পুঁইশাক একটি অতি জনপ্রিয় সবজি। এই পুঁইশাক পছন্দ করে না বাংলাদেশে এরকম মানুষ পাওয়া খুব দুষ্কর। পুঁইশাক মানুষের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় প্রায় লোকের ঘরে ঘরে থাকে। বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে পুঁইশাক কে একসাথে রান্না করা যায়। এবং অন্যান্য সবজির
স্বাদ পুঁইশাকের কারণে অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। যখনই পুঁইশাকের সাথে ছোট ছোট মাছ দিয়ে রান্না করা হয় এর স্বাদ তুলনা করা যায় না। যখন এই তরকারি কেউ একবার খাবে সে কখনো ভুলতে পারবে না।
পুঁইশাক চাষ
পুঁইশাক বাংলাদেশ এ সারা বছরই চাষ করা হয়ে থাকে। পুঁইশাক চাষ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে চাষ করা হয়ে থাকে। পুঁইশাক প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে একটি রং লাল আরেকটি রং সবুজ বা সাদা রঙের। তবে দুই ধরনের পুঁইশাক সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবার। কোনটার সাদ কম অথবা বেশি এরকম নয়। দুই ধরনের পুঁইশাক প্রচুর পরিমাণে থাকে। বীজ বপনের বা লাগানোর 40 থেকে 50 দিনের মধ্যেই পুঁইশাক খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে থাকে। ফাল্গুন এবং চৈত্র মাসের মধ্যে পোশাক লাগানো হয়। বৈশাখের শেষের দিকে অথবা জৈষ্ঠ্য মাসের শুরুর দিকে বা মাঝামাঝির দিকে পুঁইশাক তোলা হয়। এছাড়াও পুঁইশাক বাড়ির ছাদে টবের মধ্যে মাচা দিয়ে চাষ করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু লোক আছে বাড়ির বারান্দায়ও পুঁইশাক চাষ করে থাকে।
82DZinjRGSqOsvusXgFxhUKbOED.jpg
পুঁইশাকের পুষ্টিগুণ
নানা ধরনের ভিটামিন সমৃদ্ধ এই শাকটি একদিকে বহুবিধ রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে, অন্যদিকে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।পুঁইশাকের পুষ্টিগুণের কারণে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।পুঁইশাকের অসাধারন গুন গুলো-
ক) পুঁইশাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটিসহ নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
খ) দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে:-এখনকার সময়ে চোখে সমস্যা খুবই এবং বৃদ্ধিতে সাহায্য কমন ব্যাপার। পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
গ) এতে রয়েছে ভিটামিন সি যা ত্বকের রোগজীবাণু দূর করে,শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, ও বর্ধনে সাহায্য করে, সেই সাথে চুলকেও মজবুত রাখে।
ঘ) পাকস্থলী ও কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ঙ) পুঁইশাকের পুষ্টিগুণ বেশি থাকায়, রোগ প্রতিরোধে বেশ কাজ করে থাকে।এবং যারা নিয়মিত শাক, বিশেষ করে আঁশজাতীয় শাক, যেমন পুঁইশাক বা মিষ্টিকুমড়ার শাক খায়, তাদের পাইলস, ফিস্টুলা ও হেমোরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুবই কম।
পুঁইশাকের ব্যবহার
বাঙালি রান্নায় গরম গরম ভাতের সাথে পুঁই শাক চিংড়ী চচ্চড়ি আর এক পিস লেবু আহা অমৃত প্রায়। আমাদের দেশে পুঁই শাক অনেকভাবে রান্না বা ভাজি করে খাওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন মাছ রান্নায় একে ব্যবহার করা হয়।ইলিশ-পুই ও চিংড়ী-পুই অনেকেরই প্রিয় তরকারী। বিভিন্ন নুডুলস বা স্প্যাগেটি রান্নায় বা সালাদে ব্যবহৃত করা হয়। আফ্রিকায়, উত্তর ভিয়েতনামে পুঁই শাক খাওয়ার প্রচলন আছে।