ছন্দোবদ্ধ উর্দু শব্দগুচ্ছ যেন ব্যথাতুর প্রেমিকের অভিমান বুকে নিয়ে নিষ্পলক চেয়ে থাকে মনোযোগী পাঠকের দিকে৷ দোধারি তলওয়ারের মত ঝলকে ওঠে তার উচ্চারণ, কিন্তু তবুও অতি শ্রুতিমধুর সে ভাষা৷ দ্ব্যর্থক অভিব্যক্তিময় বাক্যগুলো যেন অনুরণিত হতে চায় বারবার, পারস্পরিক দ্বন্ধময় অর্থগুলো আমাদের শাব্দিক গোলকদাঁধায় আটকে দিতে পারে, কেননা কাব্যের এই জলসায় কবির রক্তে দুহাত রাঙিয়ে তন্বী প্রেমিকারা নেচে যায় সারারাত৷
(গালিবের মূল উর্দু কবিতা)
ইয়ে না থি হামারি কিসমত কে ভিসাল-এ-ইয়ার হোতা
আগার অওর জিতে রেহতে ইয়াহি ইন্তিজার হোতা৷
তেরি ভাদে পার জিয়ে হাম ইয়ে জান ঝুট জানা
কি খুশি সে মর না জাতে আগার এইতবার হোতা৷
কোয়ি মেরে দিল সে পুছে তেরে তীর-এ নিম- কাশ কো
ইয়ে খালিশ কাঁহা সে হোতি জো জিগার কে পার হোতা৷
(অনূদিত কবিতা)
আমার এমন মন্দ ভাগ্য, তোমায় পাবো সাক্ষাতে
এসবই ভুলভ্রান্তি, প্রহরবিহীন অপেক্ষাতে
জীবন গুজার, লেখাই ছিল কিসমতে৷
জীবন রেখেছি বাজি করে মৃত্যুকে তাচ্ছিল্য
সত্যি নয় এক রত্তি, যদি হতে বিশ্বাসযোগ্য
প্রাণের মায়া ছেড়ে দিতাম শিশুতোষ সারল্যে৷
যদি হতেম এফোঁড়ওফোঁড় তোমার ছোঁড়া তীরে
ভালোই হতো, কিন্তু এখন আধছোঁড়া তীর বিঁধে
মৃত্যুও নয় জীবনও নয় এমনি যন্ত্রণা...
উর্দু কবিতার রাজাধিরাজ মির্জা গালিব৷ বাঙলা ভাষায় অসংখ্যবার অনূদিত হয়েছে গালিবের কবিতা৷ মির্জা সাহেবের শায়েরির মাতাল রস আস্বাদনের লোভ সামলানো যে বড় দায়৷ শত দ্বিধা মনে নিয়ে তাই আমার এই খামখেয়াল অনুবাদ প্রচেষ্টা...
আন্দ্রেই তারকোভস্কি বলেছিলেন - কবিতা কখনো 'ট্রান্সলেট' করা যায় না৷ মূল ভাষা থেকে কোন কবিতা যখন ভাষান্তরিত হয়, তখন তার রস, রূপ ও ছন্দে যে পরিবর্তন আসে, তা কতোটা মূল কবিতার ভাবার্থকে ধারণ করতে পারলো, আদৌ করলো কিনা - তা নিয়ে সংশয় থাকেই বৈকি৷