তারামন বিবি, একটি বীরত্ব্পূর্ণ নাম। একই সাথে একটি ইতিহাস। জন্ম ১৯৫৭ সালে। কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর
গ্রামে বাবা আবদুস সোেবাহান, মা কুলসুম বেওয়া। তাঁর এক ছেলে এক মেয়ে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন নানা ভূমিকায়। ১৯৭৩ সালে ততকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবিকে তাঁর সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত
করেন। তারামন বিবি ১১ নং সেকটরে নিজ গ্রাম কুড়িগ্রাম জেলার শংকর মাধবপুরে ছিলেন। মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযােদ্ধা তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। যিনি তারামনের গ্রামের পাশের একটি ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি তারামনকে ক্যাম্পে
রান্নাবান্নার প্রস্তাব দন।প্রথমে তারামনের মা কুলসুম এতে রাজি হন নি। মুহিব হাবিলদার তারামনকে ধর্মমেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেন।এরপরই তারামনকে দেশঘরিয়ায় মুক্তিযোেদ্ধাদের শিবিরে রান্নার কাজে পাঠাতে রাজি হন তাঁর মা। তখন তারামনের বয়স ছিলা ১৪ বছর। কিন্তু পরবররতীতে তারামনের সাহস । শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাঁকে অস্ত্র চালনা শেখান।একদিনের সরাসরি যুদ্ধের ঘটনা। ঘটনা ছিল ঠিক মধ্য দুপুরের। সবাই খেতে বসেছে। তারামনকে পাকিস্তানি সেনাদের কেউ আসছে কি না তা দেখার জন্য বলা হলোে।তারামন সুপারি গাছে উঠে দূরবীন দিয়ে চারিদিকে लক্ষ্য রাখছিলেন। হঠাৎ দেখলেন, পাক বাহিনীর একটি গানবোট তাদের দিকে আসছে। সবার খাওয়া বন্ধ। দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে অ্যাকশনের অপেক্ষা করতে লাগলেন সবাই।তারামন তার সহযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেন। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধ চলে। সেদিন তারা শক্রদের পরাস্ত করতে সক্ষম হন। এরপর তারামন অনেক যুদ্ধে পুরুষ মুক্তিযােদ্ধাদের সাথে অংশ নেন। অনেক বার তাদের ক্যাম্প পাকবাহিনী আক্রমণ করেছেতবে ভাগ্যের জারে তিনি প্রতিবার বেঁচে যান।
শুধু সম্মুখ যুদ্ধই নয়। নানা কৌশলে শক্র পক্ষের তৎপরতা এবং অবস্থান জানতে গুপ্তচর সেজে সোজা চলে গেছেন পাক বাহিনীর শিবিরে। কখনও সারা শরীরে কাদা মাটি, চক, কালি এমনকি মানুষের বিষ্ঠা পর্যন্ত নলাগিয়ে পাগল সেজেছেন তারামন। চুল এলো করে বোবা সেজে পাক সেনাদের সামনে দীর্ঘ হাসি কিংবা কান্নার অভিনয় করেছেন।কখনও প্রতিবন্ধী কিংবা পঙ্গুর মতো করে চলা ফেরা করে শক্রুসেনাদের খোঁজ নিয়ে এসেছেন নদী সাঁতরে গিয়ে।আবার কলা গাছের ভেলা নিয়ে কখনও পাড়ি দিয়েছেন ব্রক্মপুত্রের শাখা নদী। আর জান-মানের কথা না ভেবেই এসব দুঃসাহসী কাজ ঝাঁপিয়ে পড়েছেন একমাত্র দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য।
২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন তাঁর
জন্মভূমি থেকে।
জয় বাংলাদেশের সকল নারী'র