আল্লাহতালা এই পৃথিবীতে অনেক কিছু সৃষ্টি করেছেন । এই সৃষ্টির পিছনে আল্লাহতালা কিছু লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রত্যেকটা সৃষ্টি যেন আল্লাহর এবাদত করে এবং তার আদেশ-নিষেধ গুলো মেনে চলে। তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হল মানব জাতি। যার প্রত্যেকটি কথা এবং কাজের মিল থাকে। এ মানবজাতির মধ্যেও অনেক গরমিল আছে ,যেমন কাজের সাথে কথার মিল নেই আবার কথার সাথে কাজের মিল নেই। ইসলামে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয়েছে। মানুষ হচ্ছে সৃষ্টির সেরা জীব। এই সৃষ্টির সেরার মধ্যে প্রত্যেকটা কথার সাথে কাজের মিল থাকবে এটাই সবার কাম্য। আর প্রত্যেকটা মানুষই সৃষ্টির আগে আল্লাহর কাছে সে জবানবন্দি দিয়ে এসেছেন। আমরা মুখ দিয়ে যা বলব তার প্রত্যেকটি কাজে পরিনত করব। কথার এবং কাজের সব দিক দিয়ে মিল থাকবে। কিন্তু বর্তমানে মানুষের কথা ও কাজে কোন মিল নেই। পৃথিবীতে অনেক ইতিহাস আছে যারা ক্ষমতার লোভে কোন কাজের মিল রাখেনা। ক্ষমতাশালীরা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জনগণের কাছে অনেক কথা দিয়ে থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে কথা ও কাজে কোন মিল পাওয়া যায় না। অনেক অর্থলোভী মানুষ আছে যারা অর্থের লোভে মুখের কথা কেউ কথা মনে করে না কাজ তো অনেক দূরের কথা। তাইতো আমার একটি গল্প মনে পড়ে গেল। নিচে আমি সে গল্পটি তুলে ধরলাম।
শিয়াল ও শিকারির গল্প
বনের মধ্যে একবার একদল শিকারি এক শিয়ালকে দরবার জন্য তাড়া করল। প্রাণের ভয়ে শিয়াল ছুটতে ছুটতে বনের ধারে এক কাঠুরে বাড়িতে এসে হাজির হলো। কাঠুরে তখন বাড়ির বাইরে কাঠ কাটছিল। শেয়াল হাঁপাতে হাঁপাতে তার কাছে এসে বলল ,ভাই কতগুলো শিকারি আমার পিছু নিয়েছে। অনেকদূর ছুটে আসে আমিও খুব হয়রান হয়ে পড়েছি আর ছুটতে পারছি না। ওদের হাতে পড়লে আমার আর রেহাই থাকবে না। তুমি যদি দয়া করে আমাকে তোমার বাড়িতে কিছুক্ষণ লুকিয়ে থাকতে দাও তাহলে আমি কথা দিচ্ছি, শিকারিরা চলে গেলেই আমি এখান থেকে চলে যাব। কাঠুরে তখন শেয়ালকে তার বাড়ির ভেতর গিয়ে এক কোণে চুপ করে লুকিয়ে থাকতে বলল। অল্পক্ষণ পরেই শিকারীরা শেয়ালের খোঁজ করতে করতে সেখানে পৌছাইলো। কাঠুরে কে দেখে তারা তাকে জিজ্ঞেস করল এই যে ভাই একটু আগে এখান দিয়ে তুমি কি একটা শেয়ারকে ছুটে যেতে দেখেছো?
কাঠুরে মুখে বলল না কিন্তু আংগুল দিয়ে বাড়ির ভেতরের দিকটা দেখিয়ে দিল। শিকারিরা অবশ্য তার সেই ইশারা বুঝতে পারল না। তারা শেয়ালের খুঁজে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। ঘরের কোণে লুকিয়ে থেকে শিয়াল এতক্ষণে সবকিছু লক্ষ্য করছিল। শিকারীরা চলে যেতেই সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বনের দিকে রওনা হলো। কাঠুরে তখন শেয়াল কে ডেকে বলল এই যে ভাইয়া তুমি তো দেখছি বাড়ি অকৃতজ্ঞ! আমি তোমাকে বাড়িতে আশ্রয় দিলাম শিকারিদের হাত থেকে বাঁচালাম। অথচ তুমি আমাকে একটা ধন্যবাদ না দিয়ে চলে যাচ্ছ।
শেয়াল চলে যেতে যেতেই বলল ধন্যবাদ আমি তোমাকে ঠিকই দিতাম যদি তোমার মুখের সঙ্গে সঙ্গে হাত ও একই কথা বলতো।
এই গল্পের মমার্থ হল
আল্লাহতালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন কোথাও কাজের মিল থাকার জন্য। কিন্তু আমাদের কথা আর কাজের মধ্যে অনেক সময় মিল থাকেনা। মানুষ কি বলে তা দিয়ে নয় বরং সে কি করে তাই দিয়ে তাকে বিচার করা উচিত।