জামালপুর জেলা শহরের বেলটিয়ায় লুইস ভিলেজ অবস্থিত। এটি লুইস ভিলেজ পার্ক এন্ড রিসোর্ট নামে পরিচিত। এটি 2016 সালে স্থাপিত হয়। পাশাপাশি ময়মনসিংহ জেলার লোকেরাও এখানে বেড়াতে আসে। প্রায় 10 একর জায়গা জুড়ে এই পার্ক অবস্থিত।
এটিকে একের ভিতর সব বলা যায়। কারণ এর ভিতরে পার্ক, রিসোর্ট ,বাচ্চাদের খেলা করার জন্য বিভিন্ন সামগ্রী, পিকনিক স্পট, কনভেনশন সেন্টার, লেক, নৌকা চালানো,বন্য প্রাণী, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রাইড, খেলনা দোকানপাট, খাবারের দোকান পাট প্রভৃতি জিনিস ছিল এই ছোট জায়গাটির মধ্যেই। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিকিটের ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু এক জায়গার ভিতর সবকিছুই। যেটা আমার খুবই ভালো লেগেছে কারণ বর্তমানে এরকম জায়গা দেখতে পাওয়া যায় না। পাশাপাশি ঢাকা শহর বাদে খুবই কম জেলার মধ্যে এরকম পার্কের ব্যবস্থা রয়েছে। এদিক থেকে জামালপুর অনেক উন্নত।
আমি জামালপুরে আমার ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছি। আমার ভাইয়া এখানে চাকরি করে। এর আগে কখনও আমি জামালপুরে আসিনি। তাই আমি বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখতেছি জামালপুরের। জামালপুর সদরের মধ্যে লুইস ভিলেজ বিখ্যাত।
শহরের মধ্যে এটায় আমি প্রথম গিয়েছিলাম। এটার প্রবেশমূল্য ছিল 100 টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন রাইড রয়েছে সবগুলো মিলে একসাথে চাইলে 500 টাকা। আমি একটু বড় হয়ে গিয়েছি ,তাই আমার জন্য সবগুলো রাইড দরকার নেই ,সে ক্ষেত্রে আমি শুধু প্রবেশ মূল্য দিয়ে ঢুকে ছিলাম এবং পরে পছন্দ হলে সেটাই আমি উঠেছিলাম। ভিতরে সবকিছু খুব সুন্দর ভাবে সাজানো ,গোছানো পরিষ্কার ছিল।
এখানে দেখুন একটি লেক দেখতে পারছেন। লেকটি দেখতে খুবই সুন্দর ছিল। চারিদিকে সুন্দর সুন্দর গাছপালা। এই লেখার মধ্যে বোট চালানোর ব্যবস্থা ছিল। 100 টাকায় একজন মানুষ বোট চালাতে পারবে এখানে।
এই লেকের আকর্ষণীয় বিষয় হলো এই মাছগুলো। এগুলো লাইলনটিকা মাছ। এই মাছগুলোর খাবার 10 টাকা দিয়ে কিনতে হয়।এই মাছগুলোর খাবারটা দেয়ার সাথে সাথেই সবগুলো করে উপরে চলে আসে ছবিগুলো দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন। এরকম দৃশ্য কখনো আগে দেখিনি। মাছগুলো খাবার পাওয়ার জন্য একেবারে ব্যাকুল ছিল।
পাশাপাশি সেখানে দুইটা হরিণ ছিল। আমি আগেই বলেছি এই জায়গাটা একের ভিতর সব। এখানে সবকিছু একসাথে রয়েছে।
ছবি তোলার জন্য সুন্দর স্থাপনা। এখানে দেখলে মনে হবে কুমির রয়েছে কিন্তু আসলে কুমির নেই মানুষ এখানে ছবি তুলতেছে।
এটা হল রিসোর্ট যা এখনো নির্মাণাধীন রয়েছে। খুব শীঘ্রই তার কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে। আজকাল মানুষ রিসোর্টে দিয়ে থাকে খুব সুন্দর জায়গা।
এটা আমার ভাইয়া এবং ভাবী। আমরা তিনজন সেখানে গিয়েছিলাম। পিছনের টি হল কনভেনশন সেন্টার। এখানে বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে।
আমি সেদিন অনেক ছবি তুলেছিলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বলে। দেখুন এগুলো হলো রাইড গুলো।
তারপর আমার কিছু ছবি আমি কোলেজ করে দিয়েছি । যার ফলে কয়েকটি ছবি একসাথে দেখা যাচ্ছে।
পিছনের এটি হলো একটি ঝর্ণার মতো। আমরা বৌদ্ধদের অনুষ্ঠানে এসব দেখে থাকি। এটাই এখানে স্থাপন করা হয়েছে খুব সুন্দর ভাবে।
তো সবদিক মিলিয়ে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে, আপনারা ঘুরে আসতে পারেন। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে বাম্পার কার খেলাটি।এটাতে উঠতেও 100 টাকা করে নিয়েছিল , পাঁচ মিনিট খেলতে দিয়েছিল ,যা অনেক আনন্দদায়ক ছিলো। আপনার এখানে যে কোন সময় যেতে পারবেন , প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে আপনারা পিকনিক করতে পারবেন। আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে পছন্দ করি। আমি জামালপুরে আরো কিছু জায়গায় ঘুরবো। আশা করি সেসব আমাদের সাথে তুলে ধরব এবং আপনারা দেখবেন।
সুন্দর ছিল দিনটি। পাশাপাশি জামালপুরে সব জায়গায় টিপস দেয়া লাগে। এবং টিকিটের কথা না বললেই নয়।
তো আজকে এই পর্যন্ত ছিল ।
ধন্যবাদ সবাইকে