কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি ভালই আছেন।
এবার ঈদে কে কে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছেন?
কে কে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাইতে পারেন নাই কোন একটা ব্যস্ততার কারণে?
অনেকে আছে আমি দেখেছি রোজার ঈদে বাড়িতে সবার সাথে ঈদ না কাটিয়ে কোরবানির ঈদের পরিবারের সাথে কোরবানি দিয়ে উদযাপন করে। কিন্তু আমার আসলে কোনো ঈদই মা-বাবার সঙ্গে করা হয় না এবারও হয়তো হবেনা।
রোজার ঈদের পর বাবার বাসায় যাইতে পারিনি অনেক ঝামেলার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছি, ভেবেছি কোরবানির ঈদটা মা-বাবার সঙ্গে উদযাপন করব। কিন্তু এবারও হচ্ছে না তাই মনটা আসলে ভালো না।
আম্মুকে ফোন করেছিলাম, আম্মু বলল, "বাড়িতে সব বোনেরা ভাইয়েরা এসেছে ঈদ করতে শুধু তুই আসলি না।" কথাটি শুনে আমার খুব খারাপ লাগছিল আমি ফোনটা রেখে দিয়েছি। আম্মুকে বললাম, "আমি তোমাকে পরে কল করবো। আমার একটু কাজ আছে।"
আমি আসলে ফোনটা রেখে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে থেকে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজেকে নিজে বললাম আমি ঠিক আছি। কোন একটা ঈদ হয়তোবা মা-বাবার সঙ্গে উদযাপন করব। তখন ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল, চোখের সামনে সবার চেহারা এলো, আমি অনেক আবেগী হয়ে পড়লাম।
এই কোরবানি ঈদের দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই আগে দৌড় দিয়ে গরু দেখতে যাইতাম, যদিও আমি অনেক ভয় পাই, তবুও দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখতাম। তারপর আম্মুর কাছে যেতাম, আম্মুকে কাজে সাহায্য করতাম, তারপর সব বোনদের সাথে দেখা করতাম।
কে কোন জামাটা পড়বো, কার হাতে বেশি রং হয়েছে মেহেদী সবাই একসঙ্গে হাত বের করে দেখাদেখি করতাম। তারপর সবাই মিলে পুকুরে গোসল করতাম।
নতুন জামা পড়ে সাজুগুজু করে আব্বু আম্মুকে ছালাম করে নিতাম তারপর মেলায় চলে যেতাম। মেলায় গিয়ে সবাই মিলে মাটির খেলনা হাড়ি পাতিল কিনতাম। আম্মুর জন্য পাঁপড় কিনতাম, দাদির জন্য বাতাসা-গজা-বাদাম, ছোট ভাইয়ের জন্য বাঁশি-বেলুন কিনে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়িতে আসতাম।
বাড়িতে এসে দেখতাম গরু জবাই হয়েছে কিনা। আমি কখনো গরু জবাই করা দেখতাম না কারণ আমি অনেক ভয় পাই গরু জবাই করা দেখতে। এজন্য আমি গরু জবাই করা না দেখে দূরে দূরে থাকতাম। গরু জবাই হয়ে গেলে মাংস যখন সবাই মিলে কাটত তখন গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম। তারপর আত্মীয়স্বজনের বাসায় যেতাম আব্বুর সঙ্গে মাংস দিতে।
সন্ধ্যাবেলায় বাড়িতে অনেক আত্মীয়-স্বজন আসতো। আমার আম্মু সবাইকে মুড়ি দিয়ে ঝুরা মাংস মাখিয়ে খেতে দিত, সাথে তো আবার সেমাই,পায়েস,জর্দা অনেক রকমের খাবার থাকতো। আমার আম্মুর হাতের ঝুড়ি মাংসটা অনেক মজা হয়। আমি এবার ঈদে ঝুড়ি মাংসটা মিস করবো। আম্মুর হাতের প্রত্যেকটি রান্নায় মজা। আসলে প্রত্যেকটি সন্তানের কাছে তার মা আলাদা তার মায়ের হাতের রান্নাও আলাদা যেটা সে সবসময় মিস করে। তেমনি প্রত্যেকটি সন্তান তার মা-বাবার কাছে মূল্যবান।
ছোট ভাইকে ফোনে জিজ্ঞাস করলাম, "কি করিস?" বললো, "আপু গরু কিনে আনছি। তুই আসবি না?"
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম, "না রে ভাইয়া! এবার আসা হবে না। সামনের ঈদটা আমরা একসাথে উদযাপন করবো।"
ভাই আমার উপর রাগ করে বললো, "তোর আর আসা লাগবে না। তুই থাক।"
আমি বললাম, "রাগ করিস না ভাইয়া। এমনিতেই মনটা ভালো নাই, তার মধ্যে আবার এভাবে কথা বলছিস তুই আমার সাথে!"
ভাই বললো, "তুই প্রত্যেকবার এরকম বলিস আর প্রত্যেকবারই আসতে পারিস না। আবার এখন বলতেছিস আজকে আমার মন ভালো নেই।"
তখন আমি হেসে দিয়ে বললাম, "আমার মন ভালো নাই সেটা নিয়ে তুই মজা করতেছিস?"
ভাই বললো, "কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখিস নি সব জায়গায় তো সবাই বলতেছে আজকে আমার মন ভালো নেই। এখন আবার নতুন করে বলে মন আমার কেমন কেমন করে।"
আমি বললাম, "হ্যা, দেখছি। আমার কাছে বিষয়টা ভালো লাগে না। প্রথম প্রথম ভালো লেগেছিল এখন এত বেশি সব জায়গায় এখন শুনলেও রাগ ধরে।" মন আমার কেমন কেমন করে।
তারপর মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করলাম। সবাইকে আমার সালাম জানালাম। তারপর ফোনটা রেখে দিয়ে চুপ করে বসে রইলাম। ভাবতে শুরু করলাম এবার ঈদে কি কি রান্না করবো কোথায় কোথায় ঘুরতে যাব। বাড়ি যখন যেতে পারছিনা তাই বলে তো আর ঈদের আনন্দ নষ্ট করা যাবে না।
তাই মনের কষ্ট মনে নিয়ে ঈদের জন্য অপেক্ষা করছি আর মাত্র একদিন বাকি আপনাদের সবাইকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা!