"কায়দা করে বেঁচে থাকো" -গতবছরের বইমেলায় কবি ইমরান মাহফুজের একটি কবিতার বই এর নাম এটি। আমাদের দেশের মানুষ তেমন একটা কবিতা পছন্দ করে না। কিন্তু কিছু কিছু কবিতায় এমন কিছু বাক্য থাকে, যা মানুষের মনে ঠিকই গেঁথে যায়। ঠিক এমনই একটি বাক্য হলো এটি। এই লাইনটুকু এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি দেয়ালেই এই গ্রাফিতিটির উপস্থিতি দেখা যাচ্চে।
গত পরশু এক বড় ভাই এর সাথে দেখা করতে টিএসসিতে গিয়েছিলাম। সেখানেই তিনি আমার এই ছবিটি তুলে দিয়েছিলেন। যদিও ছবি তোলার আগে আমি খেয়াল করিনি যে আমার পেছনে এত সুন্দর একটা গ্রাফিতি ফুটে আছে। পরে ছবিটা দেখার পর খেয়াল করলাম শুধু আমার পেছনের দেয়ালেই না, বরং ঢাবি ক্যাম্পাসের প্রায় সব দেয়ালেই এই গ্রাফিতিটি আঁকা আছে। এই কারণেই ঢাবি ক্যাম্পাসটা আমার খুব পছন্দের। প্রতিবার আসলেই কোনো না কোনো নতুন দেয়াল চিত্রের দেখা পায়।
আমার পাশে এখন যে ভদ্রলোকটিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ। উনার সাথে আমার পরিচয় প্রায় ৫-৬ বছর ধরেই আছে। যায় হোক, তিনি গত প্রায় ৫ মাস ধরে কোনো এক অজানা কারণে সকলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ডুব দিয়ে ছিলেন। কারো সাথেই তেমন কোনো যোগাযোগ রাখেন নি এই সময়টুকুতে।
কিন্তু এইবার ইদের আগের দিন রাতে হুট করে কোথায় থেকে যেন হাজির হয়ে জানালেন যে তিনি এমুহুর্তে খুলনায় আছেন। সেদিনই ইচ্ছে করছিল যেন এক দৌড়ে খুলনা চলে গিয়ে উনার সাথে দেখা করে আসি। কিন্তু সেই সুযোগ তো আর নেই। তাই অপেক্ষা করছিলাম কবে তিনি ঢাকায় আসবেন। কিন্তু বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয় নি। মাত্র ৪ দিন আগেই তিনি ঢাকায় এসেছেন। এবং আমিও দেখা মরার জন্য এক দৌড়ে উনার কাছে চলে গিয়েছিলাম।
ছবিতে ছোট যে পুতুলটা দেখা যাচ্ছে, তা আমার ভাতিজি ইনায়ার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস। যদিও তার সংগ্রহে আরো কিছু খেলনার জিনিস আছে, কিন্তু এটার প্রতি তার বিশেষ একটা টান আছে। এর নাম রাখা হয়েছে মিনি। ইনায়ার বয়স এখন প্রায় আড়াই বছর। আর মিনির বয়স প্রায় ২ বছর। ইনায়ার জন্মের কয়েক মাস পরেই মিনিকে ইনায়ার কাছে নিয়ে আসা হয়। আর সেই থেকেই ইনায়া মিনিকে নিজের কাছে আগলে রেখে দিয়েছে। মিনিকে সাথে নিয়েই সে খেলে, ঘুমায়। মোটকথা তারা দুইজন সারাক্ষণ একসাথেই থাকে।
আমি যখন ছবি তোলার জন্য ইনায়ার কাছে মিনিকে চাচ্ছিলাম, তখন ইনায়া কিছুতেই রাজী হচ্ছিল না। পরে অনেক রিকুয়েস্ট করার পর আমার হাতে মিনিকে তুলে দিয়েছিল সে। কিন্তু বিনিময়ে তাকে চিপস কিনে দিতে হয়েছে।
কোনো এক অদ্ভুত কারণে আমাদের মেসের সবাই হুট করে জিম করার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই মেসের দুইজন মেম্বার এলাকার এক জিমনেশিয়ামে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে সেখানে সময় দেয়। বাকিরাও ভর্তি হবো হবো এমন একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার কাছাকাছিই আছি। তবে আমাদের মেসের আরেকজন মেম্বার এই ফাঁকে চমৎকার একটা বুদ্ধি দিয়ে দিল। সে বলল, "সবাই মিলে এত টাকা দিয়ে জিমে ভর্তি না হয়ে বরং সেই টাকা দিয়ে নিজেরাই জিম করার জন্য ছোটখাটো কিছু টুলস কিনে ফেলা যেতে পারে। তাহলে আমরা সবাই ঘরে বসেই এন্ট্রি লেভেলের মুভমেন্টগুলো করে নিতে পারব।
বুদ্ধিটা খারাপ না। সবাই মিলেই একমত হয়ে গেলাম। সেদিন বিকেলে মার্কেটে গিয়েই ছোট এই দুইটা জিনিস কিনে নিয়ে আসলাম। এগুলো অবশ্য পুরানো জিনিস। নতুন কিনতে গেলে দাম অনেক বেশি পড়বে। তাই খুঁজে খুঁজে সেকেন্ড হ্যান্ড অর্থাৎ পুরানো জিনিসটাই কিনে নিয়ে আসলাম। একটা বুকডন দেয়ার জন্য, অন্যটা হাতের ব্যায়ামের জন্য। গত তিন দিন ধরে সবাই মিলে আপাতত ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করে যাচ্ছি। আর ফাঁকে ফাঁকে নতুন কেনা টুলসগুলোও ব্যাবহার করার চেষ্টা করছি।
এই ছবিটা এক সপ্তাহ আগের। কিছুদিন আগে বসুন্ধরা আই ব্লক থেকে ঘুরে আসার গল্প লিখেছিলাম না? এই ছবিটা সেদিনেরই তোলা। বসুন্ধরা থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশের ছোট একটা টং এর দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। তখন দেখি দোকানের পাশেই এই মহাশয় চুপি চুপি বসে আছেন। এমনিতেই সেদিনের পরিবেশ খুব মেঘাচ্ছন্ন ছিল। আর মেঘাচ্ছন্ন হলে মানুষের মনেও একটু আধটু মন খারাপ মন খারাপ টাইপড সিচুয়েশন তৈরি হয়ে যায়।
তবে মানুষের মনের অবস্থা আমরা বুঝতে পারলেও পশুপাখির মনের অবস্থা তো আমরা বুঝতে পারি না, তাই না? কিন্তু টং দোকানের পাশে বসে থাকা এই কুকুরটিকে দেখে মনে হচ্ছিল, সেও খুব মন খারাপ করে বসে আছে। সে তো আর মানুষের কথা বুঝে না, আমিও কুকুরের ভাষা বুঝি না। বুঝলে হয়তো তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে জেনে নিতে পারতাম মন খারাপ করার হেতু কী ছিল।
এইটা গতকাল বিকেলের ছবি। আমাদের বাসার নিচে নতুন একটা রেস্টুরেন্ট খোলা হয়েছে। কালকেই প্রথম দিন ছিল এটার। বিকেলে বের হওয়ার সময় গেইটের সামনে গিয়ে গরম গরম তেলে ভাজা পুরির ঘ্রান নাকে আসছিল। শুরুতে তো অবাক হয়ে গেলাম। আশেপাশে তো কোনো হোটেল বা রেস্তোরা নেই, তবুও এত সুন্দর ঘ্রান কোত্থেকে আসছে? পরে গেইট থেকে বের হয়ার পর দেখি হাতের বা পাশেই নতুন একটা রেস্টোরা! আর সেখানেই পুরি ভাঁজা হচ্চে। চোখের সামনে এরকম গরম গরম পুরি দেখলে কী আর লোভ সামলানো যায়? একদমই যায় না। আর সেজন্যই কোনো কিছু না ভেবে সামনের একটা চেয়ারে বসেই পুরির অর্ডার দিয়ে দিয়েছিলাম।