এই করোনা মহামারির সময়ে সব চেয়ে কষ্টে দিন পার করছেন মধ্যবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষগুলো।যাদের এক দিন কাজ না করলে পরের দিন আর হাড়িতে ভাত রান্না হয় না।যারা চক্ষু লজ্জায় অন্যের কাছে নিজেদের অভাবের কথাটা বলতেও পারে না।মহামারি ঠেকাতে দেওয়া হচ্ছে মাঝে মাঝে করা লকডাউন। যার ফলে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের আয় কমে যাচ্ছে।তারা বাড়ীর বাইরে যেতে পারছে না।তাদের জীবনটা যেন জেলখার বন্দীদের মতো হয়ে গেছে।আমরা জানি মধ্যবিত্ত পরিবার দুই ধরনের। (১) উচ্চ মধ্যবিত্ত, (২) নিম্ন মধ্যবিত্ত। আমরা হলাম নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বাস করি।আমার বাবা একজন ভ্যান চালক। তিনি একা রোজগার করে আমার লেখাপড়া সহ সব ধরনের খরচ বহন করেন।গরিব হওয়া সত্যেও কখনও আমরা কারুর কাছে হাত পাতি নাই।আমার বাবা যদি এক দিন বাসায় থাকে তাহলে পরের দিন খাওয়ার মতো খাবার থাকে না।
করোনার কারণে যখন বিপর্যয় জীবন জীবিকা।তখন সরকার দিচ্ছে বার বার লকডাউন। যার ফলে আমার বাবার মতো হাজারও বাবার কাজ চলে যাচ্ছে।তাদের পরিবারগুলো ডুবে যাচ্ছে সাগরের অতল গভীরে।অভাবের কথা মানুষের কাছে বলাটাও যেন কেমন একটা বিষয়।গত এক সপ্তাহ হলো আমাদের জেলায় কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়েছে।কোনো প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না।বের হলে কঠোর ভাবে জিগানো হচ্ছে।বাজারের সকল অটো, ভ্যানগুলোর ট্রায়ারের লিক করে দেওয়া হচ্ছে।ভেঙে দিচ্ছে। এই সকল কারণে আজ ৪/৫ দিন হলো আমার আব্বু বাজারে যেতে পারে না।আর বাজারে না গেলে আমাদের কোনো আয় হয় না।এখন যেন পরিবারের অভাবটা খুব কাছ থেকে দেখতে পারছি।এখন বাবার কাছে টাকা চাইতেও আমার লজ্জা করে, কারণ আমি জানি আব্বুর কাজ নাই টাকা কই পাবে।
মাঝে মাঝে আমার আব্বু আমাকে বলে "বাবারে তোর বাপ একটা ভ্যান চালি তোর পড়াশুনা করাবে না সংসার চালাবে"।আমাদের তো আর কেউ সাহায্য করার মতো নাই।তখন নিজেকে মনে হয়। আমি যদি কিছু করতে পারতাম তাহলে আমার বাবার কষ্টটাকে দূর করে দিতে পারতাম।কিন্তু কি আর করার আমার তো এখনও পড়াশুনায় শেষ হয় নাই।আর করোনার কারণে এখন পড়াশুনাও বন্ধ রয়েছে।আজ প্রায় দুইটা বছর পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসায় বসে আছি।কোনো কাজও করি না।এই মহামারির সময়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা যেন পরিবারের একটা বোঝা হয়ে দারিয়েছে।তারা যেন পরিবারের কোনো বোঝা।
যানি না আমাদের মতো মানুষদের কষ্টটা কবে দূর হবে।কবে আমরা স্বাধীন ভাবে জীবন যাপন করতে পারব।কোনো দিন হয়ত নিজের ইচ্ছার জিনিসগুলো কিনতে বা পড়তে পারি না।কবে এমন দিন আসবে যখন নিজের ইচ্ছাগুলো পূরণ করতে পারব।বাবাকে কবে বলতে পারব,বাবা তোমাকে আর কাজ করতে হবে না।এখন এই পরিস্থিতির কারণে বাবার সামনে মাথা উচু করে দারিয়ে কিছু চাইতেও যেন লজ্জা বোধ করে। কারণ আমি যানি, বাবার কাছে টাকা নেই।তবুও যদি বলি ধার করে হলেও সেই জিনিসটা এনে দিবে।কিন্তু আমি তো আর ছোট না, সবই বুঝতে পারি। তাই না বলার চেষ্টটা বেশি করি।
আমাদের সরকার যদি লকডাউন দেওয়ার আগে গরিবদের কথা ভাবতো তাহলে হয়ত তাদের জন্য যতদিন লকডাউন থাকবে ততদিনের খাবার ঘরে পৌঁছে দিত।তাহলে হয়ত গরিবেরা আজ এতো কষ্টে থাকত না।এসি রুমে বসে ঘোষণা সবাই দিতে পারে।কিন্তু তার পেছনে থাকা মানুষগুলো কষ্ট কেউ দেখে না।কথাগুলো কেউ খারাপ দিকে নিবেন না।এটা আমার নিজের মনের কথা তাই বললাম।আমি কথাগুলো দ্বারা কোনো রাজনৈতিক চেতনাকে প্রকাশ করি নাই বরং এই মহামারির সময়ে মধ্যবিত্তরা কেমন আছে সেটা বোঝানোর চেষ্টটা করেছি।পেটে পাথর বেধে নিজের সম্মানকে ধরে রাখার আরেক নাম মধ্যবিত্ত পরিবার।