ভ্রমণ কে না ভালোবাসে,সমাজের সবচেয়ে একগুঁয়ে মানুষটিও চায় নিসর্গ প্রকৃতির মাঝে ডুব দিতে। আমিও তার ব্যতিক্রম নয়। ভ্রমণ বরাবরই আমাকে আকৃষ্ট করে।সুযোগ পেলেই বন্ধু-বান্ধব ছুটে চলি ঘুরতে হোক সেটা কাছে কিংবা দূরে,বাসে কিংবা ট্রেনে। পকেটে যেরকম টাকা ই থাকুক একটা ভ্রমণ মন্দ নয়।
একে একে আজকে বেশ কয়েকটি ভ্রমনেরনেশা চেপে বসলে কি কি হয় তারই কিছু স্মরনীয় ভ্রমণ কাহিনী শুনাবো। লিখার সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল আর সবগুলো স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ভেড়াচ্ছি।
শুরু করা যাক পরিবারের সাথে।"আনন্দভ্রমণ" নামে নবাবপুর এর ব্যবসা সমিতি হতে একটি ফ্যামিলি ভ্রমণ এর আয়োজন করা হয় এই জানুয়ারি তে।সুস্থ পৃথিবীতে শেষ ভ্রমণ ছিল এটি। লঞ্চ ভাড়া করে সদরঘাট থেকে চাদপুর এর ভ্রমণ ছিল। ফ্যামিলির সবাই মিলে ওইদিন টা খুব উপভোগ করেছিলাম।খাওয়া দাওয়া,কনসার্ট,সবাই মিলে ছবি তোলা,নদির মধ্যে একদিন এ যেন হঠাৎ ই সবাই যান্ত্রিক জিবন থেকে নতুন সজিব জীবন ফিরে পাওয়া।
ভ্রমণনেশা যে কতটা পাগলামির সৃষ্টি করতে পারে তা এই ২০১৫ সালের একটা স্মৃতি তেই বোঝা যাবে। রোজার মাস ৪ বন্ধু হঠাৎ করেই সিধান্ত নিলাম ভৈরব যাবো ঘুরতে কিন্তু পকেটে তেমন টাকা নেই কি করা যায়।সকাল ৯.২০ এ উপকূল ট্রেইন আসলো তাতে করেই যাএা বিনা টিকিটে যাহাকে কিশোর অপরাধ বলেও গন্য করা যেতে পারে কিন্তু উঠতি বয়স কে শুনে কার কথা রোজা রেখেই চলে গেলাম ভৈরব।সেখান থেকে ভৈরব ব্রিজের কাছে এলাম, নদির পারে ঘুরলাম। মজার বিষয় হলো ৩০ টাকা দিয়ে নদিতে নৌকা দিয়েও ঘুরার সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা।তারপর হেটে হেটে ভৈরব রেল ব্রিজটি পার হলাম।আমার জীবনে প্রথম পার হওয়া।নিচের দিকে তাকালে শরিরে শিহরণ দিয়ে উঠে।তারপর আশুগঞ্জ স্টেশন এসে দুপুরের তিতাস ট্রেণে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা।অবশেষে কয়েক ঘন্টার ভ্রমনের ইতি সাথে ভৈরব নদি ও তার ব্রিজের কিছু মধুর স্মৃতি যা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ থেকে পেয়েছিলাম।
পড়ালেখার অজুহাতে ভ্রমনের ক্ষেএে যেনো সোনায় সোহাগা। বাসা থেকে যেমন তৎখনাত অনুমতি মেলে তেমনি খরচা টাও খুব সহজেই পাওয়া যায়। ম্যাথ অলিম্পিয়াড ২০১৮ আমি আর আমার বন্দু আমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চিলিক সেকশন থেকে সিলেক্ট হয় এবং যাএা করি কুমিল্লার উদ্দেশ্য রাতের ট্রেণে। সকালে গিয়েই ধর্মসাগর দিঘির পাড়ে ঘুরঘুরি সেখানের যায়গা টা ছিল খুবই মনোমুগ্ধকর। আমরা ১০ টায় চকে যায় পরিক্ষাকেন্দ্রে সেখানে দুপুর নাগাদ সব শেষ করে আবার বেরিয়ে পরি।এবারের গন্তব্য ছিল কুমিল্লার বিখ্যাত মাতৃভান্ডার এর রসমালাই।সাথে একটি স্থানিয় বন্ধু ছিল যার জন্য আসল মাতৃভান্ডারটি খুজে পায়।যা দেখতে খুব ই পুরোনো একটি দোকান কিন্তু ভিড় দেখলেই বোঝা যায় এর জনপ্রিয়তা দুই বন্ধু বাসার জন্য নিয়ে আশে পাশের কিছু যায়গা ঘুরে সন্ধ্যায় স্টেশন ফিরে গধুলি ট্রেনে করে দুজনের বড়ি ফেড়া। যদিও ম্যাথ অলিম্পিয়াডের যাএা কুমিল্লা পর্যন্ত ছিল পরের ধাপে আর যেতে পারিনি।
আরেকবার ছুটে গিয়েছিলাম পরিবার নিয়ে নাসিরনগর রাজবাড়ী। যদিও পরিচর্যার অভাবে রাজবাড়িটির অনেক বেহাল দশা। খুব ই কষ্ট লাগলো কত সহজেই যন্তের অভাবে আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাসের অংশগুলো রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো যদি সংরক্ষণ না করি তাহলে কিভাবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের ইতিহাস,ঐতিহ্য সর্ম্পকে বাস্তব জ্ঞান লাভ করবে তা নিয়ে আমি সন্ধিহান।
কখনো কি এমন হয়েছে যে ইচ্ছে করেছে চোখ যেদিখে যাবে সেদিকে যেতে থাকবো অজানা গন্তব্যে? আমার সাথে এমন হয়েছে।
তিতাস নদীর অপর পাশ। বিস্তৃত ভূমি,নেই কোনো লোকালয় ইচ্ছে হলো যাবো ওইদিকে যতদূর যাওয়া যায়।যেই কথা সেই কাজ।গ্রাম্য বাসায় গোদারা যাকে বলে ছোতট নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে ৪ বন্ধুর হাটা। পথিমধ্যে মন্দির,ছোট ছোট জলাশয়,বাশের সাকু পেলাম। আমরা টানা ৪/৫ ঘন্টা হাটাহাটি, ছবি তোলা,খাওয়া,খেলা এগুলো করে এক নতুন রাস্তায় গিয়ে উঠলাম যা নতুন তৈরি হচ্ছিল সেদিক থেকে গাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরা।কিন্তু ওইসময় টায় কতকিছুই না দেখলাম।
সত্যি বলতে ভ্রমনেরনেশা এই জিনিসটা যখন জোক পেতে বসে তখন মন আর কোনো বাধা মানে নাহ।বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন ছুটে চলি একটু প্রশান্তির খুজে।কোথায় গেলে এই যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু প্রশান্তি পাওয়া যাবে তার খুজে।কখনো বা বাসের ছাদে,কখনো বা বিনা টিকিটে ট্রেনে করে কখনো বা নৌকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি যেদিকেই যাই সেদিকেই যেন ভ্রমনের জন্য দু-হাত উজাড় করে ডাকছে আমায়।
দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠো পৃথিবী,
তোমায় দেখা শেষ হয়নি আমার এখনো।