বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ভরাডুবির মধ্যে মাঝে মাঝে কিছু চলচ্চিত্র ভালোই উত্তেজনা তৈরি করে, কোনো কোনটা প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো কিছু দেয় আবার কোনটা নিরাশ করে ছাড়ে। এইতো কিছুদিনের মাঝে বেশ কয়েকটা চলচ্চিত্র ভালো উত্তেজনা ছড়িয়েছে, কোনটা তাদের বাজেট দিয়ে কোনটা তাদের গান এবং বিভিন্ন জায়গায় দারুণ প্রচারণা দিয়ে। আলোচনা সমালোচনা মিলিয়ে বেশ জমজমাট একটা পরিস্থিতি, অপেক্ষার প্রহর গুনতে ছিলাম কখন নিজে দেখে নিজের একটা মতামত তৈরি করবো। নাজিফা তুষি এবং চঞ্চল চৌধুরী এর কিছু কাজ আমার বেশ ভালো লেগেছে এবং তারা আমাদের দেশের মিডিয়া জগতের প্রিয় কয়েকজনের মাঝের দু'জন, সেই সুবাদে "হাওয়া" দেখার প্রস্তুতি দু-তিনবার নিয়েও কোনো এক বিশেষ কারণে ভঙ হয়ে যেতো। অবশেষে আজ সময় বের করে দেখেই নিলাম।
"হাওয়া" মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত রহস্য নাট্যধর্মী একটি চলচ্চিত্র। চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি ছাড়াও শরিফুল রাজ আছেন, যার "পরান" চলচ্চিত্রটিও বর্তমানে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে, পরবর্তীতে সেটা দেখার ইচ্ছা আছে।
চঞ্চল চৌধুরী, সেখানে চান মাঝি নামে পরিচিত, যিনি তার সঙ্গে আরো মাঝিকে সঙ্গে করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্য ট্রলার নিয়ে যাত্রা শুরু করে, এরপর থেকে সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র সমুদ্রের মাঝেই দেখানো হয়েছে, যা ঘটেছে সেখানেই। মাছের বদলে তাদের জালে আটকা পরে এক মেয়ে মানুষের লাশ। প্রথমে মাছ, তারপর জ্যান্ত মেয়ে মানুষ এবুং তাকে নিয়েই মাঝ ধরিয়ায় তাদের যাত্রা। তারপর থেকেই ট্রলারে আসে একের পর এক বিপত্তি, প্রথমে আচ করা না গেলেও পরবর্তীতে ঠিকি বুঝতে পারে, ততক্ষণে বেশ দেরি হয়ে গিয়েছে। জীবন-মরণ টানাটানি, প্রতিশোধের তারনা, কারো মুখোশ উন্মোচন।
আচ্ছা ঠিকাছে, গল্প এইটুকুই, এর বেশী আগাতে গেলে স্পয়লারের সাথে সাথে পুরো চলচ্চিত্রের কাহিনী শেষ হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এটাই হবে, কাহিনী বেশ ছোট, সেটাকে কেমন যেন টেনে হিচড়ে দুই ঘণ্টা করা হয়েছে। হ্যাঁ, আনুসাঙিক অনেক ঘটনা দেখানো হয়েছে কিন্তু কাহিনীর রেশ এইটুকুই। নাজিফা তুষি এখানে গুলতি নামে রহস্যময় মেয়ে হিসেবে ট্রলারে আসে। তবে একটা বিষয়, চান মাঝি এবং গুলতি এর অভিনয়ের শুরু এবং শেষ এ বেশ পার্থক্য, তাদের রহস্যময় দিকটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে যেটা এই চলচ্চিত্রের মুখ্য দিক।
সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, কাহিনীটা এতটা ভালো লাগেনি, কেমন যেন রহস্যের মধ্যে রেখে শুরু করে অনেকটা রহস্যের মধ্যে রেখেই শেষ হয়ে গিয়েছে, আবছাভাবে ছোট্ট একটা কাহিনীকে অনেকটুকু টেনে নেওয়া হয়েছে। তবে আমি এটা বলবো যে তারা কিছুটা ভিন্ন করতে চেয়েছে, আনুসাঙিক অভিনয়, চলচ্চিত্র গ্রহণ, পরিচালনা সেগুলোতে বেশ উন্নতি সাধন করেছে। এই জিনিসটা ধরে রেখে সামনে এইরকম চেষ্টা চালিয়ে গেলে অবশ্যই ভালো কিছু আসবে বলে মনে করি।
"হাওয়া" চলচ্চিত্রের যে দুইটা বিষয় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে তা হলো তাদের গান এবং প্রচার-প্রচারণা। "সাদা-সাদা কালা-কালা" এই গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, ভরতে বলিউডের কোনো একটা চলচ্চিত্র বের হওয়ার আগেই দেখা যায় তাদের গানগুলো প্রচুর জনপ্রিয় পায় এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটির সফলতায় বেশ ভালো ভূমিকা রাখে, আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এরূপ এর আগে খুব কম দেখেছি, তাও অনেক বছর আগে। দ্বিতীয়ত তাদের প্রচারণা, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গিয়ে গিয়ে জমকালো আয়োজনের ফলেই মানুষজন হলে গিয়ে দেখার প্রতি একটা উৎসাহ পেয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে মেঘদল এর গাওয়া "এ হাওয়া" গানটি খুব ভালো লেগেছে, চলচ্চিত্রটি দেখে না যতটুকু সন্তুষ্ট তার চেয়েও বেশি তাদের গানগুলো আমার কাছে ভালো লেগেছে।
পরিশেষে এইটুকু বলবো, চলচ্চিত্রটি দেখার আগে সবকিছু মিলিয়ে যতটুকু আশা নিয়ে গিয়েছিলাম হলে সেটুকু পূরণ হয়নি, তারচেয়ে অনেক কম দিয়েছে। অনেকটা খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি এমন কিছু একটা হয়ে গিয়েছে। "হাওয়া" নিয়ে যা কিছু বলেছি এবং অবিজ্ঞতা হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে সামগ্রিকভাবে একে ৬/১০ দেবো। অনেকের কাছে পুরো অবিজ্ঞতা খুবই বাজে লেগেছে আবার অনেকের কাছে নাকি বেশ ভালো, আমি পরিশেষে বলতে চাই, যেরকমই হয়েছে এমন কাজ ধীরে ধীরে আরো আসুক, তবেই না আমার নিখুঁত কিছু পেতে পারবো ততদিন পাশে আছি।