আসসালামু আলাইকুম
হ্যালো বন্ধুরা!
কেমন আছেন সবাই? আশা করি আল্লাহর রহমতে সকলেই ভালো আছেন। আমি আব্দুল্লাহ আল মুব্দী () আজ আপনাদের সাথে একটা জাপানিজ মুভির রিভিউ করতে চলেছি। আমি কোনো প্রফেশনাল রিভিউয়ার নই। তাই সকল ভুল - ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আশা করবো সকলেই আমাকে সাপোর্ট দিবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক.....!!!
আমি আজ যে মুভিটির রিভিউ করতে যাচ্ছি সেই মুভিটির নাম হলো Otoko-tachi no Yamato (also known as Yamato) যেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি ক্ল্যাসিক্যাল জাপানি মুভি। মুভিটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে IJA (Imperial Japanese Navy) এর নৌবহরের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ Yamato এর অবদান এবং এর ক্যাপ্টেন,ক্রুসহ বিভিন্ন শ্রেনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন, যুদ্ধে তাদের অবদান এবং তাদের আত্মত্যাগের কাহিনির উপর নির্মিত। জাপানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হলিউডের মতো এতো বিশাল বাজেট রেখে বা সবকিছু এতো নিখুঁতভাবে পরিচালনা করে হয়তো কোনো মুভি বা সিরিজ বানাতে পারে না ঠিকই কিন্তু তাদের যা সামর্থ্য তাতে তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনির উপর এখন পর্যন্ত যেসব মুভি বানিয়েছে সেগুলোর মধ্যে Yamato বেশ ভালো এবং প্রথম সারির একটা মুভি। এছাড়া এটা জাপানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বিগ বাজেটের highest grossing film.
- 🎬Movie: Otoko-tachi no Yamato
- 📽️Genre: War, action, drama
- ⏱️Runtime: 2h 25 min
- 🏴Country: Japan
- 🏳️Language: Japanese
- 📸Directed & Written by: Junya Sato
- 🗒️Release Date: 17 October, 2005
- Imdb Rating: 6.5/10
- Personal Rating: 8/10
- 💵Budget: ¥2.5 billion
- 💰Box Office Collection: ¥5.11 billion
- 🏆Awards & Nominations: 6 wins & 7 nominations
Source
রিভিউ এর শুরুতে মুভির ট্রেইলারটি দেখে নিন:
মুভি প্লট
৬ এপ্রিল, ২০০৫! Battleship Yamato এর ৬০ তম anniversary তে Makiko Uchida নামে একজন জাপানি মেয়ে Southern Japanese Port এ আসে একটা বোট ভাড়া করে গভীর সমুদ্রে যাওয়ার জন্য যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বড় এবং পাওয়ারফুল যুদ্ধজাহাজ Yamato ডুবে গিয়েছিলো।
Port authority কিছুতেই রাজি হচ্ছিলো না তাকে কোনো বোট ভাড়া দেওয়ার জন্য, কারন সমুদ্রের সেই অঞ্চলটা ছিলো বেশ দূর্যোগপ্রবণ এলাকা। তারপরে মেয়েটি ডেক এ অবস্থান করা একজন ক্যাপ্টেন Katsumi Kamio কে অনেক অনুরোধ করার পর এবং এটা assure করার পর যে উনি Yamato এর একজন অফিসার Nagoya Uchida এর সৎ মেয়ে এবং একটা কাজে তাকে আজ সেই জায়গায় যেতেই হবে। এসব শুনার পর ক্যাপ্টেন Kamio রাজি হলেন Makiko কে বোটে করে সমুদ্রের সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। বোটে ক্যাপ্টেন Kamio, Makiko এবং ১৫ বছর বয়সী একটা ছেলে ছিলো এবং তারা রওনা হলো সমুদ্রের সেই জায়গায়।
যাত্রাপথে Captain Katsumi Kamio, Makiko এবং তার সহকারী ছেলেটার সাথে শেয়ার করেন যে উনিসহ ওনার অনেক ফ্রেন্ডস Yamato battleship এর কর্মী ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে অর্থ্যাৎ ১৯৪৫ সালে জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ Okinawa কে রক্ষা করতে তাদের শেষ প্রচেষ্টাস্বরূপ এবং সমুদ্রপথে শত্রুপক্ষের এমন বিশাল বাহিনীর বিরূদ্ধে জয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা না থাকার পরেও শত্রুপক্ষকে প্রতিরোধ করার জন্য এক suicid mission এ Yamato কে পাঠানো হয়। সেই মিশনে জাহাজটার ভূমিকা, জাহাজের নাবিক এবং কর্মীদের শেষ পরিণতি, অসীম বীরত্বের সাথে লড়াই করে যাওয়া, বিশাল সমুদ্রপথে তাদের জীবনযাপন এবং তাদের আত্মত্যাগের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অনেককিছুই শেয়ার করেন। এসব কাহিনি নিয়েই মুভির প্লট সাজানো হয়েছে।
এখানে বলে রাখা ভালো যে Yamato হলো এ যাবৎকালে নির্মিত সবচেয়ে বড় ব্যাটেলশিপ যার ওজন ছিলো ৭২ হাজার ৮০০ টন। প্রাচীন জাপানের "ইয়ামাতো" প্রদেশের নামানুসারে এই জাহাজের নামকরণ করা হয়েছিলো। দ্বীপরাষ্ট্র হওয়ার কারনে অনেক আগে থেকেই জাপানিরা নৌপথে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য তাদের নৌবহরে অনেকরকম ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, ক্রুজার, সাবমেরিন ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করছিলো। ১৯৩৭ সালে জাপান জাহাজটির নির্মাণকাজ শুরু করে এবং ১৯৪২ সালে একে কমিশন করা হয়। এর মূল শক্তি ছিলো ডেক এ অবস্থিত ৯ টি ১৮.১ ইঞ্চি সাইজের এন্টি-এয়ারক্রাফট আর্টিলারি(কামান) যা ছিলো তৎকালীন বিশ্বে সবচেয়ে বড় ক্যালিবারের কামান। দ্বিতীয় শক্তি ছিলো ১২ টি ১৫.৫ ইঞ্চি সাইজের আর্টিলারি। এছাড়া নিকটবর্তী/স্বল্প রেঞ্জের বিভিন্ন টার্গেট মোকাবেলায় ৪০ টির মতো ছোটো সাইজের আর্টিলারি ছিলো।
মিডওয়ে যুদ্ধে ব্যবহারের পর শেষবার এই জাহাজটাকে Okinawa দ্বীপে শত্রুপক্ষকে প্রতিরোধ করার জন্য পাঠানো হয়েছিলো। জাপানিরা নিশ্চিত ছিলো যে, এই যুদ্ধে জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলো নিজেদের শেষটা দিয়ে যতো সম্ভব শত্রুপক্ষের ক্ষতিসাধন করা। তাই Yamato জাহাজে তারা Okinawa দ্বীপে যাত্রার দিন শুধুমাত্র যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ভরে নেয় এবং ফেরত আসার জন্য কোনো জ্বালানি নেয়নি। তার পরিবর্তে প্রচুর বিস্ফোরক, গোলাবারুদ, বোমা এবং শেল দিয়ে জাহাজ ভর্তি করে। বুঝাই যাচ্ছে যে Okinawa দ্বীপের এই মিশনটা ছিলো পুরোপুরি একটা সুইসাইড মিশন।
এরপরের ইতিহাস আপাতত আর বলছি না, কারন তাতে আপনাদের মুভি দেখার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে। তবে এইটুকু বলে রাখছি technologically & strategically আমেরিকার চেয়ে জাপান অনেক পিছিয়ে ছিলো বলে তাদের বহরে অনেক শক্তিশালী battleship থাকার পরেও তারা সেগুলোকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সব কাজে লাগাতে পারেনি। তবুও তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অক্ষশক্তির পক্ষে যতোটুকু অবদান রেখেছে তা অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ছিলো। জাপানিদের dedication, sacrifice, bravery, patriotism সত্যিই incredible as well as appreciable.
রিভিউ
Story & Screenplay:
মুভিটার স্টোরি ভালোই ছিলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানের সবচেয়ে পাওয়ারফুল ব্যাটেলশিপ Yamato এর ভূমিকা, যুদ্ধে জাহাজের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান, তাদের আত্মত্যাগ, সাহসিকতা, বীরত্ব, ব্যক্তিগত জীবন ইত্যাদি বিষয় নিয়েই পুরো স্টোরি রচনা করা হয়েছে।
তবে আমার মতে শুধুমাত্র Okinawa দ্বীপের যুদ্ধের পাশাপাশি মিডওয়ে যুদ্ধে Yamato এর ভূমিকা নিয়ে কিছু কাহিনি অ্যাড করা যেতো। আরো elaborated, expanded কিছু হতে পারতো। জাহাজের টেকনিক্যাল বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত, শত্রুপক্ষের সাইডগুলো এবং নৌপথের বিভিন্ন যুদ্ধ, মিশন, আর ড্রামাটিক বিষয়গুলো আরো কম ফোকাস করে Okinawa দ্বীপে লড়াইরত জাপানি সৈন্যদের স্টোরিও অ্যাড করা যেতো। তাহলে এটা জাপানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে পুরো একটা মাস্টারপিস মুভি হতে পারতো। তবে এমনিতেও যা করেছে তা অনেকটা ভালোই বলা যায়।
আর স্ক্রিনপ্লে মোটামুটি লেভেলের ছিলো এবং পুরোটা সময় কাহিনির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট।
Casting & Acting:
মুভির লিড রোল Captain Katsumi Kamio চরিত্রে Tatsua Nakadi এবং Captain Mamuro Uchida চরিত্রে Nakamura Shido, Makiko Uchida চরিত্রে Kyoka Suzuki এর এক্টিং সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমার কাছে। এছাড়া Yamato এর বিভিন্ন পদের অফিসারদের বিভিন্ন চরিত্রে Atshusi রোলে Sosuke, Tamaki রোলে Hiroyuki, Masao চরিত্রে Jundai, Sumio চরিত্রে Hiromi সহ অন্যান্য বিভিন্ন রোলে সবাই খুব ভালো অভিনয় করেছেন৷
Cinematography & Vfx:
মুভিটার সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ ছিলো। বিশেষ করে ক্যামেরার কাজ অনেক ভালো ছিলো।
আর এখানে high quality এর ভিএফএক্সের ব্যবহারও দেখা যায়।
বিশেষ করে যুদ্ধের সিনগুলিতে ভিএফএক্সের কাজ অনেক ভালো লেগেছে যার কারনে সিনগুলি অনেক রিয়েলিস্টিক লাগছিলো।
Making & Direction:
মুভিটা যদিও আরো elaborated হতে পারতো তবে যেটুকু নিয়ে কাহিনি রচিত হয়েছে সেটুকু খুব সুন্দরভাবে ডিরেক্টর Junya Sato ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন।
ওনার ডাইরেশন, স্টোরি বিল্ড-আপ, ক্যারেক্টার বিল্ড-আপ সত্যিই অসাধারণ ছিলো। বিশেষ করে জাহাজের anti-aircraft artillery এর mechanism, accessing process, application গুলো অনেক রিয়েলিস্টিকভাবে দেখানো হয়েছে। আর জাহাজের অবস্থা,পরিবেশ এবং যুদ্ধের সিনগুলিও বেশ সুন্দরভাবে রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়৷
আর মুভির এন্ডিংটা দেখে অনেক খারাপ লেগেছে। After all, starting, ending সহ সবদিক থেকেই মুভিটার মেকিং বেশ ভালো এবং মানসম্মত ছিলো যা পুরো ফিল করে দেখার মতো।
যুদ্ধের কাহিনি বিশেষ করে বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে ইন্টারেস্টেড যারা তাদের জন্য মাস্টওয়াচ একটা মুভি। যারা দেখেননি এখান থেকেদেখে ফেলুন আশা করি খুব ভালো লাগবে।