যে ঘটনাটি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি এটা আমি, আমার দাদীর কাছ থেকে শুনেছি।
আমার দাদারা ছিলেন ৩ ভাই। বগুড়ার কলোনিতে নিজেদের পৈতৃক বাড়িতে তারা তাদের পরিবার নিয়ে যৌথভাবে বাস করতেন। তাদের বৃদ্ধ মা তাদের সাথে থাকতেন। ঘটনাটি ঘটে আমার বড় দাদার সাথে।
দাদারা যে বাড়িতে থাকতেন তার পশ্চিম-উত্তর দিকে টয়লেট ছিল, এর পাশেই ছিল এক বড়ই গাছ। বাড়িতে একটি মাত্র টয়লেট এবং বাসার সকল সদস্য তা ব্যবহার করার কারনে তা নোংরা হত। বড় দাদা প্রতিদিন ফজরের ওয়াক্তে উঠে টয়লেট পরিষ্কার করতেন। ঘটনাটি যেদিন ঘটে সেদিন ছিল পূর্নিমা। এটা আমার দাদীর খুব ভালোভাবে স্বরণ ছিলো। চাঁদের আলোয় চারদিক আলোকিত হয়ে ছিলো।হঠাত্ কোন কারনে দাদার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বাইরে তাকিয়ে দেখেন চারদিক ফর্সা হয়ে আছে। এটা চাঁদের আলোতে ফর্সা হয়েছিলো কিন্তু তিনি মনে করেছিলেন ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। তখন তিনি যা করলেন তা হলো টয়লেট পরিস্কার করার যন্ত্রপাতি পানি ও একটি হারিকেন নিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করতে গেলেন। তিনি ঘুমের ঘোরে থাকার কারনে তিনি বুঝতেই পারেননি তখনও ভোর হতে অনেক দেরি। টয়লেটের কাছাকাছি গিয়ে তিনি দেখেন তার মা (মানে আমার বরমা) টয়লেটের সামনে বসে আছে আর গোঙাচ্ছে।
তিনি বললেন মা এত রাতে এখানে কি কর?
তার মা বলল-
বাবা আমি টয়লেটে এসেছিলাম
ফেরার পথে পরে গেছি হারিকেনটা রেখে আমার কাছে এসে আমাকে ওঠাও । দাদা হারিকেন রেখে তার মার দিকে যেতে লাগলেন। হঠাত্ পেছনদিক থেকে তার মা তাকে ডাক দিল মানে আমার দাদার মা, এবং বলল-
কার সাথে কথা বলছিস?
আর এত রাতে টয়লেট পরিষ্কার করতে এসেছিস কেন?
কেবল রাত ৩ টা বাজে। তিনি পিছনেরর দিকে ঘুরে দেখেন তার মা হারিকেন হাতে দাঁড়িয়ে আছে।টয়লেটের দিকে তত্হ্মনাত্ ঘুরে দেখেন সেখানে কেউ নেই। সাথে সাথে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান।তার অনেক জ্বর আসে। ৩ দিন পর তার জ্বর কমে যায়। এরপর একজন কবিরাজ ডেকে আনা হয়।তিনি বাড়িতে ঢুকেই বলেন এখানে খারাপ একটা কিছু আছে। টয়লেটের পাশের বড়ইগাছই ওটার স্থান । সেদিন রাতে দাদার মা যদি দাদাকে না থামাতেন তাহলে জিনিসটার কাছে গেলেই দাদাকে কি করতেন তা বলা বাহুল্য ।
এই ছিলো আমার দাদার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ভয়ংকর ঘটনা।
Free image source - https://www.pexels.com