অনলাইন দুনিয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে বহুল আলোচিত টপিক হলো ChatGPT বা আর্টিফিশিয়াল ইন্ট্যালিজেন্স৷ যদিও এমন না যে এই প্রথম আমরা কোনো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সাথে পরিচিত হয়েছি। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন প্রোগ্রামার ও রিসার্চাররা নানা ধরনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সাথে আমাদের পরিচয় কয়িয়ে দিচ্ছে। সেগুলোর মাঝে মিড জার্নি অন্যতম।
Source: Created by Midjourney AI.
মিডজার্নি গত বছরই ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। নিজের পছন্দমতো ও চাহিদামতো কিওয়ার্ডস বা ডিটেইলস উল্লেখ করেই ছবি তৈরি করা যায়। এতদিন যেই কাজটা আর্টিস্টরা করতো, এখন সেই কাজটা একটা AI করে ফেলতে পারে। যদিও এই AI এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন মানুষের আঙুল এখনো সে ঠিক মতো আঁকতে পারে না। ভবিষ্যতে হয়তো সেইটাও করতে পারবে৷ এছাড়া বাকি সব মোটামুটি ঠিক ঠাক। ঠিক মতো কমান্ড করতে পারলে মিডজার্নির সাহায্যে যে কোনো ধরনের ছবি, গ্রাফিক্স তৈরি করে নেয়া সম্ভব।
Source: Created by Midjourney AI.
তবে একটা মজার বিষয়ও আছে। আগে আর্টিস্টরা নিজেদের কল্পনার জগৎকে রঙ তুলির মাধ্যমে কাগজের পাতায় দৃশ্যমান করে ফেলতে পারতো। আর এখন আমরা যে কেউই মিডজার্নির মাধ্যমে আমাদের কল্পনার জগৎকে সকলের সামনে দৃশ্যমান করতে পারবো। ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় না?
যায় হোক, আজকের আলোচনার টপিক ChatGPT তে আসা যাক। ChatGPT এর কথা প্রথম পড়েছিলাম কয়েক মাস আগের কোনো এক জার্নালে৷ সেখানে বলা হয়েছিল যে খুব দ্রুতই মানুষের জায়গা দখল করতে যাচ্ছে AI. কথাটা যদিও আমার ভাল লাগে নি। কারণ আমার মতে মানুষের হাতে তৈরি প্রযুক্তি কখনোই মানুষের স্থান দখল করতে পারবে না৷ তবে এটা সত্যি যে এইসব AI মানুষের কাজকে আরো সহজ ও দ্রুত করে তুলবে৷
গত কিছুদিন ধরে ChatGPT নিয়ে টুকটাক ঘাটাঘাটি করছিলাম। এবং আমি ইমপ্রেসড। আগে কোনো তথ্য জানার জন্য গুগলে ঘাটাঘাটি করতে হতো। যেটা বেশ খানিকটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। তবে ChatGPT তে সেইসব তথ্য মুহুর্তের মাঝেই পাওয়া সম্ভব। তারমানে এই না যে এত দিনে গুগলের বিকল্প কিছু চলে এসেছে। ডিটেইলস রিসার্চের জন্য গুগলের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। তবে যে কোনো বিষয়ে বেসিক কিছু ইনফরমেশনের জন্য ChatGPT আসলেই বেস্ট পার্ফরমেন্স দেখিয়েছে।
এবার আসা যাক ChatGPT এর মূল ক্ষমতায়, যা নিয়ে পুরো বিশ্বে আলোচনা হচ্ছে। ChatGPT এর মূল ক্ষমতা হল এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যার মাধ্যমে আপনার দেয়া কমান্ড অনুসারে যে কোনো ধরনের ব্লগ, আর্টিকেল, প্রেজেন্টেশন, ইমেইল কিংবা যে কোনো কিছু সে লিখে দিতে পারবে৷ এর জন্য প্রয়োজন শুধু কিছু কিওয়ার্ডস। এটা সেইসব কিওয়ার্ডস জেনারেট করে আপনার পছন্দ মতো একটা লেখা তৈরি করে দিতে পারবে৷
যেমন গতকাল আমি একটা আর্টিকেল লিখতে চেয়েছিলাম ট্রাভেল রিলেটেড। আমি জাস্ট কিছু কিওয়ার্ডস উল্লেখ করে ChatGPT কে বলেছিলাম একটা আর্টিকেল লিখে দেয়ার জন্য। এবং এর ফলাফল চমকপ্রদ। আমি যেমনটা চেয়েছিলাম, ঠিক তেমনটাই লিখে দিয়েছে এটি। শুধু তাই না, এর পাশাপাশি সে নিজের মতো করে আমার কিওয়ার্ডস এর সাথে রিলেটেড, এমন কিছু বাক্যও নিজে থেকে লিখে দিয়েছে।
এই যে একটা AI নিজে থেকেই বুঝতে পারছে যে কোন টপিকের সাথে কোন টপিক যাবে কিংবা কিভাবে লিখলে একটা লেখা সুন্দর হবে, এইটা অবাক হওয়ার মতো না? মানুষের আবিষ্কৃত প্রযুক্তিগুলোর মাঝে নিঃসন্দেহে এইটাও অন্যতম একটা আবিষ্কার। কারণ এখানে এই AI মানুষের চিন্তাধারার সাথে মিল রেখে নিজে থেকেই কন্টেন্ট তৈরি করতে পারে।
শুধু তাই না, ChatGPT গল্প লিখতে পারে, কবিতা লিখতে পারে, এমনকি গানের লিরিক্সও লিখতে পারে৷ আমার এক বন্ধু স্পোর্টস রিলেটেড একটা থিম সং লিখে দিতে বলেছিল, এবং এই ChatGPT অসাধারণ একটা থিম সং লিখে দিয়েছিল, যা দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে ভাবছিলাম, "এও কি সম্ভব?"
ChatGPT এর এত এত কার্যক্ষমতা দেখে অবাক হলেও আমি এখনো বিশ্বাস করি যে মানুষের স্থান কখনোই AI এর পক্ষে নেয়া সম্ভব না। কারণ এইসব AI গুলোর ক্ষমতা মানুষ প্রদত্তই। মানুষ তাকে যেভাবে প্রোগ্রামিং করায়, সে ঠিক সেভাবেই আউটপুট দেয়।
তবে এখানে একটা মজার কথা বলি। ChatGPT তো কোনো মানুষ না। শুধুমাত্র একটা AI. অথচ আমি লেখার সময় এটিকে বার বার "সে, তাকে" হিসেবে সম্বোধন করছি। অর্থাৎ ভুলের বশে বারবার মানুষের মতোই তাকে সম্বোধন করে যাচ্ছি। এইটা যে ভুল, আমি ভালই বুঝতে পারছি। কিন্তু বারবার সেইম ভুল হচ্ছে। তারমানে কি আমার অবচেতন মন এটিকে মানুষের সমকক্ষ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে? হতেই পারে...