আসসালামু আলাইকুম
ভুল মেসেজ এ পালিয়ে বিয়ে...!!!
ভোর ৬ টা ২২ মিনিট। হঠাৎ মোবাইলে মেসেজের শব্দ শুনতে পেলাম। শীতের সকাল। সজাগ থাকলেও মোবাইলটা ধরতে ইচ্ছে করছিলো না। তারপরও হাতে নিলাম। অপরিচিত নাম্বার মনে হচ্ছে । যাই হোক মেসেজটা ওপেন করে পড়লাম, যা পড়তে সময় লেগেছে ২ মিনিটের মতো। বুঝেনইতো, ২ মিনিট কম সময় না। ইয়া লম্বা মেসেজ। যাই হোক সংক্ষেপে বলি। যাতে লেখা ছিলো....,
"আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছি, আমার সাথে কিছু কাপড় আর সামান্য কিছু টাকা আছে, তুমি যা পারো নিয়ে তাড়াতাড়ি এসো। আমার ষ্টেশনে পৌঁছতে সময় বেশিক্ষণ লাগবে না। আমার মোবাইলটা ভাবির রুমে রয়ে গেছে, তাই আমি মা'র মোবাইলটা নিয়ে এসেছি। তুমি এইটাতেই কল দিও। এই মোবাইলে ব্যালেন্স নাই, তাই মেসেজ দিলাম"।
মেসেজটা দেখেই বসে পড়লাম। কে সে? অন্য কোন নাম্বারে মেসেজ দিতে গিয়ে ভুল করে আমার নাম্বারে দিলো। ২ মিনিট বসে ভাবলাম। কি করবো বুঝতে পারছি না। মেসেজে ষ্টেশনের নাম আর ট্রেনের সময় ও সিট নাম্বার সহ লিখে দিয়েছে। কি করি আমি? ভাবলাম ওনাকে কি ফোন করে ব্যাপারটা বলে দিবো না কি নিজেই যাবো। আর যাকে মেসেজ করেছে সে যদি না আসে তাহলেতো বেচারির সব শেষ। উঠেই পড়লাম। তাড়াহুরো করে রেডি হলাম। মানি ব্যাগে ৭৫০০ টাকা ছিলো। মা'র লকার খুলে আরো ১০০০০ পেলাম। যাই হোক যতটুকু করা যায়। মোটরসাইকেলের চাবিটা হাতে নিলাম। না চাবি রেখে দিলাম, মোটরসাইকেল নিবো না। আর ষ্টেশনও আমার বাসা থেকে তেমন দূরে না।
বেরিয়ে পড়লাম এই কনকনে শীতে। সাথে আছে অনেক উত্তরের বাতাস। ষ্টেশনে পৌঁছালাম। মেসেজের দেয়া ট্রেনের সময়ও নিকটেই। চারদিকে তাকালাম মানুষ জন আছে কিন্তু এর মধ্যে কোন মেয়েকে দেখছি না। তাহলে কি সে আসেনাই নাকি কেউ মজা করছে আমার সাথে। এদিকে ঠান্ডায় আমার হাত পা চলছে না। ১৫ মিনিট হয়ে গেলো কিন্তু কাউকে দেখছি না। ভাবলাম কল দিয়ে দেখি কোথায় আছে। না কল দিলে হয়তো আমার কন্ঠ চিনে ফেলবে। তখনই আমার ফোন মেসেজ এর আওয়াজ শুনতে পেলাম। ফোন হতে নিয়ে দেখি ওর ই মেসেজ। লিখেছে....
"আমি সামনের ষ্টেশনে এসে পড়েছি, তুমি সামনের স্টেশনে আসো। কেন এই স্টেশনে এসেছি তা পরে বলবো। তুমি তাড়াতাড়ি এসো"।
তারা হুরো করে একটা সিএনজি নিয়ে সামনের ষ্টেশনে গেলাম। এর মধ্যে ট্রেনও সেখানে এসে পৌঁছেছে। সবাই ট্রেনে উঠে গেছে, এখনি ছাড়বে। কিন্তু সে কোথায় কি করেই বা তাকে আমি চিনবো? ট্রেন চলছে আমিও হাটছি। পরে হঠাৎ করে মেসেজ এ দেওয়া সিট নাম্বারের কথা মনে পড়লো। দৌড়িয়ে গিয়ে সেই বগিতে উঠলাম। সিটের পাশে গিয়ে দেখি ভোরের মিটি মিটি অন্ধকারে জোৎসনার আলোর মতই সুন্দরী একটি মেয়ে হাতে ব্যাগ নিয়ে কালো চাদর মাথায় দিয়ে বসে বসে কাঁদছে।
জিজ্ঞেস করলাম,
---এইযে শুনুন,
বলতেই তাকালো। চোখের কালো মনিটা দেখা যায় না। জলে ভরে আছে দুচোখ। জিজ্ঞেস করলাম,,
--- মেসেজ আপনি দিয়েছিলেন?
একথা বলতেই জড়িয়ে ধরলো। বলতে লাগলো,
--- আমি ভেবেছিলাম তুমি আসবেনা।
আর আমিতো শীতে কাঁপছিলাম। আমার কাঁপা দেখে সিটে বসিয়ে ওর গায়ের চাদরের একটা অংশ দিয়ে আমাকে ঢেকে ফেললো। ভেবেছিলাম তাকে সব কিছু খুলে বলবো। কিন্তু তার এতো ভালবাসা দেখে তাকে যে আর কিছুই বলতে পারলাম না। চাদরের ভিতরেই তাকে জড়িয়ে ধরলাম। ও বলতে লাগলো,
--- তুমিতো বলেছিলে তুমি কালো, কিন্তু তুমিতো অনেক সুন্দর। আমার সাথে দুষ্টমি হয়েছিলো না।।
তা বলেই মার দেয়া শুরু করলো।
আমরা চট্টগ্রাম চলে যাই। চট্টগ্রাম পৌঁছে আমরা বিয়ে করি। আমি ছোট একটা চাকরি নেই সাথে ছোট একটি বাসা। আজ আমাদের কোল জুড়ে আছে আমাদের একমাত্র মেয়ে মিথিলা। আমরা অনেক সুখেই আছি।
কিন্তু আমি আজ পর্যন্ত বলতে পারিনি তাকে যে, আমি সেই ছেলে নই যাকে সে মেসেজ দিয়েছিল। বলতে পারি নি শুধু মাত্র তাকে হারানোর ভয়ে।
অনেক ভালবাসি ওকে..........অনেক বেশি...!!