মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী ,
সে ভালো মানুষের খাতিরে তার অভিমান লুকিয়ে রেখে মানুষের সামনে হাসিমুখে নিজেকে প্রেজেন্ট করে কিন্তু তার মধ্যে যে কতগুলো কষ্ট লুকিয়ে থাকে সেগুলো আসলে আমরা খোলা দৃষ্টিতে দেখতে পাই না ,
কয়েকদিন ধরে ফেসবুকের পেইজে পেইজে শুধু একটা পোস্ট দেখতে পাচ্ছি
আমি মা কিন্তু এমন মা হতে চাই না যেন সন্তানের প্রতি এতই টান থাকবে যে তাকে তার নিজের বউয়ের সাথে দেখলেও বুক জ্বলবে আমার তার সংসার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবো আমি মেয়ের সুখে যদি হাসতে পারি ছেলের বউয়ের সুখে ও যেন মন খুলে প্রশংসা করতে পারি ।
আমি মা কিন্তু তার চেয়েও আমি আগে চাই একটা সুখী মানুষ হতে জীবনের সন্তানের জন্য সব কিছু
বিলিয়ে দিতে চাইনা নইলে এক বয়সে গিয়ে তার সমস্ত নিতে গিয়ে তাঁর জীবন নষ্ট করতে হবে বরং নিজের নিজস্বতা থাকলেই সন্তান বুঝবে ঘুম পায় কান্না পায় ইচ্ছে পায় জীবনের সমস্ত কিছু ত্যাগ করে শেষ বয়সে উপভোগ করে স্বার্থপর হয়ে থাকতে আমি রাজি ।
আমি এই পোস্টের আরো কিছু কথা তুলে ধরতে চাই এই পোস্টটা কে করেছে আমি আসলে সেটা জানিনা কে লিখেছিল সেটা আমি দেখিনি কিন্তু আমি প্রতিটা পেজেই দেখেছি প্রত্যেকটি মেয়ে এই পোস্টগুলো শেয়ার করছে এবং যখন আমি এই পোস্টটা পড়েছি ।
তখন আমি আমার চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি যে আমি একজন মেয়ে আমি মা হব আমরা কি আসলেই আমাদের নিজস্বতা হারিয়ে ফেলছি দিন দিন কেন বার বার আমার এই পোস্টটি পড়ে মনে হচ্ছে যে অন্যের অধীনে এখনো আমরা সমাজের মেয়েরা কেন বারবার আমাদের কে দাবিয়ে রাখা হচ্ছে কেন আমাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া ভালো-মন্দ নেই ।
আমি মা কিন্তু সন্তান সন্তান করে মাথা খারাপ করে ফেলাম আমি হতে চাই না আমি চাই আমার জীবনের সকাল থাকুক এক কাপ চা থাকুক অবসরে গান থাকুক ইচ্ছে হলে একবারে একা একটা চকলেট পেস্ট্রি বা এক প্যাকেট চিপস খাওয়া থাকুক কিংবা থাকুক সাবানের ফেনায় তৈরি করা বুট বুট আমি ছুটির দিনে একটা মুরগির ঠ্যাং চাই আমার পছন্দের চ্যানেলটি দেখতে চাই ।
source
আমি চাই আমার নিজের একটা সাজের তাপ বাথরুমের একটা কোনা থাকো আমার স্নানের জিনিস রাখার আমি চাই আমার এক্সক্লুসিভ একটা লিপস্টিক যেটা আর কেউ পাবে না আমি ছাড়া আমি দিনে অন্ততঃ আধাঘন্টা আমার নিজের সময় চাই আমি চাই আমার খাবার একটা আলাদা থালা পরিষ্কার থালা থাক আমি বয়স হলে গারো কালার লাল টকটকে লিপস্টিক লাগাতে চাই তোমায় মানাবে না যেদিন থেকে নিজের মনে হবে সেদিনই বন্ধ করতে চাই আমি চাই আমার একটা দিন থাকবে সেদিন দোকানে যাওয়া হবে কেবল আমার জামা কিনতে রেস্টুরেন্টে অর্ডার দেওয়ার আগে সবসময় জিজ্ঞাসা করা হবে আমার পছন্দের খাবার কি আমার পছন্দের জায়গা ঘুরতে যাওয়া হবে না না আমার কথা শোনার জন্য আমার স্বামীর দিকে অন্তত আধঘন্টা বরাদ্দ থাকবে সুযোগ এলে বরের সাথে ট্যুরে যেতে চাই থাক না ক'দিন সংসার অগোছানো ফুড়িয়ে যাক বাজার ছেলে বা মেয়ে কদিন ডালভাত বা ম্যাগি খেয়ে থাকুক তবুও বেরিয়ে পড়তে চাই আমি আসলে এই পোস্টটি কয়েকবার পড়েছ ।
পড়ার পর আমি আসলে আমার ইমোশনটা আমি আটকে রাখতে পারেনি আপনারা কেউ পড়েছেন কিনা এটা আসলে আমার জানা নাই তবে আমি এই পোস্টটি পড়ে ভেতর থেকে অনেক ভেঙে পড়েছি কারণ আমিও মেয়ে আর এই জিনিসগুলি আমি প্রত্যেকটা টাইমে আমি ফেস করতেছি কারন আমিও কারো ঘরের ঘরনী আমিও সংসার জীবনে আছি এই যে কথাগুলো লিখেছি আমি মাঝে মাঝে এরকম সিচুয়েশনে পড়ে যেটা আমারও ভালো লাগেনা যখন দেখা যাবে আপনি আপনার পছন্দের একটি খাবার রান্না করেছেন অথচ বেলা শেষে কি হবে সে খাবারটা আপনি নিজ হাতে রান্না করে আপনি সেটা নিজের জন্য আলাদা করে রেখে দিতে পারবেননা ।
তখন কিন্তু আপনার আনন্দের তৃপ্তি থাকলেও চোখে-মুখে সেটা প্রকাশ পাবে যে আপনি অসুখী আমি শুধু সাধারণ একটা জিনিসই বললাম আরো ভেতরে থাকা জমে থাকা কষ্ট সেগুলো আসলে বলার মত না আমি পোস্টটি পড়ে নিজের ইমোশনকে কন্ট্রোল করতে না পেরে কিন্তু আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি আসলে আমরা বাঙ্গালী আমাদের সমাজের মেয়েরা আমার মনে হয় প্রত্যেকটা পরিবারের কাছে আমরা কারো কাছে অন্তত বন্দি ভাবে থাকি ভয়ে থাকি আমরা নিরুপায় কিন্তু আসলে ঠিক না আমরা মেয়েরাই কিন্তু মেয়েদের শত্রু আমরা কোথাও না কোথাও মেয়েদের জন্য কিন্তু আজকে ছোট হয়ে যাচ্ছি তবে হ্যাঁ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে ।
জীবনে বেঁচে থাকতে হলে লড়াই করতে হবে সেটা চুপ থেকে হোক বা জবাব দিয়ে হোক দুটোতেই শান্তি মিলবে কারণ আমার কাছে চুপ থেকে জবাব দেয়ার মানে হচ্ছে জিতে যাওয়া কারন সামনের মানুষটা যদি আপনার সাথে তর্ক করে তখন যখন আপনি তার জবাব দিবেন না তখন দেখবেন সেই মানুষটা মজা পাচ্ছে না অতএব আপনি কিন্তু জিতে গেলেন নিজের কাছে সে অথবা কিছু সময়ের জন্য আপনাকে কিছু কথা বলে জিতে গেল তর্কে কিন্তু নিজের মনে প্রশ্ন করে দেখবেন যে জিতে গেছেন আপনি আপনি যেটা না সেটা আপনাকে বারবার বলে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে ।
অতএব আমি চাই আমরা প্রতিটি মানুষ একজন একজনের পাশে দাঁড়াই একজন একজনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে না জীবন কদিনের জীবনে জন্ম নিয়েছি জীবনটা মনে হচ্ছে এখন কল্পনা কদিন বাঁচবো মৃত্যুর পর সবকিছু স্বপ্নের মতোই মনে হবে আমরা একজন একজনের পাশে গিয়ে দাড়াই আমরা এক হয়ে যাই তাহলে আমাদের দেশে আর এজে বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ বলেন বা ননদ বইয়ের ঝগড়া বলেন এগুলো কিছুই থাকবে না আমাদের ভালোলাগা-মন্দলাগা যখন আমরা সবার সাথে শেয়ার করে এগিয়ে যেতে পারবো তখন এই জিনিসগুলো দূর হয়ে যাবে ।