তাই বলে কি আর মানুষ বসে আছে?
জীবিকার সন্ধানে ছুটছে সবাই যার যার গন্তব্যে। পরিবারকে নিয়ে যে ভালো থাকতে হবে! ভালো থাকাটা কি এতোই সহজ!
আমরা কিছুই বুঝতে চাই না!
আমাদের চাহিদার অন্ত নেই। আমরা গলার রগ ফুলিয়ে বলতে পারি - এটা লাগবে; ওটা লাগবে! কোথা থেকে কীভাবে আনবে আদৌ আনতে পারবে কিনা সেসব নিয়ে আমাদের কোন আগ্রহ নেই।
আমাদের সব চাওয়াই পূরণ হয়। কে করে তাও আপনারা ভালো করেই জানেন। ইচ্ছাপূরণের সেই কারিগরের নাম 'বাবা'!
আমার প্রশ্ন সকল বাবাদের কাছে, কই আপনাদের কি কিছু প্রয়োজন পরে না? কখনো মনে হয় না, এতো পরিশ্রম তবু বিশ্রামের ফুসরত নেই কেন? কেন বুঝতে দেন না আপনাদের কষ্ট গুলো? কেন নিজের বয়স লুকাতে চান বারবার? বলতে ইচ্ছা করে না, 'আমার বয়স হয়েছে এবার আমায় বিশ্রাম দাও!'
এতো কষ্ট করে সন্তান মানুষ করে কী পেয়েছেন শেষে? বুকভরা ভালোবাসা? নাকি হয়ে উঠেছেন বোঝা? তা নইলে আপনাদের শেষ বয়সের ঠিকানা কেন বৃদ্ধাশ্রম হবে?
নিজে সারাজীবন কষ্ট করে সন্তানকে খাইয়ে-পরিয়ে শিক্ষিত করে মানুষ করেছেন। সন্তানের মুখে তুলে দিয়েছেন পছন্দের খাবার, পূরণ করেছেন সব চাহিদা। এর প্রতিদানই কি তবে বৃদ্ধাশ্রম?
বাবা, আমি আপনাকে অবহেলা করি না। আপনাকে ভালোবাসি, সম্মান করি। কিন্তু তবুও হয়তো আপনার দুঃখ-কষ্টগুলো বুঝবো সেদিনই যখন আপনাকে বাবা বলে ডাকার উপায় আর আমার থাকবে না।
বাবা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি। অনেকদিন হলো তোমাকে দেখি না। তোমার মুখে মা ডাক শুনি না কতদিন!
আজ এই বাবা দিবসে, বিশ্বের সকল বাবাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।
আমি শুধু এতোটুকুই বলতে চাই, আমরা যেমন বাবা-মায়ের সন্তান, তেমনি তাদেরও ছিলেন বাবা-মা। তাদেরকেও অনেক যত্নে গড়ে তুলেছিলেন তারা।
এখনও যাদের সুযোগ আছে, বাবা-মায়ের যত্ন নেই, ভালোবাসি নিজ সন্তানেরই মতো।
তাদের দোয়া নিয়ে যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি সামনের দিকে।