গতকালের তারিখ ছিল ২১ অক্টোবর। আমার ২৫ তম জন্মদিন। জীবনের অভিজ্ঞতার নতুন আরো একটি ধাপে পা দিলাম। স্কুল-কলেজ জীবনে গর্ব নিয়ে বন্ধুদের বলতাম আজকের এই দিনে আলফ্রেড নোবেল জন্মগ্রহণ করেছেন। আমিও এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছি। সেই দিনগুলো আর নাই। এখন ইচ্ছে করেই জন্মদিন এড়িয়ে যেতে চাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিবারই মনে করিয়ে দেয়।
যেহেতু জন্মদিন একটা শুভ দিন, তাই জন্মদিনের সূচনাটা একটা ভালো কাজ দিয়ে শুরু করতে চেয়েছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে দুটি ভালো কাজের কথা মাথায় আসে। একটি রক্তদান। আর অপরটি বৃক্ষরোপণ। গতবছরের জন্মদিনে রক্তদান করেছিলাম একটি ছোট শিশুকে। শিশুটি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। অনেক মায়াময়ী শিশু।
ছোট্ট শিশুটির বলা কয়েকটি বাক্য এখনো আমার কানে এসে ধরা দেয়। 'চাচ্চু আপনি জুস খেয়ে যাবেন কিন্তু।' এমন মায়াভরে বলেছিল যে, আমার চোখের কোনে পানি চলে আসে। শিশুটির বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। ডাক্তার বলেছিল এভাবে ১২ বছর পর্যন্ত রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর তার শরীরে রক্তকণিকা রক্ত তৈরি করতে সক্ষম হবে। কিন্তু একদিন তার মায়ের করা ফোনে কান্না শুনে বুঝতে পারি শিশুটি এজগতে আর নাই। খুব কষ্ট হলো।
জন্মদিন এলেই আমার সেই শিশুটির কথা কিভাবে যেনো মনে পড়ে যায়। আজকেও ইচ্ছা আছে রক্তদানের। রক্তদানের সুযোগ পাওয়া যাবে কি না, তার ঠিক নাই। তবে বৃক্ষরোপণের সুযোগ আমার আছে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা শেষে একটি চারা গাছ রোপণ করি।
আমার জীবনে একটি বছর ফুরিয়ে গেলো। খুব স্বাভাবিকভাবে এটাকে আমি গ্রহণ করি। তবে ইচ্ছে হয় ভালো কিছু করার। গতকালকের দিনটা যেন আমার আজকের দিনটার ক্ষতি করতে না পারে সেই জন্য আজকের দিনে একটি ভালো কাজ করা প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত একটি ভালো কাজ। আমি অসুস্থ হয়ে যাই কিন্তু প্রকৃতি সুস্থ থাক। জন্মদিনকে কেন্দ্র করে হোক ভালো কিছু।