বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে,
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,
একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু।
_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কবিতাটি আমরা পড়েছি ক্লাস সেভেন / এইটের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের সারাংশ / সারমর্ম অংশে। পড়লেও আমরা অনেকেই এখনো এর সঠিক মর্মোদ্ধার করতে পারিনি।
ঘুরে বেড়াতে কে না ভালোবাসে বলুন! ঘুরে বেড়ানোর জন্য এখনো আমাদের বেশিরভাগেরই কিন্তু প্রথম পছন্দ বিদেশ বিভূঁইয়ের কোন নৈসর্গিক স্থান। কিন্তু নিজের দেশেও যে চোখে শান্তির পরশ বুলানো বা রোমাঞ্চে ভরা অনেক জায়গাই আছে, সেটা আমরা কেন ভুলে যাই? হাতের কাছে এমন জায়গা থাকতে কেন আমরা বাইরে যাবো? আগের নিজের দেশের সৌন্দর্য সুধা পান করি, তারপর নাহয় অন্য কোথাও যাওয়া যাবে। অবশ্য আমাদের দোষও নেই, অনেক জায়গা সম্পর্কেই আমরা অজ্ঞাত থেকে যাই। এর কারণ প্রচারের অভাব।
আজ আমি আমাদের দেশের এমনই কিছু জায়গার কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
ঠান্ডাছরি, চট্রগ্রাম
(ছবি : Mahinul Islam)
কি? নরওয়ে বা সুইজারল্যান্ড মনে হচ্ছে? নাহ! এটা আমাদের বাংলাদেশ।
বাঁশবাড়িয়া সী-বিচ, সীতাকুণ্ড
(ছবি : Nazakat)
এই ব্রীজটা ধরে সমুদ্রের ভেতরে অনেকটা ভেতরে যাওয়া যায়। শুনেছিলাম প্রায় আধ মাইল! রোমাঞ্চকর, তাই না? অবশ্যই ভাটার সময়ে যেতে হবে। সামনে একটা লাল পতাকা আছে, ওটা সতর্ক সংকেত। ওটার বাইরে যাওয়া নিষেধ।
সাতছড়ি, হবিগঞ্জ, সিলেট
(ছবি : Nazakat)
এর ভেতর দিয়ে হেঁটে পার হতে হবে। পারবেন তো? ভয় পাবেন না তো আবার?
নিকলি হাওর, কিশোরগঞ্জ
(ছবি : Nazakat)
হাওরের সৌন্দর্য কার না ভালো লাগে? যতদূর চোখ যায়, অবাধ জলরাশি। ঘুরে আসতে পারেন কিন্তু। এর বিশালতা আপনার মনে প্রশান্তি এনে দেবে।
রাতারগুল, সিলেট
(ছবি : Jhon Hunter)
নৌকা নিয়ে হারিয়ে যাওয়া যায় এখানে
(ছবি : Nazakat)
এই জায়গাটা সম্পর্কে অনেকেই জানেন। গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো... ইন্টারেস্টিং না? যারা নৌকাভ্রমণ ভালোবাসেন, তাদের জন্য আদর্শ।
অমিয়াখুম, থানচি, বান্দরবান
(ছবি : Nazakat)
নাফাখুম, থানচি, বান্দরবান
(ছবি : Nazakat)
সাতভাই খুম, থানচি, বান্দরবান
(ছবি : Saif Muktadir)
এদের সম্পর্কেও অনেকেই শুনেছেন। যেতে পারেন, তবে মাথায় রাখবেন পথ কিন্তু অত্যন্ত দুর্গম! কিন্তু একবার যেতে পারলে মনে হবে সমস্ত পরিশ্রম সার্থক। যদি যেতে চান, ট্র্যাকিংয়ের শারিরীক ও মানসিক প্রস্তুতি রাখবেন। ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমি নিজে গিয়েছিলাম কাজিনদের সাথে। আগেভাগে প্রস্তুতি না থাকায় কি বিপদে যে পড়েছিলাম... সে গল্প আরেকদিন হবে।
হালতি বিলের ডুবো সড়ক, পাটুল, নাটোর
(ছবি : Nazakat)
ভরা মৌসুমে সড়কটা পানিতে ডুবে যায়। এর উপর দিয়ে হাটবেন আর যেদিকেই চোখ যায় দেখবেন অথৈ পানি... কল্পনাও করতেও তো ভালো লাগে তাইনা?
ট্রি এডভেঞ্চার। ফটিকছড়ি, হাজারিখীল বাজার, চট্টগ্রাম
(ছবি : Nazakat)
সাবধানে!
(ছবি : Nazakat)
বাজার থেকে সোজা সামনে ১০ মিনিট হাঁটা পথে হাজারিখীল অভয়ারণ্য।
সাজেক ভ্যালি, খাগড়াছড়ি
(ছবি : Nazakat)
এখানে শুধুই মেঘেদের রাজত্ব
(ছবি : Adnan TheOutsider)
সাজেক ভ্যালি সম্পর্কে কিছু বলা বৃথা। সবাই জানেন এই অপরুপ জায়গাটি সম্পর্কে। শুধু বলবো, মেঘের কোলে কয়েকটা দিন কাটিয়ে আসতে চাইলে, মেঘের ছোঁয়া পেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন।
টাঙ্গুয়ার হাওর। তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট
(ছবি : Nazakat)
দম আটকানো সৌন্দর্যের জায়গা এই হাওর। গেলে সময় বা অর্থে কোনটারই অপচয় হবেনা - এইটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি।
তালের সাম্রাজ্য। ঘুগুডাঙা গ্রাম, নিয়ামতপুর উপজেলা, নওগা
(ছবি : Mahinul Islam)
শেষ করবো এক অখ্যাত জায়গা সম্পর্কে আপনাদের পরিচিতি দিয়ে। প্রায় ১ কিমি আঁকাবাঁকা রাস্তার দুধার জুড়ে শুধুই দেখা মিলবে সারি সারি তালগাছ। মনে হবে আপনি যেনো তালগাছের কোন এক সাম্রাজ্যে চলে এসেছেন।আর এ সাম্রাজ্যের অধিপতি গহের আলী। মহানুভব এ ব্যক্তি টি নওগাঁ জেলায় প্রায় ১২০০০ তালগাছ লাগিয়ে ছিলেন। পেশায় তিনি ছিলেন একজন ভিক্ষুক। তালগাছের চারা কেনার সামর্থ্য তার ছিলোনা, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালের আঁটি জোগাড় করতেন। সেই আঁটি লাগিয়ে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন তার সাম্রাজ্য। এ কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি ২০১০ সালে পরিবেশ পদকে ভূষিত হন।
এ রাস্তা ধরে কারো সাথে গল্প করতে করতে হাঁটতে ভালোই লাগবে, কি বলেন?
আজ এপর্যন্তই। অনুরোধ থাকবে যেখানেই যান, সেখানের পরিবেশ যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। পরিবেশ দূষণ হয় এমন কিছু করবেন না। এই দেশ আপনার, আমার। আমাদেরই এঁর যত্ন নিতে হবে।
সকলে ভালো থাকবেন, সতর্ক থাকবেন।
STAY HOME
STAY SAFE