বই পোকা মানুষের খুব বেশি মানুষের সঙ্গ লাগে না। মানুষের ভিড়াভাড়-মেশামেশি-রেষারেষিতে খুব একটা খু্ঁজে পাওয়া যায় না এদের এ'সব কিছু থেকে দূরে, এক কোণে, কোনও নিরিবিলিতে বসে, একটা কেনও বইয়ের ডুব দিয়ে, সে বইয়ের প্রতিটা চরিত্রের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলে এরা।
না , আমি বই পোকা না কিন্তু ইদানিং বই পড়তে ভালো লাগে।জনসমাগম আমার ভালো লাগেনা , ইদানিং জনসমাগম এড়াতে আমি বই পড়ছি । একবার শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন আনচান করে ।
বইর উপরে জেগে ওঠা আমার এই প্রেমকে জাগিয়ে তোলতে আমি গেলাম "অংশু" তে। না এটা কোনো লাইব্রেরী না , এটা মূলত একটা রেস্টুরেন্ট । কিন্তু এর এক পাশ জুড়ে রয়েছে লাইব্রেরী , ইচ্ছেমতন বই পড়া যায় আবার চাইলে কেনাও যায় ।
তাকে তাকে বই সাজানো । সুন্দর এস্থেটিক জায়গা ।সুন্দর সুন্দর বই কেনা যায় আবার সুন্দর সুন্দর বই বিনা মূল্যে পড়াও যায়। সুবর্ণ সুযোগ কী আর ছাড় দেওয়া যায় ?!চার ঘন্টা থেকে আসলাম এই স্বর্গে ।স্বর্গই তো , বই পড়ুয়াদের জন্য বইয়ের স্বর্গ !
রয়েছে রবীন্দ্রনাথ এর সমস্ত লেখনী , কাজী নজরুল এর লেখনী , সমরেশ মজুমদারের লেখনী , হুমায়ুন আহমেদ এর লেখনী , জাফর ইকবালের লেখনীসহ ইংরেজ লেখকদের বইও ।
ইদানিং মনে হয় অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে বই কিনি , বই জমাই , খুব বিশ্বস্ত না হলে কাউকে বই ধার দেইনা, বইয়ের গায়ে আঁচড় লাগলেও ইদানিং মন কেঁদে ওঠে, পুরনো বইয়ের বুকে নাক ডুবিয়ে লম্বা একটা শ্বাস নেই , জমানো বইয়ের গায়ে হাত বোলাই ,বইকে বুকে জড়িয়ে ধরি। দিন দিন এ ভাবেই বইকে নিজের সব থেকে কাছের বন্ধু করে ফেলেছি...
ইদানিং আমার কাছে মনে হয় সম্পদ বলতে বইয়ের থেকে বড় কিছুই নয়।
অংশুতে সবাই খাচ্ছিলো যখন তখন আমি হুমায়ুন আহমেদ এর লেখা "অপেক্ষা" পড়ছিলাম । এতো এতো বই , এতো এতো বইর তাক ...আমি যেনো হারিয়ে যাচ্ছিলাম !
প্রায় দুই ঘন্টা বইর তাকে চোখ বোলাচ্ছিলাম আর মনে করছিলাম রাজশাহীতে এর থেকে সুন্দর জায়গা হয়তো দ্বিতীয়টা নেই । বই পোকাদের জন্য "অংশু" অনেকটা স্বর্গও বলা যায় ।
এমন না যে এখানের খাবারের মান ভালোনা , আমি নিশ্চিত যে এখানকার খাবার রাজশাহীর মধ্যে অন্যতম খাবার । খাবারের সাথে সাথে যে বই পড়ার একটা তুমুল সুযোগ এখানেই তো স্বর্গ পাওয়া ।
বই পড়ুয়াদের জন্য অংশু আসুক প্রতি শহরে শহরে।আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ , নিরাপদ থাকবেন , আশা করছি ভালো থাকবেন৷