আসছে আগস্ট মাসের ১ তারিখ শুরু হতে যাচ্ছে দেশের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা অর্থাৎ কোরবানির ঈদ। আমরা , আমাদের পছন্দ মত পশু কিনে জবাই করি আল্লাহর রাস্তায়। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রতিটি গরুর বাজারে প্রচুর পরিমাণে গরুর রয়েছে। নেই কোনো ক্রেতা। বিক্রয় হচ্ছে না গরু, রয়েছে অনেক বেশি গরু ও ছাগল। নেই বাজারে কোন ক্রেতা। এখন অনেক মানুষই কুরবানী দিচ্ছেন না। রাজধানীসহ দেশের সব গরু বাজারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গরু ছাগল কিন্তু এই গরু ছাগল কিনার মত কোন লোক নেই । দাম কমছে সকল কুরবানির গরু ও ছাগলের।
গাবতলী হাটের সবচেয়ে বড় গরু বাংলার বস ৩০ লাখ টাকা,
এবারের ঈদে রাজধানী ঢাকার গাবতলী বাজারে সবচেয়ে বড় গরু যাকে বাংলার বস বলা হয়েছে তা বিক্রয় হচ্ছে ৩০ লাখ টাকা। দেশের এই অবস্থায় এই গরুর দাম নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে সারা বাংলাদেশ । তবে অন্যান্য গরু ছাগলের দাম রয়েছে অনেক অনেক কম। জিজ্ঞেস করেছিলাম কয়েকজন গোরি বিক্রেতাকে, তারা বলল যে যে গরু নিয়ে এসেছে গরুর দাম জিজ্ঞেস করে না । দেখি না কোন ক্রেতা, জানিনা কি হবে এই বার গরু কেনাবেচা।
গরুর ডিজিটাল হাট অর্থাৎ অনলাইনে গরু কেনাবেচা,
বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছে গরু বিক্রয় ডিজিটাল হাট। এতে বাংলাদেশের তিনজন মন্ত্রী এই ডিজিটাল হাট থেকে তিনটি গরু ক্রয় করেছে। গত শনিবার থেকে গাজীপুর জেলায় শুরু হয়েছে অনলাইন ভিত্তিক গরু কেনাবেচা।দেশের কিছু কিছু জায়গায় গরু বিক্রি করা হচ্ছে কেজিতে মাখলে পে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নেই কোন গরু-ছাগলের বিক্রয় এবং বিভিন্ন বাজারের তুলনামূলক খারাপ অবস্থা,
বন্দর নগরীর কোরবানির হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন
জেলা থেকে গরু আসা শুরু হলেও মহামারীর মধ্যে ক্রেতা সমাগম খুব কম।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারিরা শঙ্কিত হলেও হাটের ইজারাদাররা বলছেন, দুই দিনের মধ্যে বেশিরভাগ গরু চলে এলে বেচাকেনাও বাড়বে।
চট্টগ্রাম নগরীর স্থায়ী হাটগুলোতে কয়েকদিন আগে থেকেই গরু আসতে শুরু করলেও অস্থায়ী চারটি হাট বসেছে বৃহস্পতিবার থেকে।
বুধ ও বৃহস্পতিবার স্থায়ী হাটগুলোতে গিয়ে নগন্য সংখ্যক ক্রেতা দেখা গেছে, আর স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছিল ঢিলেঢালাভাবে।
সোমবার থেকে নগরীর স্থায়ী দুই হাট সাগরিকা ও বিবিরহাটে কুষ্টিয়া, মাগুরা, চাপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, নাটোর, রাজশাহী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হাটে গরু আসতে শুরু করে।
অস্থায়ী কর্ণফুলী হার্ট এর অবস্থান,
কমল মহাজন হাট, সল্টগোলা ও পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্ক সংলগ্ন গরুর বাজার বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে।
বুধবার বিকালে নগরীর সবচেয়ে বড় স্থায়ী হাট সাগরিকা বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রবেশ পথে কয়েকজন কিশোর-তরুণ দাঁড়িয়ে আছে। তারা ক্রেতাদের মাস্ক পড়ে বাজারে ঢুকতে বলছে।
গরু বাজারে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি,
তবে বাজারের ভিতর লোকজনের মুখে তেমন মাস্ক দেখা যায়নি। কারও মাস্ক পকেটে আর বাকিদের থুতনিতে।
কুষ্টিয়ার সাগরিকা গরু বাজার এর অবস্থান,
সাগরিকা গরুর বাজারে কুষ্টিয়া থেকে ১৬টা গরু নিয়ে আসা দেলোয়ার বলেন “২০ বছর ধরে কোরবানিতে এই বাজারে গরু নিয়ে আসি। এবারের মতো অবস্থা কোনো সময় দেখি নাই। গত তিন দিনে আটটা গরু বেচা হইছে। আরও আটটা আছে। কিন্তু বাজারে গরু কেনার লোক নাই।”
৪০ বছর ধরে সাগরিকা বাজারে গরু রেখে বিক্রি করেন বেপারি আবুল কাশেম। দেশি আর ভারতীয়সহ বিভিন্ন জাতের ১৬০টি গরু আছে তার।
আবুল কাশেম বলেন, “করোনার কারণে গত তিন-চার মাস ধরে এমনিতেই গরুর বেচা নাই। ভাবছিলাম কোরবানিতে বেচা হলে ক্ষতি কমবে।
“কিন্তু গরু কিনতে লোকজন এখনো খুব একটা বাজারে আসেনি। এতগুলো গরুর ডেইলি খাবার খরচ অনেক টাকা।”
সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুরুতে করোনার কারণে অনেক বেপারি আসতে রাজি ছিল না। গত পরশু থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার গরু আসতে শুরু করেছে। বেপারিদের সাথে কথা হয়েছে, শনিবারের মধ্যে বেশিরভাগ গরু চলে আসবে। ৩০ শতাংশ গরু এসেছে। বাকি গরু দুই দিনের মধ্যে চলে আসবে আশা করি।”
বেচাকেনা কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “শহরের লোকজনের গরু রাখার জায়গা কম। যাদের জায়গা আছে ও ভিড় এড়াতে চান তারা এখন গরু কিনছেন। বাকিরা কিনবেন শেষ দিকে।”
স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সাইফুল বলেন,
স্যানিটাইজার, মাস্ক, হাত ধোয়ার সাবান, পানির ড্রাম সবকিছু আছে। বের হওয়ার পথও আলাদা রাখা হয়েছে।
নগরীর আরেক স্থায়ী হাট বিবিরহাটে বৃহস্পতিবার দুপুরে কোনো ক্রেতার দেখা মেলেনি।
সেখানে গরুর বেপারি ও রাখালরা অলস সময় কাটাচ্ছিলেন। কেউ কেউ গোখাদ্যের বস্তায় ভর দিয়ে ঘুমিয়েই পড়েন।
৩০টি গরু নিয়ে মঙ্গলবার মাগুরা থেকে এই হাটে এসেছেন লিটন মোল্লাসহ নয়জন।
হাটে তেমন কোনো ক্রেতা নেই জানিয়ে লিটন বলেন, “১১-১২ বছর ধরে চট্টগ্রামে আসি গরু নিয়ে। এবার অবস্থা খুব খারাপ। বিকেলের দিকে লোকজন কিছু আসে। গরু দেখে কিন্তু কিনে না।
“প্রতিদিন একটা গরুর জন্য দুইশ টাকা খরচ। আর আমাদের একজনের লাগে তিনশ টাকার খানা। এখনও একটা গরুও বেচা হয়নি।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরুর হাটের দুরবস্থা,
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২১টি গরু নিয়ে বিবিরহাট বাজারে এসেছেন কামরুজ্জামান। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি দেখে তিনি খুবই হতাশ।
কামরুজ্জামান বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে গরু ৮০-৮২ হাজার টাকায় কিনছি, এখানে কাস্টমার সেই গরুর দাম বলে ৭০ হাজার। কেমনে বিক্রি করব। এরমধ্যে শুরু হইছে বৃষ্টি। কাস্টমার আর আসেই না।”
এই বাজারে গরুর চেয়ে ছাগলের সংখ্যা ছিল বেশি। তবে ছাগলের ক্রেতাও ছিল না।
গণমাধ্যমকর্মীদের হাটে ঢুকতে দেখে স্যানিটাইজার আর হাত ধোয়ার সরঞ্জাম নিয়ে প্রবেশ পথের একপাশে বসেন ইজারাদারের লোকজন।
নূর নগর হাউজিং এলাকার কর্ণফুলী হাটের ইজারাদার আবদুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃষ্টিতে সবকিছু রেডি করতে একটু কষ্ট হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু আসতেছে।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা।
সারাবছর কসাই খানায় গরু বিক্রির সুযোগ থাকলেও ক্ষুদ্র খামারিদের লক্ষ্য থাকে কোরবানির হাটে বেশি লাভে পশু বিক্রি করার।
বিশেষ করে যারা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একটি বা হাতে গোনা কয়েকটি গরু লালন পালন করছেন, তারা এ বছর উপযুক্ত দামে গরু বিক্রি করতে পারবেন কিনা, সেটা নিয়ে সংশয়ে আছেন।
#মানিকগঞ্জ জেলার নগর গ্রামের বাসিন্দা আফরোজা আক্তার এর মতবাদ,
মানিকগঞ্জ জেলার ফোর্ডনগর গ্রামের বাসিন্দা আফরোজা আক্তার গত সাত মাস ধরে দুটি গরু লালন পালন করে আসছেন।
গরু দুটি তিনি কিনেছিলেন ৭০ হাজার টাকায়। প্রতি মাসে এই গরুর পেছনে তার খরচ হয়েছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
তিনি ভেবেছিলেন এবারের কোরবানির ঈদে ঢাকার পশুর হাটে ভালো দামে তার গরু দুটি বিক্রি করে লাভ তুলে নেবেন।
কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে লাভ তো দূরে থাক, এই গরু বিক্রি করে সারা বছরের খরচটাও তুলতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েই সন্দেহে আছেন।
"আমার তো ইচ্ছা ছিল অন্তত দেড় লাখ টাকায় গরু দুটো বেচবো। আগের বছরগুলায় এমন দামেই বিক্রি করসি। কিন্তু করোনার কারণে এবারে ওই দাম পাবো না। কিন্তু বিক্রি তো করতেই হবে। আরও এক বছর এই গরু খাওয়া চালানো সম্ভব না ।" বলেন মিসেস আক্তার।
বাংলাদেশে কোরবানির পশু বেচাকেনার চিরায়ত চিত্র বদলে দিয়েছে করোনাভাইরাস।
ঈদুল আযহার মাত্র দুইদিন বাকি থাকলেও ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসেনি এখনও। বেশিরভাগ মানুষই এবার অনলাইনে পশু কিনছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, মহামারির প্রভাবে গত বছরের তুলনায় অন্তত বিশ ভাগ কম পশু বিক্রি হবে এবারের ঈদে।
“মহামারিকালের এই ঈদে কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য থাকা বেশিরভাগ মানুষই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে গরু-ছাগল কিনছেন,” বৃহস্পতিবার বেনারকে বলেন কেন্দ্রীয়ভাবে কোরবানির পশুর হাট তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ আজিজুর রহমান।
ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকার বাসিন্দা কাজী রুবাইয়াত ইসলাম বৃহস্পতিবার বেনারকে জানান, তাঁদের ফ্ল্যাট মালিক সমিতি এবার কোরবানি দেওয়া যাবে না বলে নোটিশ দিয়েছে। ফলে তাঁর পরিবার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোরবানি দিচ্ছে।