ওহে বাঙ্গালী,
মনে রেখেছিস কি তোদের নিজের ভাষা
নাকি যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে
ভুলে গেছিস আপন বুলি।
বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা বড়ই লজ্জিত। ভিনদেশী ভাষা চর্চা করতে গিয়ে নিজের ভাষা ভুলতে বসেছি।ফেসবুক হোক বা টুইটার ইংরেজিতে স্টাটাস দিতে হবেই।প্রয়োজন হলে অনেক সময় নেট থেকে ইংরেজি ক্যাপশন কপি করে পোষ্ট দেই।আমরা তো সেই জাতি যারা মুখে -মুখে বলি আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। এবারো কি এ কথাটার মানে বুঝতে চেষ্টা করছি।
যেই ভাষার জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। সেটার বিন্দু মাত্র মূল্য দিতে আমরা শিখি নি। তখনও একদল রাজাকার দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছিলো। কিন্তু এখন হাজার হাজার রাজাকার আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমি আমাদের মতো মানুষদের রাজাকার বলছি। কেননা অন্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অনুসরণ করতেই পছন্দ করি। রাত হলেই টিভিতে হিন্দি সিরিয়াল দেখতে বসি। বাবা যদি খবরের চ্যানেল দেয় তাহলে মাথায় নষ্ট হয়ে যায়।একটা এপিসট ২ -৩ বারের বেশি দেখতেই হয়।আর এগুলোকেই নিজেদের ঐতিহ্য বলতে দ্বিধা গ্রস্থ করি না। মনে আছে, ছোটবেলায় বিটিভি তে সিসিমপুর দেখেছিলাম।
কোথায় গেলো সেই সোনালী দিন গুলো যখন মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়ানী কবিতা বলে শিশুকে ঘুম পাড়াতো। এখনতো বাবা-মায়েরা আগেই সিদ্ধান্ত নেয় ছোট্ট শিশুটি কে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াবে। এতে হাজার টাকাও খরচ করতে অসুবিধা নেই। তবে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া ৬৫% শিক্ষার্থী ঠিকমতো বাংলা বলতে পারে না। তাতে কি আসে যায় বিদেশে পাড়ি জমাতে পাড়বে তো। মাস শেষে ভালোই মাইনে পাবে কিন্তু একসময় নিজের আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ খবর নেওয়ার সময় থাকবে না।
আর যারা ইংরেজি বলতে পারে না দেশে তাদের ভাত জোটেনা। তাই প্রতিদিন কোচিং ক্লাসে ছুটতেই দিশা হারা।কোন মতে চাকরি পেলেও শান্তি মেলে না।হয়তো বুঝতে পারেনা বসের কথা আর না হয় চাকরির পলিসিটা। অনেক সময় বেকার থাকতে হয় হাজার তরুণদের। এই কথা গুলো বলার কিছু কারণ আছে। দিন-দিন বাংলা বলতে ও লিখতে ভুলে যাচ্ছি। তাই হারাতে বসেছি আমাদের ঐতিহ্যকে। এমন অনেকেই আছে যারা আজ ইংরেজিতে কয় তারিখ সেটা অনায়াসে বলতে পারবে কিন্তু বাংলায় ১২ মাসের নামই মনে নেই।
বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি বেশি মানুষ এখন বাংলা ভাষায় কথা বলে। এটা আমাদের গর্বের বিষয়।
তাহলে কেন আমরা বাংলায় কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছি। প্রত্যেকেরই নিজের আঞ্চলিক ভাষা আছে। সে ভাষায় কথা বলেই তৃপ্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সভ্যতার সাথে হার মেনে মুখ ফুটে আপন ভাষা বলতে পারি না। এমন অনেক দেশ আছে যারা নিজের ভাষায় সকল কার্যকলাপ চালিয়ে উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। আর আমরা পুথিগত বিদ্যা শিখতে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার কোন ধারণা নেই। শুধু অনুসরণ করছি অন্যের সংস্কৃতি। আমি মনে করি, সর্বাক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় ব্যবহার করা হোক। তাহলে বেকারত্বের হারও কমবে। আর হ্যা আমরা ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা চর্চা করবো ঠিকই কিন্তু নিজের ভাষাকে আগে প্রাধন্য দিবো। এই মাতৃভাষার জন্য লাখ-লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে।তাদের ত্যাগের বিনিময় আমরা আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি।
তাই আজ থেকেই না হয় আবার শুরু হোক নতুন পথ চলা। নিজের ভাষা চর্চা করি আর দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরি।
আমি নিহা। লেখালেখি করতে পছন্দ করি। আশা করছি আপনাদের কাছে আমার লেখাটি ভালো লাগবে।