সবুজ তার বাবা-মার ছোট সন্তান। তার তিনভাই। তারা সবাই লেখাপড়া করে যার যার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। সবুজ, ছোটকাল থেকেই লেখাপড়ায় ভীষণ অমনোযোগী ছিল। তার বড় ভাইরা তাকে লেখাপড়ার ব্যাপারে অনেক তাগিদ দিত। কিন্তু সে তার বড়ভাইদের কোনো কথা শুনত না। নিজের ইচ্ছে মতো চলত। তাই তার বড় ভাইরা তাকে আর দেখতে পারত না। সে তার লেখাপড়ার জন্য তার বাবার কাছে যা যা আবদার করেছে তার বাবা তাকে তাই তাই দিয়েছে। কিন্তু তবুও সে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করত না। বাবার কাছ থেকে প্রাইভেটের টাকা লাগবে একথা বলে সে টাকা নিয়ে, বাবাকে না জানিয়ে সে বন্ধুদের সাথে বাজে পথে সে টাকা ব্যয় করত। এভাবে সে দুইবার উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষা দেয় এবং দুবারই ফেল কবে। তারপর একদিন তার বাবা সবুজকে জিজ্ঞাসা করলঃ তুই কি করতে চাস? লেখাপড়া কি তর করতে ভালো লাগে না?
তারপর সবুজ বললঃ না, লেখাপড়া আমার আর ভালো লাগে না। তুমি আমাকে কিছু টাকা দেও সে টাকা দিয়ে আমি ব্যবসা শুরু করব। এ কথা শুনার পর তার বাবা মনে মনে অনেক কষ্ট পেলেন। তার ছোট ছেলে বাদে সব ছেলেই প্রতিষ্ঠিত, তাই তিনি তার মৃত্যুর আগে সবুজ যেন প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ায় তা দেখে যেতে চাইতেন। কারন তিনি জানতেন তিনি মারা গেলে তার বড় ছেলেরা সবুজকে দেখবে না।
জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি দেখে যেতে চান যে তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছোট ছেলে কিভাবে চলবে, এই চিন্তা মাথায় রেখে তার ছেলের কথা মতো, সবুজকে একটি কাপড়ের ব্যবসা দাড় করিয়ে দেন। কিন্তু সংসারে সবুজের কোনো টাকা দেয়া লাগত না, তার বাবা তার নিজের টাকা দিয়ে ঘরের বাজার, কারেন্ট বিল দিত। তিনি চাইতেন তার ছেলে তার ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমাক। তিনি, তার ছোট ছেলের দোকান থেকে কিছু কিনতে গেলেও উনার নিজের টাকা দিয়ে কিনতেন। সবুজ তার বাবার থেকে টাকা নিতে চাইত না, কিন্তু তার বাবা বলত, "ব্যবসা ত ব্যবসাই।"- একথা বলে ছেলেকে জোর করে টাকা দিয়ে আসতেন।
সবুজ ব্যবসা করে প্রতিদিন যে টাকা আয় করত তার সবটুকু সে বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা দিয়ে খরচ করে ফেলত। সে ভাবত তার বাবাত আছেই তার কোনো চিন্তা নেই। হঠাৎ একদিন তার বাবা ব্রেন-স্টোক করে মারা যায়। তার বড় ভাইরা ত তার সাথে আগে থেকেই কথা বলে না। তার মাথার উপর যেন বাজ ভেঙে পড়ল। তার চোখের সামনে জীবনের সব বাস্তবতা ভেসে উঠল। তার বাবা আগে প্রায়ই তাকে বলতঃ বাস্তবতা অনেক কঠিন বাবা! কিন্তু সে তার বাবার সে কথা তখন গুরুত্ব দিত না। আজ প্রায়ই তার বাবার বলা এ কথা তার মনে পরে। এখন তার সামনে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার লড়াই, নিজের সংসারের হাল নিজের ধরার লড়াই। সে তার আগের সব বাজে স্বভাব বাদ দিয়ে, নিজের প্রচুর পরিশ্রম মাধ্যমে নতুনভাবে তার জীবন শুরু করে এবং সে তার বাবার দোয়ায় ব্যবসায় ধীরে ধীরে সফল হতে থাকে।
এই ছোট একটি গল্পের মাধ্যমে আমি বুঝাতে চেয়েছি যে আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ আছে যারা লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীনভাবে জীবনে চলতে থাকে। এই জিনিসটা বেশি ঘটে কিছু বড়লোক শ্রেণির সন্তানদের সাথে। তারা কেউ কেউ মনে করে আমার বাবা ত আছে...আমার জীবন এভাবেই চলতে থাকবে। জীবন নিয়ে ভাবার সময় তাদের কাছে নেই। একবার কি চিন্তা করে দেখেছেন সবুজের বাবা যদি সবুজকে একটি ব্যবসা দাড় করিয়ে দিয়ে না যেতেন তাহলে সবুজের আজ কি করুণ অবস্থা হত! মহান সৃষ্টিকর্তা সবাইকে কিছু না কিছু প্রতিভা দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। আমাদের শুধু সেই প্রতিভাটা খুজে বের করে। সেই প্রতিভা অনুযায়ী একটা লক্ষ ঠিক করে সে অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া। তা না হলে জীবন নৌকা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কেউই বলতে পারবে না।