ছোট বেলায় প্রাইমারীতে যখন পড়তাম, সম্ভবত ক্লাস ফাইভের বইয়ে(১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ এর দিকের বই) ফুটবলের রাজা পেলে কে নিয়ে একটা সুন্দর গল্প ছিলো, যেটা পড়ে ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রতি একটা তীব্র আকর্ষণ তৈরী হয়েছিলো। আগের বাংলা বইগুলোতে নানান ধরনের ছোট গল্প, ভ্রমন কাহিনী, ও প্রবন্ধে সমৃদ্ধ ছিলো। যদিও এখনকার বইগুলোতে রাজনৈতিক তোশামোদী কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না, যাক সেসব ভিন্ন কথা। মূল কথায় আসি, মূলত তিন তিনবার বিশ্বকাপ জয় করার জন্য পেলে বিখ্যাত হয়েছেন। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়- নারী কিম্বা পুরুষ- যিনি এতবার বিশ্বকাপ জয় করেছেন। এছাড়াও তিনি তার ক্লাব এবং দেশের হয়ে মোট ১,৩৬৩টি ম্যাচ খেলে মোট ১,২৮১টি গোল করেছেন যা বিশ্ব রেকর্ড হয়ে রয়েছে। ফুটবল খেলায় পেলে যে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন সেটা মানুষের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তার গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল খেলাধুলার বাইরের জগতেও।পেলের খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি, তবে সেই ১৯৯৬-৯৭ এর দিকে যখন কোন মোবাইল বা ইন্টারনেট ছিলো না তখনকার সময়ে তার সুনামের কথা জেনেছি, একজন ফুটবলার কতটা উঁচুমানের হলে তা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তাঁর সুনামের কথা পৌছাতে পারে।
ব্রাজিলের ফুটবল খেলা সরাসরি টিভিতে দেখেছি ১৯৯৮ এর বিশ্বকাপে, রোনালদোর শৈল্পিক ফুটবলের স্মৃতি এখনো কিছুটা মনে আছে। এর পর ২০০২ এর বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেখেছি, সেই দলে রোনালদো, রোনালদিনহো ও কাপুর মতো খেলোয়াড়দের ফুটবল শো দেখেছি, তখন শুধুমাত্র ব্রাজিলের খেলা দেখার জন্য রাতের আঁধারে ঝড় বৃষ্টিতে ভিজে যার বাড়ীতে বা দোকানে টিভি আছে সেখানে পৌছে গেছি। জানালার ফাঁকে উকি দিয়ে অনেক কষ্টে খেলা দেখেছি। খালি দেওয়ালে ব্রাজিলের পতাকা এঁকেছি আর গাছের মগডালে পতাকা টাঙ্গিয়ছি, সে এক দুরন্ত শৈশবের স্মৃতি। যদিও আগের পাগলামী এখন আর নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের ফুটবল পারফর্মেন্স আগের মতো নেই, শৈল্পিক ফুটবলে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে ব্রাজিল দলের প্রতি ভালোবাসাটা ঠিক আগের মতোই আছে। বিন্দুমাত্রও কমেনি । নেইমার রোনালদিনহোদের মতো লিজেন্ড খেলোয়াড় না হলেও সে অসাধারন একজন খেলোয়াড়, সে গতবারের কোপা এবং অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতে দেখিয়েছে তার ক্যাপাবিলিটি আছে।
মেসির প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই সে সমসাময়িক ফুটবলে প্রভাব বিস্তারকারী অসাধারন একজন খেলোয়াড়।গত এক দশক মেসি ক্লাব ফুটবলে অনেক কিছু করে দেখিয়েছে, যদিও জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর অর্জন শূন্য, তাই বিশ্বকাপ জেতা না হোক, সে এইবারের কোপা আমেরিকা শিরোপা ডিজার্ভ করে। যদিও আগামী কালের পারফরমেন্সই বলে দিবে এই শিরোপা কোন দল ডিজার্ভ করে। আমি ব্রাজিলের ফুটবলের ভক্ত হয়েও, আগামী কাল ফাইনাল ম্যাচে উভয় দলের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। কারণ, যে দল সাপোর্ট করি সে দলের জয় বড় কথা নয়, জয় হোক ফুটবলের। ❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️