শুটকি মাছ একটি অতি পরিচিত খাদ্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাগর নদী নালা খাল বিল থেকে মাছ সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন ভাবে শুটকি তৈরি করা হয়। আবার তাজা মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকার কারণে ও মাছ যখন পচে যায় এটা কি খাদ্য উপকরণ হিসাবে শুটকি তৈরি করা হয়ে থাকে। খাদ্য সংরক্ষণের এক প্রাচীন পদ্ধতি হলো খাদ্য শুকানো। শুটকি বা মাছকে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ তেমনি একটি পদ্ধতি যাতে মাছকে রোদে রাখা হয় পানি অপসারণের জন্য। সাধারণত পানিকে বাতাস রোদ ধোয়া ইত্যাদির সাহায্যে শুকানো হয়। মাছ থেকে পানি অপসারণ করে রোদে শুকিয়ে শুটকি থেকে বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ ইত্যাদি দূর করে শুটকি তৈরি করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশে এই শুটকি বিশেষ চাহিদা আছে। মাছ কে এভাবে সংরক্ষণ করার জন্য দুআর ব্যবহার এবং লবণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই শুকনো মাছের আয়ুষ্কাল কয়েক বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশের জেলেরা এই শুটকি তৈরি করার কাজ বিশেষভাবে করে থাকে। পরবর্তীতে তারা ইস্যুটিকে বাজারজাত করে থাকে।
#বাংলাদেশে এই শুটকি বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার অনেক লোকেরাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমুদ্রের মাছ আহরণ করে ও প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এই শুটকি থেকে অনেক আমিষের প্রায় 75 আসে মৎস্যজাত খাদ্য থেকে। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে শুঁটকি রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। বাংলাদেশের উৎপাদিত শুটকি সবচেয়ে বেশি অংশ তৈরি হয় কক্সবাজার থেকে। cox's বাজার ছাড়াও এ শুটকি আরো অন্যান্য জায়গায়ও উৎপাদন হয়ে থাকে। উৎপাদিত শুটকি প্রায় 80 পার্সেন্ট তৈরি হয় সদর উপজেলার কুতুবদিয়া পাড়া এলাকায়। প্রচলিত নিয়মেই সূর্যালোক ব্যবহার করে শুটকি শুকানো হচ্ছে। তবে এই শুটকি মানুষের খাদ্যের অভাব পূরণ করুক না কেন এই শুটকি খেলে কিছু না কিছু রোগের সৃষ্টি করে থাকে।
#শুটকি মাছের ভর্তা তৈরি
বিভিন্ন দেশে এই শুটকি মাছ দিয়ে ভর্তা তৈরি করে থাকে। এই বক্তা খুব সুস্বাদু এবং মুখরোচক খাবার। এই শুটকি দিয়ে ভর্তা তৈরি বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন জায়গায় খুব জনপ্রিয়। এই শুটকি মাছের ভর্তা এমন কোন লোক নেই যে তার পছন্দ না তবে একটু বন্ধ আছে।
#পান্তাভাত ও শুটকি মাছ
গ্রামীণ বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি জনপ্রিয় খাবার পান্তা ভাত। রাতে খাবারের জন্য যে রান্না করা বাদ বেঁচে থাকে তা সংরক্ষণের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরদিন এই পানিতে রাখা বাতের নাম হয় পান্তা ভাত। গ্রামীণ প্রকৃতির লোকেরা এই পান্তা ভাতের সাথে শুটকির ভর্তা তৈরি করে সকালে খেতে খুব পছন্দ করে থাকে। এই খাবারটা খুব মুখরোচক খাবার।