যারা বছরে অন্তত একবার গ্রামের বাড়ি যায়, তাদের কাছে "গ্রাম" শব্দটি শুনলেই নিজ গ্রামের অপরুপ সৌন্দর্য, ভালোলাগার অনুভূতি দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে।
আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নয় মোটেও। বছরে অন্তত একবার হলেও গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে যাওয়ার চেস্টা করি৷ সারাবছর অপেক্ষা করার পর ৪/৫ দিনের জন্য যখন সেখানে যাই, তখন মনে হয় বছরজুড়ে এ অপেক্ষা প্রকৃত অর্থেই সার্থক হয়েছে। আজ আমি আমার এই প্রিয় গ্রামের কিছু দৃশ্য তুলে ধরার চেস্টা করবো।
গ্রামে গেলেই সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি চোখে পড়ে, তা হলো সারি সারি কলাগাছ৷ প্রতিটি পরিবারেরই অন্তত দুইটি কলা গাছ যেন থাকবেই। আবার অনেকের বিশাল বাগান জুড়ে কেবল কলাগাছই রয়েছে। বিশেষ করে পুকুরপাড়ে সারি সারি গাছ লাগানো হয় যাতে পুকুরপাড়ের মাটি গাছগুলো ধরে রাখতে পারে।
এই ছবিটা আমার প্রিয় একটি ছবি। ছবিটি তুলেছিলাম কোনো এক শীতকালে, যখন সরিষা ক্ষেতের হলুদ বর্ণের ঝলকানিতে যেন পুরো এলাকা রঙিন হয়ে থাকতো, বিশেষ করে বিকেলের দিকে নীলাভ আকাশ, সবুজ প্রকৃতি, হলুদ ক্ষেত সব মিলিয়ে অসাধারণ এক আবহ তৈরি হতো।
এ তাল গাছটি আমাদের বাড়ির থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত। বিশাল মাঠের মধ্যে গাছটি যেন মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে বাকি সকল গাছগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা কাজিনরা প্রায়ই এদিকে এসে আড্ডা দিতাম।
এই দৃশ্যটি মনে হয় প্রায় প্রতিটি গ্রামেরই কমন একটি চিত্র। গ্রামের প্রায় প্রতিটি এলাকায়ই যতদুর চোখ চায়, কেবল মাঠ আর মাঠ দেখা যায়।
ফরিদপুর সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদীর ট্রলার ঘাটে গেলেই বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার ও যাত্রীবাহী ট্রলার দেখা যায়। তবে ছবির ট্রলারটি আমার মতে কিছুটা ব্যাতিক্রম। এত লম্বা ট্রলার আমি খুব একটা দেখি নি। তবে আমার মতে এটি মাছ ধরার ট্রলারই হবে।
আমাদের বাড়ির পিছনের পার্শ্ব থেকে তোলা ছবিটির সাথে কষ্টদায়ক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। গ্রামের অন্যান্য মাঠে বা ক্ষেতের মতো এই জায়গাটিও সবুজ-শ্যামল হতে পারতো, কিন্তু কোনো এক কারনে এ জায়গাটিতে আগুন লেগে সব গাছপালা পুড়ে যায়। এখনো গ্রামে গেলে ওই মাঠের দিকে তাকালে আমার এই দূর্ঘটনার স্মৃতি মনে পড়ে।
নিজ গ্রামের যে সৌন্দর্য, যে আবেশ, তার কাছে অন্য যেকোনো স্থানের রুপ-বৈচিত্র্য যেন হার মেনে যায়। অনেকেরই কর্মব্যস্ততার কারণে গ্রামে তেমন যাওয়া হয় না। অথচ, নিজ সত্তার শিকড়ের সান্নিধ্যে বছরে অন্তত একবারের জন্য হলেও যাওয়া উচিত
এই ছিলো আমার গ্রামের সৌন্দর্যের কিছু নিদর্শন। ধন্যবাদ সবাইকে সময় নিয়ে আমার পোস্টটিতে ভিজিট করার জন্য। হয়তো ছবিগুলো দ্বারা নিজ গ্রামকে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারি নি, তবে চেস্টা করেছি কিছুটা হলেও এখানকার রুপ-বৈচিত্র্য ছবি ও লিখনির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা। আজ থেকে হয়তো ৮/১০ বছর পর নিজ গ্রামের সাথে জড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিগুলো দেখে বর্তমান সময়ের আবেগগুলোকে আবার ফিরে পাবো।
(উপরের ব্যাবহৃত সবগুলো ছবি-ই আমার নিজ হাতে তোলা)
Device: Samsung Galaxy M30s