হাই বন্ধুরা! আমি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট টিম নিয়ে কয়েকদিন আগে একটি প্রতিবেদন আপনাদেরকে দিয়েছিলাম। আশাকরি আপনাদের ভাল লেগেছে।
যাই হোক, কয়েকদিন আগে বিসিবির কিছু গোপন ব্যাপার প্রকাশ হয়েছে, মিডিয়াতে এটি দেখা গিয়েছে। বিসিবির এ কেমন অবহেলা আমার বোধগম্য হয়না!
দেশের দামাল ছেলেরা, যারা দেশের জন্য হয়ে এক ধরনের সম্মানের পাত্র, যাদেরকে নিয়ে দেশে কোটি ভক্তদের আশার আলো, তাদের সাথে কেন এইরূপ আচরন করা হচ্ছে?
যেখানে বিমান ব্যবস্থা থাকার পরেও বাংলাদেশ ক্রিকেট ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ারদের আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়েছে ফেরিতে করে। যার কারণে তাদের জীবনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
হয়তো বা আরো খারাপ হয়ে যেতে পারতো, কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে কিছু হয়নি। বিসিবি একটি প্রশ্নের জবাবে বলেছেন বিমানের টিকিট জোগাড় করা সম্ভব হয়নি বিধায় তাদের কে ফেরিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কথাটিকে আদর সত্য হিসেবে কি আপনার মনে হয়?
এর ব্যাখ্যা করেছেন আমাদের বাংলাদেশের একজন সাংবাদিক ভাই, যিনি একাত্তর টেলিভিশনে চাকরি করেন। হুট করে তাড়াহুড়া করে উনি বিমানের টিকিট কাটেন সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকা পর্যন্ত এবং দেখান তার ভিডিও রিপোর্টে সেখানে অনেক খালি সিট রয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এত আগে থেকে প্ল্যান করা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলতে, সেখানে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে বিসিবি প্রত্যেকটি কর্মকর্তা এই ব্যাপারটি কিভাবে সমাধান দিবেন?
তার থেকে আরেকটা কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে ডোমিনিকা বাংলাদেশ ক্রিকেট ন্যাশনাল টিম চারটি ম্যাচ খেলবেন এবং কুরবানি ঈদ এখানে করবেন, কিন্তু আপনার শুনলে অবাক হবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট ন্যাশনাল টিম যখন ডমিনিকা পৌঁছেছে, তাদের নামতে দেখা গিয়েছে একটি বাস থেকে।
হোটেলের গেটের বাইরে তারা অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে কারণ তারা নির্দিষ্ট সময়ের আগে পৌঁছে গিয়েছে। যার কারণে তাদের হোটেলে চেকিং হচ্ছে না ।এটা কি ধরনের আচরণ? কি ধরনের ব্যবস্থাপনা?
সাড়ে তিন ঘন্টা কিভাবে কাটাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম?
একপর্যায়ে ডিসিশন হলো ড্রেসিংরুমে তারা বসে সময় কাটাবেন অথবা যেকোনো একটি রেস্টুরেন্টে বসে সময় কাটাবেন। এটা কি মেনে নেয়ার মত কোন ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃত নাকি অবহেলা আপনারাই বলুন বন্ধুরা।
আমাদের দেশের ক্রিকেট এতটা অসহায় হয়ে গিয়েছে যেখানে নিজের দেশ নয় অন্য দেশে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা খেলতে গিয়েছে, তাদের সাথে এ ধরনের আচরণ হচ্ছে! জিনিসটা মেনে নেয়ার মতো নয়।
প্রকাশ্য ঘোষণা দেয় বিসিবি ৯০০ কোটি টাকার মালিক। কিন্তু এই টাকার কি মূল্য? যেখানে দেশের রত্ন দেশের সম্পদ অবহেলা শিকার হন? চাটার্ড প্লেন অথবা বিমানের টিকিট জোগাড় করতে পারতেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। চাইলে টিকিট জোগাড় করা খুব কঠিন কিছু হতো না। যেখানে ক্যারিবিয়ান একজন ভাষ্যকার যদি বিমানের টিকিট কাটতে পারেন, তাহলে বিসিবির মতো এত বড় একটি প্ল্যাটফর্ম কিভাবে বিমানের টিকিট জোগাড় করতে পারে না!
এটা বোধগম্য নয়। আমাদের দেশের ক্রিকেটকে উন্নত করতে হলে সর্বপ্রথম ম্যানেজমেন্ট টিমকে উন্নত হতে হবে। কিংবা অন্যদেরকে দেখে শিক্ষা নিতে হবে এদেশের সম্পদ কিভাবে আগলে রাখতে হয়। তারপরে আসবে বড় বড় কথা।
এই সফর দিয়েই বিসিবির ডিসিশন নিতে হবে সামনের দিনগুলোকে কিভাবে প্লেয়ারদের কে আগলে রাখবে এবং এই সফরে কার ভুল কতটুকু তাদেরকে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। না হলে এভাবেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। আমরা কোনোভাবেই চাইনা আমাদের দেশের ক্রিকেট ঐতিহ্য কোনভাবেই ক্ষুন্ন হোক ।