বাবা আজ সকালে টিভিতে দেখলাম সবাই স্মৃতিসৌধে গিয়ে ফুল দিচ্ছে । আজ কি কোন বিশেষ দিন?হ্যাঁ খুকি আজ মহান বিজয় দিবস । অহ এজন্য কি সকাল থেকে মাইকে আজ ভাষণ শোনাচ্ছে ? আচ্ছা বাবা বিজয় দিবস কেন পালন করা হয় ?
ওরে আমার ছোট্ট খুকি আজ আমাদের উল্লাসের দিন ।জানিস খুকি আমরা একদিনে এই বিজয় অর্জন করতে পারিনি তার জন্য দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করতে হয়েছে ।লাখো লাখো বাঙ্গালীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনতে পেরেছি আমাদের স্বাধীনতা ।
১৯৭০ সালের নির্বাচনটির রায় হানাদার বাহিনীরা মেনে নিতে পারিনি । তারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়। তবে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দ্বারা দেশবাসী স্বাধীনতার স্পৃহাকে প্রবল করে তুলেছিল।পাকিস্তানি শাসকচক্র আমাদের মুক্তির দাবি দমনের জন্য অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।২৫ মার্চের কালরাত্রির কথা এখনও কেউ ভুলতে পারেনি । সেই রাত্রে হানাদার বাহিনীরা নির্মম ভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায়।
আর সমঝোতা নয় তাই ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় চূড়ান্ত লড়াই । তখন থেকেই দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিসংগ্রামের পর পরাজয় মেনে নেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা ।
আজকের দিনেই ১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা আত্মসমর্পণ করেছিল । তখন থেকে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পথ চলা ।
বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয় ।এতিমখানায়, বৃদ্ধাশ্রমে,জেলখানায় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করে ।সরকারি,বেরসরকারি , আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় । এছাড়াও সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ।
তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে বলা হয়েছে ।তাই আর এবছর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হল না ।
প্রতিবছরই বাঙালি জাতিরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করে সেই সকল শহীদদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনতে পেরেছি আমাদের স্বাধীনতা ।
তবে দুঃখের বিষয় এ সময়ের ছেলে-মেয়েদের কাছে স্বাধীনতার তেমন মূল্য নেই ।তারা ভিনদেশী সংস্কৃতি বহন করতে পছন্দ করে ।দোষটা আমাদেরই আমরাই ছেলেমেদের ইংরেজি ভাষাকে অগ্রাধিকার বেশী দিতে বলি । তার জন্যই হয়তো অনেকে বাংলা ভাষায় ঠিক মতো কথা বলতে পারে না ।
যেই ভাষার জন্য লাখো মানুষ লড়াই করেছে সেটার অস্তিত্ব টিকে রাখার দায়িত্ব আমাদের ।এজন্য আমার মনে হয় সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার চর্চা করতে হবে ।এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমাদের অর্জিত মুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে জানাতে ও বোঝাতে হবে ।
খুকি আজকে তোকে অনেক কথাই বললাম ।তুই ও বাংলা ভাষা চর্চা করবি ।
বাবা দেখো বাইরে লাল সবুজের পতাকা নিয়ে কয়েকজন মিছিল করছে ।আমিও মিছিলে যাবো। আচ্ছা মা আমার সাথে চল ।তবে মিছিলে যাওয়ার আগে মাক্স পরিধান করবি । শুনলাম পাশের গ্রামে ছোটখাটো মেলার আয়োজন করছে সেখান থেকেও তোকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি । আচ্ছা বাবা চলো ।