জানালা দিয়ে সাঁই সাঁই করে বাতাস ঢুকছে। বিকাশ জানালাটা লাগায় না। সন্ধ্যায় বাসে উঠেছে বাড়ি যাওয়ার জন্য। কাল থেকে পূজার আনুষ্ঠানিক শুরু, আজ ওর বোনের বাসায় যেয়ে কাল তাকে সাথে নিয়ে বাড়ি যাবে। ওর বোনের বাড়ি তাদের বাড়ি থেকে বেশি দুরে না এই ত্রিশ মিনিটের মতো লাগে যেতে। বিকাশ জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছে।
হঠাৎ মোবাইলের রিং বেজে উঠে। বিকাশ মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠা নাম্বারটা চিনে না। সে কল রিসিভ করলে ওপাশ থেকে একটা পুরুষকণ্ঠ বলতে থাকে
:হ্যালো, বিকাশ বলছেন?
: জী বিকাশ বলছি। কে বলছেন?
: আমি রহিম গ্রুম থেকে বলছি।
: জী। বলেন।
: আপনি আমাদের কাছে ম্যানেজমেন্ট ট্রিইনি পোস্টের জন্য সিভি মেইল করছিলেন।
: জি,হ্যা।
: আগামীকাল আপনাদের সাক্ষ্যৎকার গ্রহন করা হবে। আপনি কি আসতে পারবেন?
: জী, হ্যা পারবো। কয়টা বাজে উপস্থিত থাকা লাগবে?
: সকাল দশ টায়।
: জী আমি উপস্থিত থাকবো।
মোবাইলের কলটা কেটে বিকাশ ভাবতে থাকে, কি করবে? সে ইত্যিমধ্যে অর্ধেক পথ চলে এসেছে। কিন্তু চাকরি টা তার খুব ই জরুরি। অনার্স শেষ হয়েছে চার বছর। সরকারি চাকরির চেষ্টা করে সে সফল হয় নি। অনেকগুলো কোম্পানি তে সিভি পাঠিয়ে কোনো সাড়া পায় নি সে। তার উপর মাথার আকাশ ভেঙে পড়ে যেদিন আহনা ফোন করে বলে আসছে পূজার পর বাসা থেকে বিয়ে ঠিক করে ফেলবে।
: তুমি কিছু একটা করো।
: আমি তো চেষ্টা কম করছি না।
: আমি জানি না এতোকিছু। তোমার সরকারি চাকরি করার দরকার নাই। যে কোনো একটা কিছু করো। আমি যেনো বাসায় বলতে পারি। নয়তো আমার আর কিছু করার থাকবে না।
কথাগুলো বলে অহনা ফোন কেটে দেয়। বিকাশ অকুলপাথারে পরে। সে কাকে বলবে? তেমন পরিচিত কেউ নেই যাকে বলবে একটা চাকরি দিবে। এসব ভাবতে ভাবতে সে নিশানকে ফোন দেয়। তাকে সব কিছু খুলে বলে। নিশান তাকে একটা সিভি পাঠাতে বলে আর সে দেখবে কল কেটে দেয়। ভার্সিটি জীবনের সব চেয়ে ভালো বন্ধু নিশান। সে যেহেতু বলেছে কিছু একটা হবেই।
পরের দিন দুপুরেই নিশান কল দেয়। কল রিসিভ করা মাত্রই নিশান বলতে থাকে
: তুই কোথায়?
: রুমে।
: প্রান্তিক আয় এখনই।
: এখন? পরে গেলে হয়না।
: না এখনই আসতে হবে, আমি অপেক্ষা করছি।
এই বলে ফোন কেটে দেয় নিশান। বিকাশ এখনো দুপুরের খাবার খায়নি। বিকাশ হাটতে হাটতে প্রান্তিক যায়। নিশানকে আরেকজন মানুষের সাথে কথা বলতে দেখে। নিশানের সাথের মানুষকে সে চিনতে পারে না। নিশান তাকে ডাক দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেয়। উনি বিকাশদের ক্যাম্পাসের বড় ভাই। নিশান তাকে জিবেনের চাকরির কথা বলেছে। তাই আজ বিকাশকে এখানে ডেকে এনেছে। বড় ভাই বিকাশকে বলে
: নিশান আমাকে সব বলেছে। সিভি ও পাঠিয়েছে।
: জী ভাই। একটা চাকরির আমার খুব দরকার।
: সমস্যা নেই। আমি সিভি ফরয়ার্ড করে দিয়েছি। দেখি কাল পরশুর মধ্যে কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।
বিকাশ বিদায় নিয়ে চলে আসে। বিকাশ অপেক্ষা করতে থাকে তিন চার দিন যায় কোনো কল আসে না। পূজার আর মাত্র দুই দিন বাকি। বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসা থেকে চাপ দিচ্ছে। এদিকে অহনার সাথেও কথা হয়নি বেশ কয়েক দিন আর কোন মুখ নিয়ে কথা বলবে সে। নিশান কে কল দেয় বিকাশ
: হ্যালো।
: হ্যা। দোস্ত বাড়ি থেকে কল দিচ্ছে। দুই দিন পর পুজা কিছুতো হলো না। পরশু বাড়ি যেতে হবে।
:আমি তো ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। আবার বলবো তুই ভাবিস না। তুই বাড়ি যা। পূজার পর পরই কিছু একটা হবে।
বিকাশ আর কিছু না বলে কেটে দেয়। নিশান কল দেয় সাথে সাথেই
: কিরে কি হলো? কল কেটে দিলি যে?
: না, ব্যালেন্স শেষ হয়ে গিয়েছিলো।
: আচ্ছা রাখি তাহলে। তুই বাড়ি থেকে ঘুরে আয়।
বিকাশ আর কিছু ভাবতে পারে না। সে বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। সন্ধ্যায় বাস বিকাশ তাই বিকেলেই বাসা থেকে রওনা হয়ে বাস স্টান্ড যায়। যেহেতু বোন কে সাথে নিয়ে যেতে হবে তাই বোন কে ফোন দিয়ে রেডী হয়ে থাকতে বলে। অহনাকে কল দিয়েছিলো কিন্তু রিসিভ হয় নি।
রহিম গ্রুম থেকে কল পেয়ে রহিম ভাবতে থাকে তার কি করা উচিত। সে কি নেমে যাবে নাকি বাড়ি যাবে। সে তো কোনো কিছু না ভেবেই হ্যা বলে দিয়েছে। এদিকে তার বোন তার অপেক্ষায় বসে থাকবে। হঠাৎ এক পশলা বাতাস এসে তাকে ভিজিয়ে দেয়। বিকাশ তাকিয়ে দেখে বাহিরে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে।