La Storia di un soldato (The story of a Soldier) গানটা প্রথম শুনেছিলাম ওয়েস্টার্ন "The good, the bad, the ugly" মুভিতে। গানটা এতই মনে ধরেছিল যে মুভি পজ করে ইউটিউবে ঢুকে পুরো গানটা খুঁজে বের করে শোনা শুরু করে দিয়েছিলাম। সেই থেকে আজ পর্যন্ত, প্রায় ৬-৭ বছর হয়ে গিয়েছে। গানটা এখনো আমার প্লে লিস্টে রয়ে গেছে।
(Screen Shot From Youtube. "The Good, the Bad and the Ugly" Movie Clips."
"All hope seems gone, so soldier march on to die." অথবা "How ends the story, whose is the glory, Ask if we dare our comrades out there who sleep." এই লাইনগুলো চমৎকার। যুদ্ধের পর যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া সোলজারদের জীবনের গল্পগুলো যেন এই গানের ছোট ছোট কয়েকটা শন্দ আর বাক্যে চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷
সকাল থেকেই ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির দিনের সাথে গানের অদ্ভুত একটা সংযোগ আছে। অফিসের কাজের ফাঁকে হালকা ভলিউমে ঠান্ডা মেজাজের গান শুনলে অদ্ভুত এক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এই অনুভূতিগুলো লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না। অবশ্য একেবারেই যে সম্ভব না, তাও না। ভাল কোনো লেখক হলে ঠিকই শব্দের মাধ্যমে তিনি সেই অনুভূতিগুলোকে লিখে প্রকাশ করতে পারতেন। যেমনটা বিভূতিভূষণ তার লেখনিতে গ্রাম বাংলার প্রকৃতির রূপ তুলে ধরেছিলেন পথের পাঁচালি কিংবা আরণ্যক উপন্যাসে। অথবা সমরেশ মজুমদার তুলে ধরতেন উনার উপন্যাসগুলোতে।
যায় হোক, অফিসের কাজের প্রেসারে গত কিছুদিন ধরে খুব বাজে অবস্থা চলছে। সফটওয়্যার আপডেটের কাজ চলছে। যে কারণে গত কয়েক বছরের যত হার্ডকপির ডাটা আছে, সবকিছু সফটওয়্যারে এন্ট্রি দিতে হচ্ছে। যদিও কাজটা খুব কঠিন কোনো বিষয় না। কিন্তু খুব সময় দিতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হল আমি কোথাও বেশিক্ষণ একটানা বসে থাকতে পারি না। অথচ সেই আমাকেই ঘন্টার পর ঘন্টা গত কিছুদিন ধরে ডেস্কে ল্যাপটপের সামনে বসে ডাটা এন্ট্রির কাজ করে যেতে হচ্ছে।
আর এই কঠিন কাজটা করার সময়েই কানে হেডফোন লাগিয়ে দেশ বিদেশের নানা রকমের গান শুনে নিজেকে কিছুটা সতেজ রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তার উপর আজকে আবার একটু বৃষ্টিস্নাত দিন৷ হেডফোনে একটার পর একটা গান বেজে যাচ্ছে আর সময়গুলোও যেন খুব দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
ছোটবেলায় বৃষ্টির দিনগুলোতে খুব আলসেমি লাগতো স্কুলে বসে বসে বোরিং ক্লাস করতে৷ শুধু অপেক্ষায় থাকতাম কখন ছুটির ঘন্টা বাজবে আর এক দৌড়ে ক্লাস থেকে ছুটে বের হয়ে খেলার মাঠে ফুটবল নিয়ে চলে যবো৷ বিশেষ করে টিফিনের পরের শেষ ৩ ঘন্টা৷ সময়গুলো যেন কাটতেই চায়তো না। কিছুক্ষণ পর পর হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে হিসেব নিকেশ করে বের করতাম যে আর কতটা সময় বাকি।
বৃষ্টির দিনের সকালটাও অন্যরকম ছিল তখন। কাথা একটা গায়ে জড়িয়ে চুপচাপ ঘুমের ভান ধরে শুয়ে থাকতাম। স্কুলে যেতে ইচ্ছে হতো না। কিন্তু যতই নাটক করি না কেন, বাবা-মায়ের ধমক কিংবা পিটুনি খেয়ে শেষ পর্যন্ত ঠিকই মন খারাপ করে ছাতা একটা মাথায় নিয়ে স্কুলের দিকে ছুটে চলে যেতে হতো।
এখন অবশ্য কেউ বকা কিংবা পিটুনি দেয়ার মতো নেই। তবুও সকালে ঘুম থেকে উঠে সবকিছু রেডি করে ঠিকই নিজে নিজে অফিসে চলে আসতে হয়। সারাদিন বোরিং সব অফিস ওয়ার্ক করা আর একটু পর পর ঘড়িতে চোখ রেখে সময় দেখতে দেখতেই কিভাবে যেন সারাদিন পার হয়ে যায়৷ এভাবেই একটার পর একটা দিন কেটে যাচ্ছে৷
মাঝে মাঝে এইসব বোরিং দিনগুলো বাদ দিয়ে ব্যাতিক্রম কিছু করতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু সবসময় তো সেই সুযোগ থাকে না। গত বছরের অক্টোবরের দিকে বান্দরবানের মারায়ং তং ঘুরতে গিয়েছিলাম। এরপর আর কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয় নি। এই বছরে অবশ্য দুইবার বান্দরবান যাওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটা কাজের উদ্দেশ্যে৷ ঘুরাঘুরির জন্য না৷ সেজন্য মনটাও কেমন উদাস হয়ে আছে কিছুদিন ধরে৷ সুযোগ পেলে হয়তো কিছুদিনের মাঝেই দূরে কোথাও চলে যাবো ২-১ দিনের জন্য৷ রুটিন ওয়ার্কের ফাঁকে ফাঁকে মাঝে মাঝে নিজেকেও কিছুটা সময় দেয়া উচিত, তাই না?
লিখতে বসলে আজগুবি কত কথা যে লেখার মাধ্যমে চলে আসে, সেটা নিজের লেখা নিজেই পড়ার সময় বুঝতে পারি। আগে নিয়মিত লিখতাম৷ ভাল লাগতো। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ হয়ে উঠে না। আগে একটার পর একটা বই পড়তে পারতাম, এখন সেই ধৈর্য্যও নাই। নিজেকে কেমন যেন অল্প ধৈর্য্যের অধিকারী বলে মনে হয়। কিছুদিন আগে একটা বই হাতে নিয়েছিলাম। কয়েক পাতা পড়ার পর আর পড়া হয় নি। এমন না যে বইটা ইন্টারেস্টিং না। কিন্তু ঐ যে, বেশিক্ষণ বই হাতে নিয়ে এক নাগাড়ে মনোনিবেশ করে রাখার মতো ধৈর্য্য এখন আর আমার নেই। হারিয়ে গেছে। লেখার ক্ষেত্রেও সেইম। মাঝে মাঝে লিখতে বসি। কিন্তু কয়েক লাইন লেখার পর লেখার আগ্রহ চলে যায়। আমার নোট বুকে ২-৩ লাইনের বহু লেখা জমা হয়ে আছে। মাঝে মাঝে সুযোগ পেলে সেই লেখাগুলো পড়ি। ভালই লাগে। কিন্তু লেখাগুলো লম্বা করতে পারি না।
যায় হোক, অফিসের কাজের ফাঁকে কিছুটা সময় বিরতি ছিল। অন্য সময় এই বিরতিতে বাইরে গিয়ে টুকটাক নাস্তা করি, চা খাই৷ কিন্তু আজ বৃষ্টির কারণে বাইরে বের হতে পারি নি। সেই সুযোগ নোটবুকটা বের করে মনের কিছু কথা লিখতে বসেছিলাম। বিরতি শেষ। এখন আবার সেই পুরানো বোরিং কাজে ফিরে যেতে হচ্ছে...