতর স্বেচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায় ঢুকে পড়া সবকিছু রাখতে চায় নিজের নিয়ন্ত্রণে৷ অথচ তার ফাঁপা জীবনটাই যে পরিচালিত হয় একগুচ্ছ ব্যর্থ প্রেমের টানাপোড়েনে এবং যে জীবন স্নেহময়ী মা, সন্তান ও প্রেমিকার করুণাধারায় মিশে থাকে৷
বিখ্যাত জার্মান সিনেমাটোগ্রাফার ও ফাসবিন্দারের দীর্ঘদিনের কোলাবরেটর Michael Ballhaus এর অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফির পাশাপাশি ফাসবিন্দারের সিনেমার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চরিত্রগুলোর উজ্জ্বল কস্টিউম৷ অথচ সবার গায়ে রঙিন পোশাক ঝলমল করলেও মার্লিনের গায়ে শোকের কালো পোশাক৷ সিনেমাজুড়ে একটাও কথা না বলা মার্লিন হয়তো পেত্রার দুঃখগুলোর রুপক৷