ভালো-মন্দের দ্বন্দ্বের মধ্য থেকে মানুষ ভালোকে বেছে নেবে বিবেকের দ্বারা, প্রথার দ্বারা নয়- এই হচ্ছে মনুষ্যত্ব।
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
Image
মানুষের মৃত্যুতে ভয় পাই না, ভয় পাই মনুষ্যত্বের মৃত্যুতে!
বর্তমান সময়ে মনুষ্যত্ব্যর সংজ্ঞার উল্টো পথে হাটতেই মানুষ বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারন আমরা সবাই এতটাই আত্নকেন্দ্রিক, অন্যের সুখ-দুঃখ নিয়ে চিন্তা করার সময় কার আছে! নিজের স্বার্থসিদ্ধি ছাড়া যেন আর কোন কিছু দেখার বা ভাবার প্রয়োজনবোধ করি না। কিন্তুু আমরা ভুলেই গেছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ । সামাজিক মূল্যবোধ বা মনুষ্যত্ব না থাকলে পশুর সাথে মানুষের ভেদাভেদটাই বা রইল কোথায়?যে মানুষ বিবেক বিবর্জিত তাকে পিশাচ বলাই শ্রেয়, তাকে মানুষ বললে আমাদের মনুষ্যত্ব হয় ক্ষতবিক্ষত।
নিজের খাই নিজের পরি, অন্যেরটা আমার দেখার দায় কি?
মানুষের ভেতর ভাল-মন্দের দ্বন্দ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে এই দ্বন্দের মধ্যেই লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, স্বার্থপরতা, উগ্রতা, ক্রোধ এসব পরিহার করে ভালটা বেছে নেওয়াই মনুষ্যত্বের কাজ। কিন্তুু ভালটা আর বাছা হয় কোথায়? খারাপ রাস্তাটায় যে চলা বড্ড সোজা। সত্যের পথ কাটাযুক্ত। মসৃন পথ ছেড়ে কাঁটার পথ অনুসরন করবার মতন মানসিক শক্তি ফুরিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
প্রতিনিয়ত চোখের সামনে দেখতে পাই মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটতে। ছেলে যখন তার বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে যায়, অবিবাহিত মা যখন তার সন্তানকে ডাস্টবিনে ফেলে যায়, নিজের দোষ ঢাকার জন্য আরেকজনকে খুন করে, ধর্ষন, সন্ত্রাস, অত্যাচার,যখন একটি মেয়ে তার নিজের পরিবারের কাছেই নিরাপওাহীনতায় ভোগে তখন মৃত্যু হয় মূল্যবোধের মৃত্যু হয় মনুষ্যত্বের বার বার হাজার বার। দয়া, মায়া, বিবেক, মনুষ্যত্ব ছাড়া কখনোই মানুষকে মানুষ ভাবা যায় না কারন প্রানতো পশুদেরও আছে।
এই মৃত্যু ঘুম কি ভাঙবে মানুষের মনুষ্যত্বের?
Image
সাহায্যের হাত যেন দিন দিন ছোট হয়ে আসছে মানুষের। মনটা যেন পাথরের তৈরি, খুবই শক্ত। এক ব্যক্তি পানিতে ডুবে যাচ্ছে আর কিছু মানুষ তার ছবি তুলছে কারো লেস মাএ বিবেক নেই কারন কেউ লোকটাকে বাচাঁনোর চেষ্টা করার। বিবেক, বুদ্ধির কি দারুন নিদর্শন।
করোনার ভয়ে মানুষ তার আপনজনকে মৃত্যুর জন্য একা ছেড়ে দিচ্ছে। মৃত্যুর পরেও নিচ্ছে না লাশ। মাঝে মাঝে মনে হয় করোনা এসে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল এখন শুধু মানুষ গুলো মানুষের খোলোসটাই পরে আছে।
'ভোগে নয়, ত্যাগেই সুখ' বর্তমান সময়ের চিএ অনুযায়ী সম্পূর্ন অসামন্জ্ঞস্য কথা। এই বাক্যের ওজন মাপা বড়ই কঠিন। সবাই ভোগেই সুখ খোঁজে কারন ত্যাগের মাঝে সুখ খোজার মতন মহত্ব কত জনই বা রাখে। অথচ আমরা যদি এক /দুই প্রজন্ম আগের কথা ভাবি তখন ও কিন্তু মানুষের মূল্যবোধের এতটা অবক্ষয় হয়নি।
মনুষ্যত্বের মৃত্যু তো তখনই হয়, যখন একজন ৬০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া কর্মকর্তা ৩০০ টাকায় খেটে খাওয়া একজন মানুষের কাছে ঘুষ চায়।
শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে তারপরও কেন মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌছায় না, এত শিক্ষিত মানুষ ঘরে ঘরে তবুও যেন এর আলো সব জায়গায় নেই। তবে কি এখনকার শিক্ষা ব্যবস্হা মানুষ গড়ায় ব্যর্থ?
মনুষত্ব্যহীন মানব পানিবিহীন সাগরের মত। পানি ছাড়া যেমন সাগর পরিচয়হীন তেমনি মনুষ্যত্ব ছাড়াও মানুষের পরিচয় থাকে না থাকে শুধু মানুষ নামের তকমা দেয়া খোলোস।
Image
একদিকে কেন খাবার নষ্ট করার নিছক ট্রেন্ড আরেকদিকে দিনের পর দিন অনাহারে থাকা লাখো পরিবার! নয়তবা ক্ষুধা নিবারন করে ডাস্টবিনের পচাঁ-বাসি খাবার দিয়ে।
সমাজ ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের বিবেক বুদ্ধির উন্নয়ন হওয়া যেখানে কাম্য, সেখানে বিবেকহীন মানুষে যেন ভরেগেছে সমাজটা। যে ধনী ছিল সে হচ্ছে আরো ধনী যে গরীব ছিল সে হচ্ছে আরো গরীব আর মধ্যবিও এ যেন একবিরাট অভিশাপ।
খুব জানতে ইচ্ছে হয়, মানুষ আবার মানুষ হবি কবে?
Image