হ্যালো বন্ধুরা
কেমন আছেন সবাই।আশা করি সবাই ভালো।আশাকরি সকলের দুর্দান্ত দিন কাটতেছে।
বন্ধুরা, সম্প্রতি আমি আমাদের গ্রামের নদীর তীর দিয়ে একটি ভ্রমণ করেছি।নদীর তীর ঘেঁষে ভ্রমণের সময় সকল আশ্চর্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা যায়।নদীর সৌন্দর্য নদীর আশপাশের সৌন্দর্য সত্যিই চমৎকার।তাই তীরে ঘেঁষে ভ্রমণের সময় আমি বেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম।ছবিগুলো আপনাদের মাঝে এখানে শেয়ার করলাম।
বন্ধুরা আপনারা জানেন আমি মোঃ আমিনুল ইসলাম।আমি সবসময় প্রকৃতির মাঝে ভ্রমন করতে ভালোবাসি।ভ্রমণের মাধ্যমে প্রকৃতির স্বাদ নিতে ভালোবাসি।প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে বেশ উপভোগ করি এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।আরো ভালো লাগে ফটোগ্রাফি করতে এবং লেখার মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করতে।এছাড়া আমি সব সময় নিজেকে প্রকৃতি প্রেমিক হিসাবে উপস্থাপন করতে ভালোবাসি।কারণ প্রকৃতি সুন্দর না থাকলে আমরা সুন্দর থাকতে পারবো না।আর প্রকৃতির সৌন্দর্য আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে ভালোবাসি।
তেমনি সম্প্রতি আমি আমাদের গ্রামের নদীর তীরে বেড়াতে গিয়েছিলাম।নদীর তীর ভ্রমণের সেই মুহূর্তগুলো এখন আমি আপনাদের মাঝে প্রকাশ করব।দিনটি ছিল শুক্রবার, তো বিকালে মন চাইলো প্রকৃতির মাঝে যাব এবং কিছু সময় কাটাবো।এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম গ্রামের নদীর তীরে যাই, নদীর তীরে খোলামেলা পরিবেশে ভালো লাগবে কিছু সময় কাটালে।কারণ আমাদের গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বাংলাদেশের ছোট একটি নদী নদীটির নাম এলংজানি।তো রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে গেলাম গ্রামের নদীর কাছে।
সংক্ষেপে বাংলাদেশের নদীগুলো নিয়ে কিছু কথা,
বন্ধুরা আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক একটি দেশ।কারণে এদেশে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য নদী।নদীগুলোর রয়েছে অগণতি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।নদীগুলো সম্পর্কে আমরা ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বইয়ে পড়ে এসেছি।আর আমাদের দেশের নদী গুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই চোখে পরার মতো।নদী ও নদী গুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে অনেক লেখক কবিতা লিখেছেন, গল্প লিখেছেন।আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য গুলোর মধ্যে নদীর সৌন্দর্য অন্যতম।
যেমন ছোটবেলায় বইয়ে একটি কবিতা পড়েছিলাম- আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।যখনই গ্রামের নদীর তীরে যাই তখনই এই কবিতাটি মনে হয় যায়।
আবার মূল আলোচনায় ফিরে আসি,
তো বন্ধুরা সে'দিন শুক্রবার বিকালে আমি চলে গেলাম নদীর কাছে।নদীর কাছে গিয়ে আমি নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটা শুরু করলাম।নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটার সময় আমার খুব ভালো লাগছিল।যদিও এখন শীতকাল নদীর তীরে ঠান্ডা বাতাস রয়েছে, তবুও ভালো লাগে এরকম প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁটতে।নিরিবিলি এক মুক্ত পরিবেশ এমন পরিবেশে প্রাণভরে, মন খুলে নিশ্বাস নেয়া যায়। এখানে নেই কোনো দূষিত বাতাস রয়েছে শুধুই স্বাস্থ্যসম্মত প্রাকৃতিক বাতাস যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।নদীর তীরের মত এরকম প্রাকৃতিক পরিবেশে আমি ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিতে পারি।কারণ বর্তমান সময়ে শহরে জীবনে আমরা এরকম পরিবেশ পাইনা।
আমি যখন নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটছিলাম তখন কিছু কিছু দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি।আমি দেখেছি নদীর দু'পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।নদীর দু'পাশে বিভিন্ন ধরনের সবুজ উদ্ভিদ, ফুলগাছ ইত্যাদি রয়েছে।নদীর ওপার দূরে গ্রাম দেখা যাচ্ছে, নদীর দু'পাশে বিশাল খোলা জায়গা।নদীতে রয়েছে পরিস্কার ও স্বচ্ছ পানি।তবে দুঃখের বিষয় হল নদীতে পানি কম।যদিও বছরের এই সময়টাতে আমাদের দেশের নদীগুলোতে পানি একটু কম থাকে।তবে স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি কম থাকে।আর এই পানি কম থাকার আমার মতে একটি কারণ রয়েছে।আর তা হলো আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের দেওয়া ফারাক্কা বাঁধের কারণ।
আমি যতটুকু জানি আমাদের প্রতিবেশী দেশের সরকার প্রয়োজনমতো আমাদের দেশে পানি দেয় না, ফারাক্কা বাঁধ সময়মতো খুলে দে না।যখন বন্যার পানিতে তারা ডুবে যায় তখন শুধু ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয়, তখন আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পানি বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন অঞ্চল বন্যার পানিতে ডুবে যায়।কিন্তু আমরা চাই সারা বছর আমাদের নদীগুলোর সৌন্দর্য অটুট থাকুক এজন্যে ভারত সরকারের উচিত আমাদের প্রয়োজন মতো এবং সময়মতো পানি দেওয়া।তাতেই আমাদের নদীগুলোর সৌন্দর্য সবসময় থাকবে।
যাইহোক যদিও এখন নদীতে পানি কম তবুও আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলের ভিতর দিয়ে যে নদী গুলো প্রবাহিত হয়েছে, সেগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে সত্যিই মুগ্ধ হতে হয়।সত্যিই সেগুলো সম্পর্কে লিখতে ইচ্ছে করে।যেমন আমাদের গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া এলংজানি নদীর সৌন্দর্য দেখে আমি সবসময় মুগ্ধ হই।সেদিন শুক্রবার হাঁটতে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলাম।যার কারণে আমি সেখানে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছিলাম।এবং আমার ইচ্ছে হলো সেই শুক্রবার বিকেলে নদীর তীরে কাটানো মুহূর্তগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।তাই আজকে শেয়ার করলাম।
আমি যখন নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটছিলাম তখন আমার একটি দৃশ্য দেখে খুবই ভালো লাগছে, আর তা হল স্বচ্ছ পরিষ্কার পানির উপর দিয়ে কিছু হাঁস সাঁতার কাটতেছে এবং ডুব দিতেছে।সেই দৃশ্যগুলো সত্যিই মনমুগ্ধকর ছিল, দৃশ্যগুলো আমি খুবই উপভোগ করতেছিলাম।এরপর আমি সেখানে কিছু ছবি তুললাম।ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন হাঁসগুলো সাঁতার কাটতেছে।আমি প্রায় পুরো বিকেলটা নদীর তীরে ছিলাম এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগে আমি বাড়ী ফিরে এসেছিলাম।তবে নদীর তীর ভ্রমণের সময় আমি আমার নিজের হাতে তোলা এই ছবিগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেই।কারণ এই দৃশ্যগুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।তাই আমি আমার ব্যবহৃত মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্যগুলো ক্যাপচার করেছি।
তো বন্ধুরা এই ছিল এক বিকেলে আমার গ্রামের নদীর তীর ভ্রমণের গল্প।যেই ভ্রমণের সময় আমি গ্রামের নদী ও নদীর তীরের সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেছি এবং তা আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি।ছবিতে আপনারা গ্রামের নদী ও নদীর তীরের আশেপাশের সৌন্দর্য ইত্যাদি দেখতে পাচ্ছেন।আশাকরি ছবিগুলো আপনাদের ভালো লাগবে।আর বন্ধুরা আপনারা যদি গ্রামের নদীর তীরের এমন সুন্দর ও সবুজ পরিবেশে সময়টা কাটাতে পারেন, তাহলে দেখবেন মনটা সত্যিই ফ্রেশ হয়ে যাবে।এটা আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।সবশেষে আবার বলবো প্রকৃতিতে যান, জীবনটা উপভোগ করুন।
.....ভালো থাকুন সবাই, আবার দেখা হবে।