ঠিক যেন কালো মেঘে ঢাকা চাদর কেউ যেন আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছে জোর করে ……
মাঝেমধ্যে জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যে মুহূর্তগুলো আসলে নিজের কাছে খুব অদ্ভুত লাগে সব সময় বলি এটা আমার ওটা আমার সবটাই আমার কিন্তু কোনটাই আমার ছিল না তখন আসলে খুব কষ্ট লাগে এ কথাগুলো শুনে আমি নিশ্চুপ হয়ে থাকি সবসময় শুনতে থাকি কিন্তু কখনও মুখ ফুটে বলিনা কোন কথা কারণ চুপ থেকে মানুষকে সব থেকে বেশি কষ্ট দেওয়া যায় ।
তবে হ্যাঁ বাংলা প্রবাদ একটি কথা আছে চোরের দশ দিন গৃহস্থের একদিন এই কথাটি অনেক মূল্যবান একটি কথা চোর যদি চুরি করে গৃহস্থ কিন্তু একদিন অবশ্যই টের পায় দিনের পর দিন যে মানুষটিকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম সে মানুষটি আমার বিশ্বাসের অমর্যাদা কে করেছে ।
সেই মানুষটি হতে পারে আমার বন্ধু হতে পারে আমার পরিবারের কেউ হতে পারে আমার পাতানো কোন বন্ধু হতে পারে আমার নিজের সন্তান সে যেই হোক না কেন তার জন্য যে আপনি এতটা ত্যাগ করেছেন আপনার জীবনে সে কখনোই সে জিনিসটি না দেখে সে আজ নিজের গলায় বড় গলায় জোর গলায় একবারও তার বুক কাঁপলো না কথাটা বলতে যে তুমি আমার জন্য কি করেছো যেটা করেছ তুমি তোমার নিজে ভালো থাকার জন্য সেটা অর্জন করেছে আসলেই কি তাই না।
যখন এই কথাগুলো শুনতে শুনতে আমি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন তখন আসলেই কথাগুলি আর গায়ে লাগবে না সাময়িকের জন্য আপনাকে কষ্ট দিবে যেই মানুষটির জন্য আমি হাটু পানিতে নেমে ছিলাম সে মানুষটা না হয় পানিতে পা আমার জন্য ভেজাতে পারত সে তো সেটা করলি না বরঞ্চ মুখের উপর বলে দিল তুমি তোমার নিজের স্বার্থটাই দেখলি ।
কথা বলেন ঘরের শত্রু যদি থাকে তাহলে বাহিরের শত্রুর প্রয়োজন পড়ে না আপনার শত্রু যদি ঘরের ভেতরে থাকবে তাহলে বাইরে কারো সাথে কেন আন্টি গ্যাঞ্জাম করতে যাবেন আপনার ঘরের মানুষটাই তো বাইরে গিয়ে সমালোচনা করবে তারপর আপনি যখন মোড়ের দোকানে গিয়ে চা খাইতে লাগবে ঠিক তখনই আপনাকে সেই লোক গুলোই দেখে মুচকি হেসে কিছু ফেস কথা বলে দিবে যেটা শুনে আপনি বলবেন ঘরের মানুষ তো বলছিল এখন দেখি বাইরের মানুষ বলছে তখন আপনি অনেকটা ডিপ্রেশনে চলে যাবেন।
ডিপ্রেশন খুব ভয়াবহ একটা রোগ এই রোগ টা তে যে পরেছে সে জানে যে তার জীবনটা শুধু কাটিয়ে দেয় চিন্তা করে তাঁর জীবনে কোন ভালোলাগা-মন্দলাগা পছন্দ-অপছন্দ ভালোলাগার পরিমাণ টা খুব কম থাকে ট্যাগ এর পরিমাণ বেশি থাকে তার ভেতরে বিষন্নতা কাজ করে একটা টাইমে সুইসাইড করতে চাই ।
আরে মৃত্যুগুলোর জন্য কোথাও না কোথাও আমরা দায়ী কারণ আমরা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছি সে বাঁচতে চেয়েছিল কিন্তু তাকে আমরা বাঁচতে দিইনি আমরা মানুষ জাতি আমরা দিনের পর দিন তার সাথে খারাপ আচরণ করেছি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করিনি যে তুমি ডিপ্রেশনে আছ তুমি ডিপ্রেশন থেকে বের হয়ে আসো চলো আমরা ঘুরে আসি চলো আমরা কোথাও গিয়ে বসি চলো আমরা বই পড়ি চলো তোমার ভাললাগার একটি খাবার খায় তোমার সাথে কিছুটা সময় আমি ব্যয় করি ।
চলার পথটা সোজা না আঁকাবাঁকা তাই বলে তো জীবন থেমে নেই প্রতিটা মানুষের জীবন চলছে নিয়মের মধ্যে কিছু নিয়ম আমাদের জীবনে ঠুকে দেওয়া হয়েছে সেই নিয়ম এর মাধ্যমে আমরা চলছি আসলে সবসময় নিয়ম মানার ভিতর ভালোলাগা-মন্দলাগা পছন্দ-অপছন্দসহ কিন্তু সেখানে আমরা কি করছি আমি আপনার উপর চাপিয়ে দিচ্ছি জোর করে ।
আমি একটি বারের জন্য বুঝতে চাচ্ছি না জানতেও চাচ্ছি না আপনাকে একবারও প্রশ্ন করবোনা যা আপনি এটা কি পারবেন কি পারবেন না এটাতে কি আপনার ইচ্ছা আদৌ আছে যেমন একটি সন্তান জন্ম দিলে বাচ্চা না কালেমা কিন্তু দুধ দেয় না তারপর বাচ্চার বড় হওয়া বেড়ে ওঠা সেখানেও কিন্তু একটি মায়ের অনেক বড় অনুপ্রেরণা রয়েছে কেমন রয়েছে এটা আমরা অনেকেই জানি আমরা সবসময় ভাল দিক গুলো দেখি সন্তানের ভাল দিক গুলো দেখে আমরা কি কখনো মার কথা চিন্তা করে দেখেছি ।
নতুন বাচ্চা পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে এলে আমরা সবসময় বাচ্চাটিকে দেখে খুশি হয়ে যায় অথচ মা জন্ম দিলো তার কথা ভুলে যায় আসলে দুনিয়ার নিয়ম এটা কিন্তু আমাদের উচিত বাচ্চার সাথে মায়ের কি আর করা মায়ের ভালোলাগা-মন্দলাগা আমাদের মাথায় থাকা উচিত কারণ যে মানুষটা মানুষ জন্ম দিয়েছে তার অনুভূতি তার কষ্ট এগুলা সে যদি আপনাদের কাছে প্রকাশ করে কিছুক্ষণের জন্য হলেও তার কাছে ভালো লাগবে ।
তারপর বাচ্চাটি ধীরে ধীরে বড় হতে লাগে যদি ভালো দেখে যায় তাহলে বলবে আজ বাবা শাসন করেছিল বলেই আজ আমি এই পজিশনে এসেছি আর যদি কোনো কারণে ভুল পথে বাচ্চাটি চলে যায় তাহলে তাকে শুনতে হবে মা খেয়াল করেনি সারাক্ষণ নিজের সাজগোজ নিয়েব্যস্ত ছিলেন আসলে আমরা মানব জাতি টা অনেক অদ্ভুত একটা জাতি । কেউ কারো ভালো দেখতে পারিনা ভালটাকে ভাল বলতে পারি কিন্তু খারাপটা নিয়ে যে সারা জীবন চলতে হবে সেটা আমরা রাজি হই না।
এখন আমি মনে করি নিশ্চুপ না থেকে লড়তে হবে মুখের উপর শক্ত জবাব দিতে হবে চুপ করে রয়ে গেলাম মানে হেরে গেলাম কথাটা আসলে তাও না ।আত্মসম্মানের খাতিরে মানুষকে কিছু বলতে পারিনা তবে হ্যাঁ আমরা সবাই মিলে যদি নিজের একটা পজিশন তৈরি করতে পারি তাহলে ওইটা আমাদের নিজের পাওয়ার আর নিজে যেটা আপনি জানেন ওইটা আসলে কেউ নিতে পারবে না আপনার কাছ থেকে কেড়ে তাই নিজে কিছু করার চেষ্টা করি মানুষের পাশে দাঁড়াই সোজা পথ ধরে এগিয়ে যাই তাতে করে মাথা উঁচু করে বাঁচার মত বাঁচতে পারব আসলে কি জানেন বাঁচতে হলে জীবনে বাঁচার মত বাঁচতে হবে বেচে থেকে বাঁচতে হবে তাই বাস তেসি বিষয়টা এমন নয় ।