আসসালামু আলাইকুম,
https://www.theprobashi.com/10680
প্রবাস নামটির সাথে অনেক অর্থ জড়িয়ে আছে, প্রবাসীর গল্পগুলো যেন আমাদের থেকে একটু আলাদা।প্রতিটা প্রবাসীর মনে হাজারো কষ্ট যন্ত্রণা নিয়ে আপন মানুষগুলোকে দূরে রেখে দিন দিন পার করছে।হাজার কষ্ট যন্ত্রণা সহ্য করেও পরিবারের সাথে হাসিমুখে কথা বলার নামই যেন প্রবাসী। একজন প্রবাসীর জন্য তার পরিবারটি সচল, হাজার প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে আমাদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সচল, কখনো কি একজন প্রবাসীর জীবন-যাপন সম্বন্ধে আমরা চিন্তা করেছি?
আমার পরিচিত একজন প্রবাসী 2020 জানুয়ারিতে দেশে আসে, উনি দেশে আসার পরে করোনা ভাইরাসের জন্য প্রাবাসে যেতে পারেনি,দীর্ঘ দশ মাস দেশে আটকে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করে, অনেক চেষ্টায় হাজার আশা-ভরসা স্বপ্ন নিয়ে আবার প্রবাসে পাড়ি জমায়।সেই আশা-ভরসার স্বপ্ন মুহূর্তে অম্লান হয়ে যায়,প্রবাসে গিয়ে নিজের কর্মস্থলে চাকরি হারায়, দীর্ঘ দশ মাস দেশে থাকা অবস্থায় তাঁর কোম্পানি তাকে চাকরীচ্যুত করে।
তখন ওই প্রবাসী চোখ মুখে যেন অন্ধকার নেমে আসে, প্রবাসে আসার সময় ব্যাংকের থেকে সুদের উপর টাকা নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমাতে হয়েছিল। এছাড়াও তার গর্ভবতী স্ত্রীকে দেশে রেখে যায়,গর্ভবতী স্ত্রী খরচ পরিবারের খরচ ব্যাংকের সুদের টাকা খরচ,প্রবাসী এইসব চিন্তা করে পাগলের মত হয়ে যায়।
কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না,তার একটাই চিন্তা ছিল সে একটা চাকরি করবে তার পরিবারকে সচ্চলভাবে চালাবে,কিন্তু প্রবাসে বাংলাদেশের মত যেন করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে চারিদিকে কোম্পানি গুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। সেখানে অল্প বেতনের চাকরি খুঁজে পাওয়াটা যেন মুশকিল হয়ে পড়েছিল।
তখন ওই প্রবাসের একজন বন্ধু তাকে একটি দোকানে চাকরি দেয়,ওই চাকরি কিছুদিন করার পর দোকানের মালিক তাকে আবার চাকরীচ্যুত করে দেয়, আবার দিশেহারা হয়ে পড়ে ওই প্রবাসী। প্রবাস মানে পর জায়গা এখানে কেউ আপন নয় যে তার কষ্টগুলো বুঝবে তার দুঃখ গুলো বুঝবে।
আবার মাস শেষ হলে পরিবারের খরচের টাকা এছাড়াও জোগাড় করতে হবে ব্যাংকের সুদের টাকা জোগাড় হবে। কোথা থেকে এ টাকা পাবে,?আবার যেন ওই প্রবাসী কালো অন্ধকার মেঘে জীবনে ছেয়ে গেছে। পাগলের মত প্রায় হয়ে গেছে ওই প্রবাসী,তখন আবার তার পরিচিত একজনের মাধ্যমে একটি কোম্পানির চাকরিতে ঢুকে বেতন কম হওয়া সত্ত্বেও ওই চাকরি করা শুরু করে।
তিন মাস চাকরি করে, ভাগ্যের কি পরিহাস তিন মাসে এক টাকাও বেতন দেয় নি ওই কোম্পানি, বড় কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন প্রবাসী এবং তার পরিবার।এরইমধ্যে প্রবাসী বেতন না পাওয়ার কারণে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের কাছে ধার করে করে তার পরিবার এবং ব্যাংকের সুদের টাকা চালাচ্ছিল।কিন্তু ওই প্রবাসী প্রবাসে কি অবস্থায় আছে তার পরিবারটা কটাক্ষ জানতে পারেনি।তারা জানে সে চাকরি করে বেতন দিচ্ছে।
হঠাৎ একদিন ওই প্রবাসীর মোবাইল বন্ধ থাকার কারণে তার বন্ধুর মোবাইলে ফোন করে তার পরিবারের সদস্যরা। তখন তারা ওই প্রবাসির সম্বন্ধে জানতে পারে কতটা কষ্টে দিনযাপন করছিল প্রবাস নামের জেলখানাতে।তার বন্ধু তার পরিবারকে জানাই বেতন না দেওয়ার কারণে বিভিন্ন মানুষের থেকে টাকা ধার করে দেশে পাঠিয়েছে, কিন্তু ওইদিকে প্রবাসী এক বেলা খেলে অন্য খেতে পারতো না। এতটাই কষ্ট জীবন যাপন করছিল ওই প্রবাসী।
এক বেলা রান্না করলে তিন চার বেলা খেত আবার অনেক বেলা না খেয়ে থাকত। তার পরিবারটিও ঠিক তেমনি কষ্ট করত। বন্ধুর কথা শুনে অনেক কান্নাকাটি করে অনেক কষ্ট পাই,তবে ওই প্রবাসী কখনো তার কষ্টের কথা তার পরিবারকে শোনায়নি, হাসিমুখে সবসময়ই পরিবারের সাথে কথা বলেছে। তবে শুনেছি এখন ওই প্রবাসী নাকি ভালো আছে,এখন একটি চাকরি করছে,তবে এর ভিতরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে প্রবাসী এবং প্রবাসীর পরিবারটি।
অনেক অনেক প্রবাসী আছে হাজারো কষ্ট যন্ত্রণা সহ্য করে নিজের পরিবারকে সচল রাখার জন্য দিনরাত চেষ্টা করে থাকে। আর এই প্রবাসীর কষ্টের উপার্জিত টাকা তার পরিবার মানুষগুলো বিনা কারণে অযথা খরচ করে। প্রবাসীর ছেলে মেয়ের হাতে ব্র্যান্ডের মোবাইল না থাকলে যেন তাদেরকে প্রবাসীর ছেলে মনে হয় না,তাই তারা সবসময়ই একটু আলাদা করে চলতে চাই। কখনো ওই পরিবারটি প্রবাসীর কথা চিন্তা করে না কত কষ্ট করে তার বাবা তার সন্তানে প্রবাস থেকে টাকা পাঠাচ্ছে।
প্রবাসে হাজারো প্রবাসী রয়েছে তাদের পরিবারকে আমার পক্ষ থেকে গভীর ভালোবাসা জানাই। প্রবাসী যেমন ত্যাগ স্বীকার করছে তার পরিবারটি ত্যাগ স্বীকার করে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখছে।
ধন্যবাদ, এতক্ষণ ধৈর্য ধরে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।