মানুষের সম্মান অর্জন করতে অনেক সময় লাগে, কারো পুরো জীবন টায় চলে যায় সম্মান অর্জনের পিছনে। কিন্তু পেছন থেকে যদি সম্মান হারিয়ে যাওয়ার রাস্তা রেখে যান তাহলে আর কি লাভ সেই সম্মান অর্জনের, তার পেছনে দেওয়া শ্রমের।
ছোটবেলায় এলাকায় প্রায়শই বিদ্যুৎ এর সমস্যা হতো, যেতে হতো বিদ্যুৎ অফিসে। বাড়ির পাশেই ছিল একজন কর্মকর্তা সেখানের, যার নাম নিলেই বাড়ি চেনা হয়ে যেত তাদের, কোথায় যেতে হবে, তাড়াতাড়ি সমাধান করে দিয়ে আসতে হবে, এসব কিছু। ওনি সেখানে সেরকম সম্মান টুকু অর্জন করেছে বিধায় তার রেফারেন্স দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যার জন্য আমরা প্রতিবেশীরাও বেশ খুশি ছিলাম। তিনি মারা গেলেন আজ থেকে প্রায় ৭-৮ বছর হবে। এখনো সেই অফিসে গিয়ে ওনার নাম বললে ঠিকানা চিনতে অসুবিধে হবেনা।
কিন্তু তার সম্মানটা কি আজো আছে? নাকি ওনার পরবর্তী প্রজন্ম তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। ছেলেপেলে সব ঢাকায় ব্যাবসা রয়েছে এবং সবচেয়ে বড় ছেলের মাদকের ব্যাবসা। কিসের মধ্যে কি চলে আসলো তাইনা? হ্যা। এলাকাবাসী যখন তার এই কুকর্মের জন্য অতিষ্ঠ তখন বারবার সতর্ক করার পর আজ মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিস থেকে কর্মকর্তারা এসে তাকে মারধর ও নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে নেয়।শারিরীক অসুস্থতার অজুহাতে এবারের মতো পার পেয়ে গেল অনেক নাটকের পর।
পুরো সমাজের সমানে জবানবন্দি দিয়েছে যে সে এসব ছেড়ে দেবে। আমি জানিনা সে এসব ছেড়ে দিবে কি দিবেনা। তবে এটা নিশ্চিত যে সমাজের মাঝে যা সম্মান ছিল সে ফ্যামিলির সব ধূলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে, যা আর শত চেষ্টায়ও ফিরে পাওয়া দুর্বিষহ।
একটা বাড়িতে এসে যখন কিছুদিন পরপর পুলিশ অভিযান চালায়, সমাজের মানুষের সামনে এরুপ গর্হিত কাজ করে চলছে, সমাজটাকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে সেখানে তাদের আর কিবা সামাজিক সম্মান থাকবে তা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। একটা মানুষের সম্মান অর্জন করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু সম্মান ধরে রাখার রাস্তাগুলো ঠিকমতো তৈরি না করে গেলে সেই সম্মান বেশিদিন থাকবে নাহ, বিলিন হয়ে যাবে।
আমার জীবনে এমন অনেক পরিবার দেখেছি, খুব ভালো ভালো পরিবারের সন্তান, বাবা-মায়ের সারা জীবনের সম্মান ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে নিমিষেই। নিজের পরিবার আর সমাজের চিন্তা না-ও করি তবুও ব্যাক্তিস্বার্থে আমাদের উচিত ভালো পথে চলা। যেকোনো পর্যায়ের খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকা।
ছেলে-মেয়ে কোন পথে এগুচ্ছে সেদিকে প্রথম থেকে একটু সচেতনতা ই পারে একমাত্র এরকম পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে। নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করতে হবে আমাদের যে, আমি কি আমার পরিবার,সমাজ ও নিজের জন্য দুর্নাম বয়ে আনছি নাতো। আমার কাজগুলো সমাজকে অর্ধ পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে নাকি পরিবর্তন আনছে ভালোর দিকে সেগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিবারের অর্জিত সম্মান টুকু বিলিয়ে দিতে হবে নাতো। সম্মান অর্জন না করতে পারি অন্তত অসম্মান যেন বয়ে না আনি সেদিকে সচেষ্ট হয়ে উঠলেই আসবে পরিবর্তন। পরিবর্তন আসুক সবার মাঝে, সবাই ভালো-মন্দ বিচার করে আমল করব সেই প্রত্যাশা রইলো।